এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – পর্ব ৩

বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – পর্ব ৩



সব কিছুই ঠিকঠাক চলছে কিন্তু ইরার মনে কেমন যেন একটা খটকা। খুব একটা ভালো লাগে না অবিনাশ আর ওর দিদিকে। সব সময় আমরা এই, আমরা সেই। তাছাড়া পন নিচ্ছে না বলে কত গর্ব। দিদির কথাই হচ্ছে – দেখুন আমরা তো কোনো কিছু চাইছি না, একটাই দাবি নীরা বিয়ের দিন হলুদ বেনারসি পড়বে। আমরা তো কিছুই নিইনি। আমাদের যে বরযাত্রী আসবে তাদের যেন আপ্যায়নের কোনো ত্রুটি না থাকে। মেনুতে এই চলবে না সেই চলবে না। বিয়ে সবাই বসে দেখবে তার ব্যবস্থা থাকতে হবে। যেন বরযাত্রী দাঁড়িয়ে আছে আর কনের বাড়ির লোক বসে বিয়ে দেখছে এমন না হয়। হাতবাঁধা যাবে না। তাছাড়া বর ঠকানো ওসব অসভ্যতামি যেন না হয়।লগ্ন ৯.৩০ এ ৯ তা নাগাদ বর যাবে আর একেবারে কিছুক্ষন পর বিয়ের পিঁড়িতে বসবে। এমন হাজার ফিরিস্তি। নীরার মায়ের যুক্তি হলো বলবে না – এমন ছেলে কোটিতে একটা হয়। সোমেস্বরবাবু কিছু বলেন না। খানিকটা এখানে বিয়ে দিয়ে ঠিক করছেন না ভুল – ধিদ্বায় রয়েছেন।

ইরা বরাবরই মিশুকে। অবিনাশ যেদিন প্রথম ফোন করেছিল সেদিন নীরা দু চার কথা বলার পরেই ইরা ফোন ধরে। ইরা অবিনাশকে জানায় সে অবিনাশকে জামাইবাবু না বলে দাদাভাই আর তুমি বলবে। অবিনাশ জানিয়েছিল জামাইবাবুটাই ভালো – দাদাভাই তো লোকে দাদাকে বলে। ওর দিদি আবার তুমি তুমি বলা পছন্দ করে না। তাছাড়া দুচার কথা বলার পর অবিনাশ ইরাকে জানিয়েছিল সে প্রয়োজনের তুলনায় বড্ডো বেশি বাজে কথা বলে। ইরা বেশি কথা বলে ঠিক তবে অপ্রয়োজনীয় কথা বলে নি কিছুই। খুব খারাপ লেগেছিলো ইরার। নীরার খারাপ লেগেছিলো কিন্তু কি বলবে ও?মুখটা কালো হয়ে গিয়েছিলো। বোনকে বড্ডো বেশি ভালোবাসে। আর তাকে অবিনাশ এমন বললো। নীরা বোনকে বোঝালো সামনাসামনি তো কথা হয়নি তাই ভুল বুঝেছে। কিন্তু সত্যিই কি তাই ? প্রশ্ন জাগলো ইরার !  এই করেই কাটছে দিন। সপ্তাহে ২ – ৩ দিন কথা বলে অবিনাশ। দিদি চায় না রোজ রোজ বিয়ের আগে এইভাবে মেলামেশা হোক ভাই আর ভাইয়ের বৌয়ের। অবিনাশ দিদির বড় বাধ্য। ইরা নীরাকে বলেই দিয়েছে দিদি তোর কপাল পুড়লো। বিয়েতে না করে দে। কিন্তু নীরার এত জোর আছে কি ? এত কান্ড করে বিয়ে হচ্ছে তাছাড়া এত ছোট খাটো ব্যাপারে না করবে ? সোমেস্বরবাবুকেও ইরা জানিয়েছে কিন্তু অতসীদেবীর যুক্তি ইরা ছোট মেয়ে ও কি বোঝে?

