এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > যুক্তিতে পারা যাচ্ছে না, তাই কোর্টরুমেই ছিঁড়ে ফেলা হল ম্যাপ! অযোধ্যা মামলায় নাটক তুঙ্গে!

যুক্তিতে পারা যাচ্ছে না, তাই কোর্টরুমেই ছিঁড়ে ফেলা হল ম্যাপ! অযোধ্যা মামলায় নাটক তুঙ্গে!

1992 সালের রাম জন্মভূমি আন্দোলনে 6 ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভেঙে তার চূড়ায় করসেবকরা গেরুয়া পতাকা তোলে। বাবরি মসজিদের জমি রাম জন্মভূমি হিসাবে দাবি করা হয়। বলা হয়, রাম জন্মভূমি আগে থেকেই ছিল। পরবর্তীতে সেই জমিতে মোঘলরা মসজিদ বানায়। দেশজুড়ে বাবরি মসজিদ ধ্বংস নিয়ে সৃষ্টি হয় আলোড়ন এবং তা আদালতে গড়ায় শেষ অব্দি। 1992 সালে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক অশান্তির সৃষ্টি হয়।

যার ফলস্বরূপ প্রায় 2000 জন মানুষ মারা গিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অযোধ্যা মামলার নিষ্পত্তির শেষ দিন ছিল গতকাল। আর শেষ দিনে কোর্ট রুমে চলল চূড়ান্ত নাটক। অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল দেশের অন্যতম সংবেদনশীলত হাইপ্রোফাইল রাম জন্মভূমি বাবরি মসজিদ মামলা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করতে হবে। গত 39 দিন ধরে এই মামলা চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্টে ছিল গতকালই অযোধ্যা মামলার শুনানি শেষ দিন।

আর সেই দিনে দুই পক্ষের আইনজীবীর বিবাদে কোর্ট রুমে উত্তেজনা ছড়ালো। অযোধ্যা ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের অলিন্দে হিন্দু মহাসভার পক্ষের আইনজীবী বিকাশ সিংয়ের সাথে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের তরফের আইনজীবী রাজিব ধবনের বাদানুবাদ সীমা অতিক্রম করে। আর এরপরেই পরিস্থিতি ক্রমশ বির্তকিত পর্যায়ে পৌঁছে যায়। দুই পর্বের বিবাদ চলাকালীন হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বিকাশ সিং তাঁর যুক্তির স্বপক্ষে ‘অযোধ্যা রিভিজিটেড’ নামে একটি বই সুপ্রিম কোর্টে পেশ করতে চান।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

আর এখানেই শুরু হয় দ্বন্দ্ব। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী রাজিব ধবন ওই বই থেকে একটি ম্যাপ ছিঁড়ে নেন আদালতের মধ্যেই। ফলে প্রশ্ন উঠতে থাকে – যুক্তিতে পারা যাচ্ছে না বলেই কি ম্যাপ ছিঁড়ে দিলেন আইনজীবী? এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জন গগৈ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, আদালতের মূল্যবান সময় দুই পক্ষের আইনজীবীর বিবাদের ফলে নষ্ট হচ্ছে। এরপরেও যদি এরকম ঘটনা বারংবার ঘটতে থাকে, তাহলে তিনি এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যাবেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির হুঁশিয়ারির পর দুই পক্ষের আইনজীবী তাঁদের বিবাদ বন্ধ করে।

রাম মন্দির মামলা নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। সুপ্রিমকোর্টের অলিন্দে ঘটে যাওয়া এ দিনের ঘটনা সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, অযোধ্যা মামলা নিয়ে দুই পক্ষ যতই সামনে ভালো সম্পর্কের দাবি করুক, ভেতরে ভেতরে কিন্তু যুদ্ধের দামামা বাজছে। অন্তত সুপ্রিম কোর্টে ঘটে যাওয়া ঘটনা তাই প্রমাণ করছে। সম্প্রতি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের তরফ থেকে বলা হয়, আদালত যদি রাম মন্দিরের জমি তাঁদেরকে দিয়েও দেয়, তাহলে তাঁরা সেই জমি রাম জন্মভূমি হিসেবে হিন্দুদের দিয়ে দেবে।

হাই প্রোফাইল এই মামলার শুনানি আপাতত শেষ – সব পক্ষই তাকিয়ে আদালত কি রায় দেবে সেই দিকে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের অবসরের দিন আগামী ১৭ ই নভেম্বর – তার আগেই সামনে আসতে পারে এই মামলার রায়। আপাতত রাম মন্দির বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের রায়কেই গুরুত্ব দিতে প্রস্তুত সব পক্ষ। তাই সেই রায়ের দিকেই তাকিয়ে এখন সমগ্র রাজনৈতিক মহল। তবে, সেই রায়ের আগে মামলার শেষদিন যা হল ম্যাপ ছেঁড়া নিয়ে – তা কার্যত নজিরবিহীন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!