এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বনধের সমর্থনে সভা করে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

বনধের সমর্থনে সভা করে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

ইসলামপুর ছাত্র মৃত্যুর লজ্জাজনক ঘটনার প্রতিবাদ ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলা বনধের ডাক দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। আর এই বনধ রোধে সমস্ত রকম চেষ্টা করবে রাজ্যসরকার। ১৩ দিনের বিদেশ সফরে যাওয়ার আগে রাজ্যের বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রীগোষ্ঠী তৈরি করে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইসলামপুরের হিংসাত্মক ঘটনার জন্য রাজ্যসরকার কোনঠাসা অবস্থা থেকে বেরোতে তড়িঘড়ি করে মন্ত্রীসভার বৈঠক ডাকলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পার্থ বাবুকেই মন্ত্রীসভার প্রধানের দায়িত্বটি দিয়ে গিয়েছেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বিজেপির বনধকে কীভাবে ব্যর্থ করা যায় তা নিয়ে। আগামীকালে বিজেপির ডাকা বনধে রাজ্যের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে যাবতীয় প্রয়াস করবে রাজ্য সরকার,নবান্নে বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই জানিয়ে দিলেন পার্থ বাবু।

তবে বনধকে সফল করার সব চেষ্টাই করবে বিজেপি। বনধ আটকানোর তৃণমূল কেউ নয়,একটি বনধকে সফল করে সাধারণ মানুষ। বনধের সমর্থন বিজেপিও করেনা,তবে রাজ্যের বেহাল দশা দেখা প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসাবে বনধকে ব্যবহার করা হচ্ছে,এমনটাই জানালেন রাজ্যবিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন মালদার ইংলিশবাজারে একটি সভা করতে গিয়ে বনধ প্রসঙ্গে মন্তবয় করতে গিয়ে কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন তৃণমূল সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনকে। ইসলামপুরের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনাকে তুলে তিনি তীব্র নিন্দা করলেন পুলিশের। বললেন,পুলিশ রাজ্য সরকারের পোষা কুকুর হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার থেকে পুলিশের এখন বেশি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অঙুলি হেলন কাজ করা। যে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের দাবীর জন্য ছাত্রদের প্রাণ দিতে হয়। বাংলার বদলে প্রয়োজনহীন উর্দু শিক্ষককে নিয়োগ করতে নেওয়া হয় পুলিশি সাহায্য, আর তার প্রতিবাদ করতে গেলে ছাত্রদের গুলিবিদ্ধ হতে হয় সে রাজ্যে আদেও গণতন্ত্র আছে কিনা তাতে সংশয় প্রকাশ করলেন দিলীপ বাবু। প্রসঙ্গে,জানালেন কাশ্মীরে পুলিশকে কিংবা মিলিটারিদেরকে লক্ষ্য করে পড়ুয়ারা অনেকসময় উগ্রপন্থীদের প্ররোচনায় ইট,পাটকেল ছোঁড়ে। তবুও পুলিশকে পড়ুয়াদের দিকে গুলি ছুঁড়তে দেখা যায় না। কারণ ওঁরা জানে পুলিশের দায়িত্বটা কী আর পড়ুয়ারা দোষী নয়। কিন্তু এ রাজ্যের অবস্থা সবথেকে বাজে। এখানে রক্ষকরাই এখন ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে,পুলিশের প্রতি কটাক্ষ দিলীপবাবু। উষ্মা প্রকাশ করে বললেন,পুলিশেদের মনে রাখা উচিৎ তাদের ছেলেমেয়েরাও স্কুলে পড়ে। রাজ্য পুলিশের যে কাজের নজির রাখছে,তাতে একদিন এমন আসবে পুলিশের পরিবারের সদস্যরাই একদিন পুলিশের জন্য লজ্জা পাবে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এটুকু বলেই ক্ষান্ত হননি দিলীপ বাবু,জানান আগামী ২৬ তারিখে বিজপির ডাকা বাংলা বনধ ব্যর্থ করার সাধ্য নেই রাজ্য পুলিশের। যতোই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ থাকুক না পুলিশ কিছুই করতে পারবে না জনরোষের কারণ। বললেন,জেট ক্যাটাগরিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব মন্ত্রীরা ঘুরছেন। তবে যদিন জেট ক্যাটাগরি উঠে যাবে সেদিন একটা মারও বাইরে পড়বে না,ব্যান্ডেজ বাঁধার জায়গা থাকবে না,হুঁসিয়ারী দিলীপ বাবুর। সঙ্গে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা,তোলাবাজি,বেকারত্ত্ব ইত্যাদি ইস্যুতে রাজ্য সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। যে রাজ্য স্বামী বিবেকানন্দ,নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু,রামমোহন রায়ের মতো মহান মনিষীদের পবিত্র জন্মভূমি সে রাজ্যকে আজ সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিনত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শিক্ষাব্যবস্থা, চাকরিতে নিয়োগ,সেতু নির্মান,রাজ্যসরকারের প্রকল্প,এমনকী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির নমুনা রেখেছে রাজ্যসরকার,এভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে দেখা গেল রাজ্যের পদ্মবাহিনীর সেনাপতিকে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!