 

বিয়ের আর ১ মাস বাকি। নেমতন্ন প্রায় সারা হয়ে গেছে। বেশিরভাগটাই ফোনেই সেরেছেন। নিমন্ত্রিত অতিথিরাও জানিয়েছেন এটাই ভালো একা মানুষ সব জায়গায় যাবেন কি করে ? এদিকে প্রকাশবাবুও তাঁর স্ত্রী যথাসম্ভব সাহায্য করছেন। একেবারে ছেলের মতোই পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিয়ের সমস্ত কাজে তিনিই সাহায্য করছেন। এমনি এক দিনে সীমার ভাই ধ্রুব সীমাদের বাড়িতে এলো। সে এত কথা জানে না। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার, খেলা আর সাহিত্য চর্চা নিয়েই থাকে। অনেকবার বলেও লাভ হয়নি আপাতত বিয়েতে মন নেই। চাকরি পেয়েই সে আমেরিকাতে চলে গিয়েছিলো।বছরে ১ বার আসে। তবে এবার বরাবরের জন্যই দেশে ফিরে এসেছে। দেখতে বেশ ভালোইমুখ দেখলেই বোঝা যায় কতটা ব্রিলিয়ান্ট। তবে ভীষণ স্মার্ট। দেখেই প্রেমে পড়া যায়। । বয়স আন্দাজ ২৮-২৯ হবে।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

নীরার এইসব কিছুই জানে না। সীমাদের বাড়িতে দুই বোনই এলো বিকেলবেলায়। সীমা ওর ভাইকে ডাকলো পরিচয় করতে। সীমা প্রাথমিক পরিচয় করিয়ে চা আনতে গেলো। নীরা নমস্কার বলে একবার তাকিয়েই চোখ নামিয়ে নিলো। যেমন সবার সাথে করে। আর বিপরীত ইরা। সে হাত বাড়িয়ে দিয়ে – হাই , আমি ইরা, তোমার নাম? সরি আপনি? উত্তর এলো আমি ধ্রুব, আর সরি কেন? তুমিটাই ভালো, কাছের কাছের। আপনি মানেই বড্ডো গম্ভীর। সঙ্গে সঙ্গে ইরা লাফিয়ে বলে উঠলো – তাই না। এটা আমার মনে হয়। কিন্তু অনেকে…….. বলেই চুপ করে গেলো। মীরার মুখটা শুকিয়ে গেলো। ইরা বুঝতে পেরে বললো দূর কিছু না ছাড়ো।

 

খানিকক্ষণ ইরা ধ্রুবর আমেরিকাতে থাকা নিয়ে প্রশ্ন করলো। জানতে চাইল ওখানকার সব কিছু। এই করতে করতেই সীমা চা নিয়ে এলো। সীমা সকলকে চা দিয়ে নিজেও চা নিয়ে সোফায় বসলো। নীরাকে শাড়ী নিয়ে কিছু একটা জিজ্ঞাসা করছিলো। এদিকে ইরা আর ধ্রুব পাশাপাশি বসেছিল। হঠাৎ ইরা ধ্রুবর কানের কাছে চুপি চুপি বললো- চান্স নেই, বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। এতক্ষন আনমনেই নীরার মুখের দিকে একভাবে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলো ধ্রুব।   চমকে গিয়ে মুখ নামিয়ে নিলো। সাথেই নিজেকে সামলে বললো -ইসসস ব্যাড লাক।

 

ইরা – কোনো চান্স নেই – যদি কেঁচিয়ে দিতে পারো তাহলে কিছু হলেও হতে পারে। ধ্রুব বরাবরই স্পোর্টিং। ইয়ার্কি নিতে জানে। ইরার সাথে মিলেছে ভালো। ইরাকে সে বললো- এত ঝামেলার দরকার নেই। তুমি তো আছো।

ইরা সঙ্গে সঙ্গে ধুবকে বললো -একদম ভাববে না। আমায় বয়ফ্রেইন্ড আছে।

ধ্রুব আবার বললো – যাহ আমার আর বিয়েটা হলো না।

কথাগুলো এত চুপিচুপি হলো যে ধ্রুব আর ইরা ছাড়া কেউ জানলো না।

ইরা কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো এমন সময় সীমা ভাইকে বললো।জানিস সামনের মাসে নীরার বিয়ে। তোর অবিনাশকে মনে পরে, তোর দাদাভাইয়ের। .., সঙ্গে সঙ্গে ধ্রুব জানালো –  হুম মনে আছে। সীমা বললো অবিনাশের সঙ্গে। ধ্রুব শুধু বললো ওহ।

