এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমান > পুজোতে বিদেশে বিজেপি সাংসদ, দলীয় নেতা-মন্ত্রীদের ময়দানে নামিয়ে বাজিমাতের চেষ্টায় তৃণমূল

পুজোতে বিদেশে বিজেপি সাংসদ, দলীয় নেতা-মন্ত্রীদের ময়দানে নামিয়ে বাজিমাতের চেষ্টায় তৃণমূল

পুজোকে কেন্দ্র করে জনসংযোগে অবতীর্ণ হতে এবার মরিয়া হয়ে উঠেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপি। দুই দলই তাদের দলীয় জনপ্রতিনিধিদের এলাকায় পড়ে থেকে বেশি করে জনসংযোগের নির্দেশ দিয়েছে। কাজেই সেই জনসংযোগের জন্য শারদ উৎসবে একে অপরকে বিন্দুমাত্র জায়গা ছাড়তে নারাজ দুই পক্ষই। তবে এবার তৃণমূলকে ‘জায়গা ছেড়ে দিয়ে’ নিজের সংসদীয় এলাকা ছেড়ে পুজোর সময় গান গাইতে বিদেশে পাড়ি দিতে দেখা গেল আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে।

আর তাতেই বাবুল সুপ্রিয়র এই অনুপস্থিতিতে এখন তৃণমূল বাড়তি সুবিধা পেতে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পুজোর কিছুদিন আগে থেকেই নিজের নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন তৃণমূল বিধায়করা। প্রতি সময় এলাকার খবর নিতে দেখা যাচ্ছে তাদের। সেই সাথে পুজোর সামগ্রীতে হাত দিয়ে ক্লাবগুলোকে সহযোগিতা করা থেকে শুরু করে দিদিকে বলো কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জনসংযোগে সামিল হচ্ছেন তৃণমূলের নেতা, বিধায়করা।

কিন্তু সেক্ষেত্রে তৃণমূল যখন এই পুজোয় জনসংযোগকে পাখির চোখ করেছে, ঠিক তখনই আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র এলাকায় অনুপস্থিতি হয়ত বা সেই জনসংযোগের দিক থেকে বিজেপিকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জানা গেছে, রেলের কিছু অনুষ্ঠান উদ্বোধনের জন্য চতুর্থীর দিন আসানসোলে এসে সেদিনই দিল্লি ফিরে গিয়েছেন বাবুলবাবু। কারণ পঞ্চমীর দিনই মার্কিন মুলুকে গান গাইতে যাওয়ার কথা রয়েছে আসানসোলের এই বিজেপি সাংসদের।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

আর বিজেপি সাংসদের এই কৃতিত্বের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় তার অনুগামীরা প্রচার করলে তা নিয়ে পাল্টা সরব হয়ে ময়দানে নেমে নিজেদের জনসংযোগ আরও বাড়াতে শুরু করেছে ঘাসফুল শিবির। এদিন এই প্রসঙ্গে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, “মানুষের ভোটে এখানকার এমপি পুজোয় মানুষের সঙ্গে না থেকে বিদেশ চলে যাচ্ছেন। এখানে এসে পুজোর কাজে মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তো উনি জানতে পারতেন। উনি তো মন্ত্রী। কিছু দরিদ্র মানুষের কাছে পুজোর নতুন বস্ত্র তো তুলে দিতে পারতেন।”

একইভাবে বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেছে বারাবনির তৃণমূল বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়কেও। এদিন তিনি বলেন, “পুজোয় বাংলায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কালো মেঘ। আমরা যখন মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি, তখন এমপি বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন যাতে তাঁর পুজো নষ্ট না হয়।” তবে তৃণমূল জণসংযোগে নেমে বিজেপি সাংসদের এলাকায় না থাকার ব্যাপারটিকে ইস্যু করে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সরব হলেও তাতে গুরুত্ব দিতে নারাজ আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়।

এদিন এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার গান শোনার জন্য বিশ্বের মানুষ অপেক্ষা করেন, আমন্ত্রণ জানান, আর এতে আসানসোলের মানুষ খুশি হয়। যেখানেই যাই আসানসোলের এমপি হিসেবে বলা হয়। কাটমানি খাওয়া ছাড়া যাদের আর কোনো পরিচয় নেই, তারা এসব বুঝবে না। আর তাদের আমি বোঝাতেও চাই না।” একইভাবে বিজেপি সাংসদের অনুপুস্থিতিতে জনসংযোগে নেমে তৃণমূল এইভাবে বিজেপিকে খোঁচা দিলেও তা নিয়ে পাল্টা শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেছে জেলা বিজেপির সভাপতি লক্ষন ঘোড়ুইকে।

এদিন তিনি বলেন, “বাবুল সুপ্রিয় খ্যাতনামা গায়ক। বিদেশে গেলেও তো আসানসোলের নামই উজ্জ্বল হয়। আর এসব বলে তৃণমূল মানুষের মনে দাগ কাটতে পারবে না। কারণ আমরা সবাই পুজোর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি।” সব মিলিয়ে পুজোর সময় জনসংযোগে থাকার জন্য দুই দল উদ্যোগ নিলেও আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় গানের জন্য বিদেশে পাড়ি দেওয়ায় সেই ব্যাপারটিকে ইস্যু করে তৃণমূল সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজেপি বিরোধীতার প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করলেও তা আদতে সফলতা পায় কিনা! এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!