এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমান > বড়সড় অনিশ্চয়তার মুখে বিএড পরীক্ষার্থীরা – জানুন বিস্তারিত

বড়সড় অনিশ্চয়তার মুখে বিএড পরীক্ষার্থীরা – জানুন বিস্তারিত

চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন সেল্ফ ফিনান্সিং বি.এড কলেজের পড়ুয়াদের। এখনো এনরোলমেন্ট সম্পন্ন হয়নি কলেজগুলোর। আর এরজন্যেই থমকে আছে বি.এড এর ফার্স্ট সেমিস্টার পরীক্ষা। সাধারণ ডিসেম্বর নাগাদ এই পরীক্ষা হয়ে যায়।

সেখানে ডিসেম্বর পেরিয়ে জানুয়ারির দুই সপ্তাহ শেষ হতে বসল এখনো পরীক্ষার দিনক্ষণ জানতে পারল না পড়ুয়ারা। ম্যানেজমেন্ট কোটায় বাড়তি ছাত্র ভর্তি ইস্যু নিয়ে কতৃপক্ষের কথামতো ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা জমা করলেও কলেজের এনরোলমেন্ট নিয়ে গড়িমসি করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ,এমনটাই অভিযোগ।

এদিকে ‘বিশেষ শর্ত’ পূরণ করার চলতি সপ্তাহেই প্রায় ৩৫ টি কলেজের এনরোলমেন্ট জমা নিয়েছেন একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কন্ট্রোলার। কিন্তু এখনো বেশিরভাগ কলেজেরই এনরোলমেন্ট আটকে রয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই গা ঢিলেমিকে একেবারেই মেনে নিতে পারছে না কলেজগুলির শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ পরিচালন কমিটির কর্মকর্তারা।

এর ফলে তাঁদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। এর উপর কলেজগুলির উদ্বেগকে আরো বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,’খাম’ দিলে তবেই এনরোলমেন্ট করানো হবে। এমনটাই কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত,বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান,বীরভূম,বাঁকুড়া,গোটা হুগলি জুড়ে ১৪৮ টি সেল্ফ ফিনান্সিং বি.এড কলেজে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার আসন রয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মাত্র আড়াই হাজার পড়ুয়াদের বি.এড কলেজগুলোতে পড়ার সুযোগ দেয়। বাকি সিংহভাগ ফাঁকা আসনটাই পূরণ করেছিল ম্যানেজমেন্ট কোটায় ছাত্রছাত্রী ভর্তি করে।

এই ব্যাপারটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে ইচ্ছেমতো ছাত্রভর্তির ঘটনায় এনরোলমেন্ট আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা করে বিশ্ববিদ্যালয়। এ ব্যাপারে গত নভেম্বরে ইসি-র বৈঠকে ওই সংশ্লিষ্ট কলেজগুলির এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ এরপর এগজিকিউটিভ কাউন্সিল(ইসি)-র বৈঠকে ফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়,এরকম ভুল ভবিষ্যতে আর হবে না,এই মর্মে ক্ষমা চেয়ে যদি মুচলেখা জমা দেয় তাহলে কলেজগুলোর এনরোলমেন্ট করানো হবে। এই রেজ্যুলিউশনের কপি গত ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ নিয়ামকের অফিসে এসে পৌঁছায়।

এরপর ১৪৮ টি কলেজের প্রায় সবকটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবী মতো ক্ষমা চেয়ে মুচলেখা জমা করলেও এখনো এনরোলমেন্ট করানো হয়নি সিংহভাগ কলেজের। কেম চিঠি পাওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজগুলির এনরোলমেন্ট করাচ্ছে? এর ভেতরে কী রহস্য রয়েছে? এভাবে এনরোলমেন্ট থমকে গেলে পরীক্ষা কবে হবে? এ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে।

প্রসঙ্গত,এনসিটিই-র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ডিসেম্বর নাগাদ ফার্স্ট সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তারপর জানুয়ারি থেকে নতুন সেমিস্টারের জন্যে ক্লাস করে পড়ুয়ারা। দেশের সব বি.এড কলেজগুলো এই নিয়ম মেনে চললেও ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে শুধু বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৮ টি সেল্ফ ফিনান্সিং কলেজে।

সেখানে এখনো ফার্স্ট সেমিস্টারের ক্লাস চলছে। বিএড কলেজগুলিকে নিয়ে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয়(ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অব টিচার্স ট্রেনিং এডুকেশন প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) এর আওতায় থাকা সমস্ত কলেজে ফার্স্ট সেমেস্টারের পরীক্ষা ডিসেম্বরেই শেষ হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত বিএড কলেজগুলি বালিগঞ্জে অবস্থিত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে গিয়েছে।

 

আমাদের খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে, নীচের যে কোন একটি করুন –

১. যোগ দিন আমাদের WhatsApp Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
২. যোগ দিন আমাদের Telegram Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৩. যোগ দিন আমাদের Facebook Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৪. যোগ দিন আমাদের Twitter Handle – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৫. যোগ দিন আমাদের Google+ Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৬. যোগ দিন আমাদের LinkedIn Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৭. যোগ দিন আমাদের Tumblr গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৮. বুকমার্ক করে রাখুন আমাদের Official Home Page – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৯. যোগ দিন আমাদের YouTube Chanel – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
১০. যোগ দিন আমাদের Facebook Page – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এ ব্যাপারে উপাচার্য নিমাইচন্দ্র সাহার বক্তব্য, যেসব কলেজ কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চেয়ে চিঠি দিয়েছে,সেসব কলেজের এনরোলমেন্ট শুরু হয়ে গিয়েছে। গোটাটাই একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে। তবে এরজন্যে অন্য কেউ টাকা চাইলে সেক্ষেত্রে কলেজগুলোকে তাঁর কাছে অভিযোগ জানাতে পরামর্শ দিলেন উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোরকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না,সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি। এদিনে উক্ত ইস্যুতে বিএড পড়ুয়াদের মতো উদ্বেগে রয়েছেন কলেজ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্তাব্যক্তিরা। চলতি সপ্তাহেই এই ইস্যু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজবাটি ক্যাম্পাসে যান বিএড কলেজের কর্মকর্তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলার পর প্রায় ৩০ টি কলেজের কর্মকর্তারা এনরোলমেন্ট লিস্ট জমা দেন। কিন্তু অপর একটি বি.এড কলেজের পরিচালন কমিটির কর্মকর্তারা ‘বিশেষ শর্ত’ পূরণ করতে আপত্তি জানালো তাঁদের কলেজের লিস্ট জমা নেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এই অবস্থায় আচমকাই ৪০-৫০ জন এসে তাঁদের ঘিরে ধরে। কোনোক্রমে সেখান থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে ফেরেন তাঁরা।

গোটা ঘটনাতেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। এই এই প্রেক্ষিতে এনরোলমেন্ট না পাওয়া ওইসব কলেজ পড়ুয়াদের ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে,নিয়মভঙ্গের অপরাধে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়কে এনসিটিই-র কোপের মুখেও পড়তে হতে পারে,এমন সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সবমিলিয়ে ব্যাপক উদ্বেগে রয়েছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন ১৪৮ টি সেল্ফ ফিনান্সিং বি.এড কলেজের পড়ুয়ারা।

Top
Close
error: Content is protected !!