এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > “সত্যের জয় হল-আজ বৈশাখীর সম্মানের জন্য লড়ে জিতলাম তো?” রত্নাকে মেসেজ শোভনের? জোর শোরগোল

“সত্যের জয় হল-আজ বৈশাখীর সম্মানের জন্য লড়ে জিতলাম তো?” রত্নাকে মেসেজ শোভনের? জোর শোরগোল



 

বঙ্গ রাজনীতিকে শোভন চট্টোপাধ্যায়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রত্না চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি ফের চরম আকার নিল। কথায় আছে, একটি পুরুষ কে কেন্দ্র করে দুই নারীর তরজা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আর যদি সেই পুরুষ রাজনৈতিক কোনো নেতা হন, তাহলে তো কথাই নেই। বান্ধবীর জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।

প্রথমে মন্ত্রিত্ব মেয়র পদ এবং তার পরবর্তীতে দীর্ঘদিনের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসর্গ ত্যাগ করে দিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। তবে বিজেপিতেও তার সময় খুব একটা ভালো যায়নি। যখন বিজেপিতে তিনি কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন বলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল রাজনৈতিক মহলে, ঠিক তখনই ভাইফোঁটার দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যেতে দেখা যায় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জলঘোলা তৈরি হয়েছিল কেন হঠাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করার পরও সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ভাইফোঁটার দিন চলে গেলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়! তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। এমনকি পরবর্তীতে শোভন চট্টোপাধ্যায় হয়ত বা আবার তৃণমূলে ফিরে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেছিলেন একাংশ।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

তবে এখনও পর্যন্ত শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ কেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে গমন থেমে গেল! রাজনৈতিক মহলে যখন নানা জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই এবার ফাঁস হল এক অন্য ঘটনা। সূত্রের খবর, ভাইফোঁটার দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফোটা নিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় তাঁর ধর্মপত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে একটি ম্যাসেজ করেন।

যেখানে হোয়াটসঅ্যাপে তিনি রত্নাদেবীকে লেখেন, “সত্যের জয় হল। আজ বৈশাখীর সম্মানের জন্য লড়ে জিতলাম তো। মিউচুয়াল ডিভোর্স দাও।” এদিকে এই ঘটনার পরেই প্রায় 15 মিনিট বাদে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের লেখা সেই মেসেজের জবাব দেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। জানা যায়, দীর্ঘক্ষন ধরে হোয়াটস্যাপে ম্যাসেজের মাধ্যমে দুজনের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়।

এদিকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে ফোঁটা নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক মহলে তার তৃণমূলে ফেরার জল্পনা তৈরি হয়েছিল, ঠিক তখনই তার পরের দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে চলে যান রত্না চট্টোপাধ্যায়। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের করা সমস্ত মেসেজ তৃণমূল নেত্রীকে দেখান রত্নাদেবী।

সূত্রের খবর, রত্না চট্টোপাধ্যায়ের ফোন থেকে সেই মেসেজ দেখে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ওপর প্রবল ক্ষুব্ধ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “কেন এইসব মেসেজ রত্নাকে করা হয়েছে!” যার উত্তরে শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি এই ব্যাপারে কিছুই জানি না। আমি এই মেসেজগুলো পাঠাইনি।”

আর রত্না চট্টোপাধ্যায় নিজের স্বামীর মেসেজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখানোর পরেই সেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা কার্যত বিশবাঁও জলে চলে গেছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। আর সেই কারণেই এখন শোভন চট্টোপাধ্যায় “না ঘরকা না ঘাটকা” অবস্থায় রয়েছেন বলে মনে করছেন একাংশ।

অনেকেরই প্রশ্ন, শোভন চট্টোপাধ্যায় যে বলছেন যে তিনি ম্যাসেজ করেননি। তাহলে তার ফোন থেকে কে সেই মেসেজগুলো রত্নাদেবীকে করলেন! এদিন এই প্রসঙ্গে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে এই ব্যাপারে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা বলতে চাওয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপিতে কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে যাচ্ছেন, একথা অনুধাবন করেই ভাইফোঁটার দিন নিজের প্রাক্তন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বান্ধবী বৈশাখী বন্দোপাধ্যায়কে নিয়ে যান শোভন চট্টোপাধ্যায়। আর এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার ভাই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্কের মধুরতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেছিল একাংশ।

এমনকি গোটা পরিস্থিতি সেদিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু তারই মাঝে সেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রত্নাদেবীকে করা মেসেজ যেন শোভনবাবুর তৃণমূলে প্রবেশ করার পথে বড়সড় কাঁটা হয়ে গেল বলে মত পর্যবেক্ষকদের। এখন গোটা পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!