এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > বালুরঘাট নাট্যমেলায় লাগল রাজনীতির রং, ক্ষোভের মুখে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

বালুরঘাট নাট্যমেলায় লাগল রাজনীতির রং, ক্ষোভের মুখে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

বইমেলা, খাদি মেলার পর এবার সংস্কৃতির শহরে বসতে চলেছে নাটকের মেলা। দক্ষিণ দিনাজপুরের সদর শহর বালুরঘাটে আগামী 26 থেকে 1লা মার্চ পর্যন্ত নাট্যমেলা চলবে বলে জানা গেছে। কলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজ্যের সমস্ত জেলায় নাট্যমেলা ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত এই নাট্যমেলা নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নাট্য দলগুলিকে এই নাট্যমেলায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ঘটনায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের দাবি জানিয়েছেন অনেক নাট্যব্যক্তিত্ব।

সম্প্রতি বালুরঘাট শহরে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী নাট্য মেলা। এই নাট্যমেলায় অভিনয় করতে দেখা যাবে বাংলার বেশ কিছু প্রথম সারির অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের। কিন্তু বালুরঘাট বিধানসভা ও লোকসভার জনপ্রতিনিধিদের মেলায় আমন্ত্রণ না জানানো নিয়ে দানা বেঁধেছে বিতর্কের। উল্লেখ্য, বালুরঘাট বিধানসভা এবং লোকসভায় রাজ্যের শাসক দল তাঁদের দখল রাখতে পারেনি। যে কারণে এই নাট্যমেলা নিয়ে রাজনৈতিক রেষারেষির সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে উঠেছে। সূত্রের খবর, এই নাট্যোৎসবের উদ্বোধনে শাসকদলের মন্ত্রী জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকলেও ডাক পাননি বিরোধী গোষ্ঠির নেতারা।

বালুরঘাট নাট্য উৎসবের আয়োজক হলো পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। এদিন বিকেল পাঁচটার সময় বালুরঘাট নাট্য মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনে ছিলেন বিখ্যাত নাট্যনির্দেশক ও নাট্যব্যক্তিত্ব অশোক মুখোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দেখা যায় এই নাট্যমেলার উদ্বোধনে রয়েছেন ডিআইজি মালদা রেঞ্জের প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, ম্যাকেনসি বার্নের চেয়ারম্যান শংকর চক্রবর্তী, জেলাশাসক নিখিল নির্মল, জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত, জেলা তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক শান্তনু চক্রবর্তী ও প্রমুখরা। সূত্রের খবর, এই নাট্যমেলা চলবে 26 শে ফেব্রুয়ারি থেকে পয়লা মার্চ পর্যন্ত। এবং প্রতিদিন একটি করে নাটক দর্শকরা দেখতে পাবেন।

জানা গেছে, প্রথম দিন নাট্যমেলায় নাট্যব্যক্তিত্ব অশোক মুখোপাধ্যায় এর নির্দেশনায় থিয়েটার ওয়ার্কশপ নাট্যদলের নাটক ‘দীর্ঘদিন দগ্ধরাত’ নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। তবে এই নাট্যমেলা ঘিরে চূড়ান্ত বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়কে তাঁর নাটকের দলসহ আমন্ত্রণ না জানিয়ে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানোয়। যে ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন হরিমাধব মুখোপাধ্যায় স্বয়ং। অন্যদিকে, বালুরঘাট বিধানসভার বিধায়ক বিশ্বনাথ চৌধুরী এবং বালুরঘাট লোকসভার সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও এই নাট্যমেলায় আমন্ত্রণ পাননি। ঘটনায় রাজনৈতিক রঙ লেগেছে বলে দাবি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অধিকাংশের।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিকে অধিকাংশ নাট্যকর্মীরা বালুরঘাট নাট্যমেলা নিয়ে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কারণ নাটকের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্বেও তাঁদের কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছায়নি। লাইনে দাঁড়িয়ে আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করতে তাঁরা নারাজ। এ প্রসঙ্গে হরিমাধব মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্থানীয় নাটকের দলগুলিকে অবশ্যই আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল। সূত্রের খবর, ব্যক্তিগতভাবে হরিমাধব মুখোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি শারীরিক কারণে এই নাট্যমেলায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে বালুরঘাটের নাট্যদল ‘তূণীর’ এর কর্ণধার জিষ্ণু নিয়োগী জানিয়েছেন, যে নাট্যমেলায় রাজনৈতিক রং লেগেছে সেই নাট্যোৎসবে যাওয়ার কোনরকম প্রয়োজনীয়তা দেখা যাচ্ছে না।

তবে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে নাট্যমেলার টিকিট সংগ্রহ করে এই নাট্যমেলায় উপস্থিত থাকবেন না বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ নাট্যকর্মী। কার্যত পাঁচ দিনের জন্য তাঁরা নাট্যমেলা বয়কট করেছে বলে ভাবা হচ্ছে। তবে এই বিতর্ক প্রসঙ্গে তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা নাট্যকর্মী অর্পিতা ঘোষ জানিয়েছেন, ‘আকাদেমির সদস্য অমিত সাহার কাছে জেনেছি যে, শহরের নাট্য দলগুলিকেও কাউন্টারে এসে আমন্ত্রণ পত্র সংগ্রহ করতে হয়। প্রতিবার নাট্যদলগুলিকে পাস দেওয়া হলেও বেশিরভাগ দেখতে আসেন না। আগের বার বহু আমন্ত্রণ পত্র নষ্ট হয়েছে। আমন্ত্রণ পত্র নষ্ট না করার পাশাপাশি আসন ফাঁকা না রাখতেই এই পরিকল্পনা।’

অন্যদিকে নাট্যদলগুলির সাথে সাথে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো না নিয়েও নাটকের শহরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। এ প্রসঙ্গে বিরোধীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে সরকার একটি নির্দিষ্ট দলের দাস হিসেবে পরিণত হয়েছে। তবে মানুষ এর জবাব দেবে। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে নাট্যমেলার মতন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক রং না লাগাই বাঞ্ছনীয়। যেখানে বালুরঘাটকে সংস্কৃতির শহর বলা হয়, সেখানে এ ধরনের ঘটনায় রীতিমতো হতচকিত শহরবাসী। আপাতত নাট্যমেলা ঘিরে বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবে সবাই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!