 

ইরা ধ্রুবকে বললো তোমাকে কিন্তু দিদির বিয়েতে থাকতেই হবে। নাহলে তোমার সাথে আর কথা নেই। ধ্রুব জানালো এখানে একমাস কি করে থাকবে? তবে চেষ্টা করবে বিয়ের আগে আসার। চেষ্টা করলে হবে না আসতেই হবে জোর ধরলো ইরা। সম্মতি জানলো ধ্রুব। কিন্তু যাকে নিয়ে এতকিছু সেই নীরা বড্ডো চুপচাপ। লক্ষ্য করলো ধ্রুব।এদিকে চা খাওয়া শেষ হলে সীমা বললো -তোরা বসে গল্প কর। আমি পটেটো প্যানকেক বানাচ্ছি খেয়ে যাবি। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে নীরা আপত্তি জানিয়ে বললো আমার একটা জরুরি কাজ আছে দিদি। পরে এসে খাবো, আজ যাই। সীমা ধমকের সুরে বললো – চুপ করে বোস। খেয়ে তারপর যাবি। তোর কাজ মানে তো এখন ফেসবুকে গল্প পড়া। নীরা সাদামাটা কাজ চালাবার মতো রান্না জানে, রান্না, খাওয়া নিয়ে তার এমন কিছু আগ্রহ নেই। তবে এদিকে বড্ডো ঝোঁক আছে ইরার। নতুন নতুন রেসিপি খুব ভালোবাসে ও। সীমা নতুন কিছু বানাচ্ছে শুনে সে ছুটলো সীমার সাথে রান্নাঘরে। সীমা নীরা আর ধ্রুবকে বললো তোরা একটু গল্প কর আমি এখুনি আসছি। নীরা পড়লো অস্বস্তিতে। ধ্রুব বুঝতে পারছিলো। পরিবেশটা হালকা করার জন্য সে বললো বিয়ের সব প্রস্তুতি সারা হয়ে গেছে। নীরা খুব শান্তভাবে মুখ নামিয়ে বললো – না, এখনো সব কাজ হয়নি। বাবা তো একা মানুষ। প্রকাশদা সীমাদি এইভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে বলেও অনেক সুবিধা হয়েছে। নাহলে যে কি হতো। ধ্রুব হাসলো।

ধ্রুব গল্প পড়তে খুব ভালোবাসে। আগে সারাদিন বই মুখে বসে থাকতো। ইদানিং ফেসবুকে অনেক গল্পের পেজ হয়েছে সেগুলো পড়ে। কৌতুকবসে জিজ্ঞাসা করলো কি বই পরে নীরা। নীরা বললো তেমন কিছু নয়, লাইব্রেরিতে যে গল্প বই পায় তাই পরে। আর ফেসবুকেও অনেক গল্প পায়-সেখান থেকেও পরে।খুব উৎসাহের সঙ্গে ধ্রুব জানালো সেও পরে। নীরাকে বললো ‘স্বপ্নের চোখ ‘ বলে একটা পেজ আছে। কে গল্প লেখে জানে না। কিন্তু অসাধারণ লেখা। ধ্রুব জাস্ট লেখক বা লেখিকার প্রেমে পরে গেছে। কেন জানি না আমার মনে হয় কোনো মেয়ে লেখে গল্পগুলো। অবশ্যই ভুল হতে পারি। তবে এতসুন্দর লেখে মনে হয় চোখের সামনে ভাসছে চরিত্রগুলো। নীরা একটু সোজা হয়ে বসলো। চোখে একটা উত্তেজনা। ভালোলাগা ,আনন্দ মেশানো। ধ্রুব হটাৎ বলে উঠলো পড়েছো? নীরা বললো না। পড়ো একবার আশা করি ভালো লাগবে। এরপর ধ্রুব আনমনেই ফেসবুক খুলে – বললো এখনো আপডেট করলো না। দূর কি যে হলো আজ। এমন তো করে না। সীমা,ইরা প্লেট সাজিয়ে হাজির হলো। কথা তখনকার মতো সমাপ্ত হলো।

 

আগের পর্ব –      বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – পর্ব  ২

 

পরের পর্ব – বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা – পর্ব ৪

 

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!