এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > আসামের ঘটনা নন্দীগ্রাম- নেতাই এর থেকেও ভয়ংকর দাবি করে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক যুবরাজের

আসামের ঘটনা নন্দীগ্রাম- নেতাই এর থেকেও ভয়ংকর দাবি করে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক যুবরাজের

তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান করেই মুকুল রায় অভিযোগ করেছিলেন যে, বিগত বাম সরকারের আমলের সন্ত্রাসকেও ছাপিয়ে গেছে রাজ্যের বর্তমান শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার অসমের 5 বাঙালি হত্যায় সেই বাম সরকারের নেতাই- নন্দীগ্রামের গণহত্যা ছাপিয়ে গেল বলে বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দাগলেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারই অসমে 5 বাঙালি হত্যার খবর আসে। আর এরপরই এই ঘটনায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি জেলায় এর বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীদের প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হওয়ার নির্দেশ দেয় তৃনমূল কংগ্রেস। সেইমতো রাজ্যের প্রতি জেলায় বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল হওয়ার পাশাপাশি গতকাল বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেই অসমের ঘটনার প্রতিবাদে একটি মহা মিছিল ও পথসভার আয়োজন করা হয়। আর এদিনের এই সভায় উপস্থিত হন তৃণমূলের যুবরাজ তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

জানা যায়, এদিন এই বাকুড়ায় দুটি কালীপুজো উদ্বোধন কর্মসূচি ছিল তৃণমূলের এই হেভিওয়েট সাংসদের। আর সেই উদ্বোধনী কর্মসূচিতে এসেই বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ দলের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। সূত্রের খবর, প্রথমে হিন্দু স্কুল থেকে মাচানতলা পর্যন্ত পদযাত্রা করে পরে মাচানতলা ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের সভায় বক্তব্য রাখেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে এদিনের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অরূপ খাঁ, জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী, বর্তমান সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু, মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা সহ জেলার একাধিক নেতা কর্মীরা। এদিনের এই সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ছিলেন তৃণমূলের যুবরাজ। আসামে বাঙালি হত্যার তীব্র নিন্দা করে এদিন তিনি বলেন, “পুলিশের পোশাক পড়ে বাঙ্গালিদের এলাকার থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর অসমে ব্রহ্মপুত্র নদীর চরে তাদের খুন করা হয়েছে। আর এই বাঙালি খুনের ঘটনায় নেতাই, নন্দীগ্রামের মত গণহত্যাও লজ্জা পাবে।”

পাশাপাশি এই ঘটনায় অসমের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন তৃণমূলের এই সাংসদ। অন্যদিকে কিছুদিন আগে এই বাকুড়ায় এসে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জনসভা করে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। এদিন তারই জবাব দিতে গিয়ে কার্যত চ্যালেঞ্জের সুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দুদিন আগে এই বাঁকুড়ায় এসে অনেকে হম্বিতম্বি করে গিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি একবার অনুমতি দেন তবে বিজেপির ‘বি’ আর দিলীপ ঘোষের ‘ডি’ এই বাংলায় খুঁজে পাওয়া যাবে না।”

পাশাপাশি আগামী লোকসভায় এই বাঁকুড়া থেকে বিজেপির অমিত শাহ বা নরেন্দ্র মোদিকে ভোটে দাড়িয়ে জেতারও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী ডিসেম্বরে এই রাজ্যের তিন জায়গা থেকে রথযাত্রার কর্মসূচির পরিকল্পনা নিয়েছে গেরুয়া শিবির। আর যে ইস্যুতে প্রথম থেকেই সেই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তৃণমূলের যুবরাজ বলেছিলেন, “ওরা থাকবে রথে, আর আমরা থাকবো পথে।”

এদিন নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ফের বিজেপি সেই রথযাত্রা নিয়ে কার্যত সেই গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে অলআউট অ্যাটাকে অবতীর্ণ হয়ে যুব তৃনমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, “দলনেত্রী নির্দেশ দিলে ওদের রথের চাকা আর দড়ি কিছুই খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিজেপি তোমরা যা শুরু করেছো তাতে জেনে রেখো, তৃণমূলের সৈনিকরা কিন্তু এর শেষ করবে।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আগামী দিনে বিজেপিকে এই বাকুড়া জেলায় দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে এদিন আত্মবিশ্বাসের সহিত বক্তব্য রাখেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল বনাম কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তাপের পারদ চড়তে শুরু করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক তরজায় ভোট বাক্সে ঠিক কার দিকে রায় দেয় সাধারণ মানুষ সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Top
error: Content is protected !!