এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমান > আসানসোলে বাবুল না মুনমুন সেন? কার পাল্লা ভারী

আসানসোলে বাবুল না মুনমুন সেন? কার পাল্লা ভারী

গত 2014 সালের লোকসভা নির্বাচনে যখন সারাদেশে মোদি ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল বিরোধীরা, ঠিক তখনই রাজ্যের 42 টি লোকসভা আসনের মধ্যে 34 টি আসন তৃনমূল নিজেদের দখলে রাখলেও আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী তথা বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী বাবুল সুপ্রিয়।

আর এবার ধীরে ধীরে 5 বছরের পালা শেষে ফের একটি লোকসভা নির্বাচনের সামনে এসে উপস্থিত গোটা দেশ। আর এই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি গতবারের জয়ী আসনগুলো নিজেদের দখলে রাখতে পারে কিনা সেদিকে যখন নজর রয়েছে বিরোধী দলসহ গোটা রাজনৈতিক মহলের, ঠিক তখনই বাংলায় বিজেপির দখলে থাকা দুটি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে এই আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রটি বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

আর তাইতো এই আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় বিরুদ্ধে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা বিশিষ্ট অভিনেত্রী মুনমুন সেনকে এখানে দলীয় প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে এক কথায় এই আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রটিকে এখন তারকা কেন্দ্র হিসেবেই দেখছে সবাই।

কিন্তু বিদায়ী সাংসদ তথা বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় গানে মানুষকে বাজিমাত করলে সেখানে কি অভিনয় দিয়ে সাধারন মানুষের মন কাড়তে পারবেন তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন? শেষ পর্যন্ত কে শেষ হাসি হাসবে এই আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিমধ্যেই এই লোকসভা কেন্দ্র দখলের জন্য দলীয় প্রার্থী মুনমুন সেনকে নিয়ে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব জোর প্রচার শুরু করে দিলেও এখানে সেই মুনমুন সেনের জেতার পক্ষে মূল কাটা হয়ে দাঁড়াতে পারে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

তৃণমূলের একাংশের মতে, বিগত 2014 সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের পরাজয়ের পেছনে মূল কারণই ছিল দলের একাংশের অন্তর্ঘাত। ফলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনেও যদি সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলে ফের একবার এই কেন্দ্রটি তৃনমূলের হাতছাড়া হতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।

তবে তৃণমূলের তরফে অবশ্য এই সমস্ত ঘটনাকে আমল না দিয়ে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে জোর প্রচার চালিয়ে মুনমুন সেনই এখানে জয়ী হবেন বলে জানাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি কিছুদিন আগেই এখানকার বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে হালকা রসিকতা করে তাকে “বাচ্চা ছেলে” বলে অভিহিত করেছেন তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন।

পাল্টা আসানসোলের বিদায়ী সংসদ তথা বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়ও তৃণমূল প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে দিয়েছেন খোঁচা। আর রাজনীতিতে এই তরজার মাঝেই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বাংলাকে মূল টার্গেট করা বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব গত 2014 সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার যে দুটি লোকসভা কেন্দ্র তাদের দখলে ছিল, সেই দুটি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে এই আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রটি যাতে হাতছাড়া না হয় তার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে।

এমনকি ইতিমধ্যেই বিগত পাঁচ বছরের সাংসদ থাকার সময় এলাকার কি কি উন্নয়ন তিনি করেছেন সেই ব্যাপারেও সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে জনসংযোগে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, সেদিক থেকে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়র রাস্তা পরিষ্কার থাকলেও শাসক দল তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা অভিনেত্রী মুনমুন সেনকে জেতাতে যদি আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের জেলা তৃণমূল নেতৃত্বরা একযোগে কাজ করেন তাহলে এখানে তৃণমূল- বিজেপির জমজমাট লড়াইকে ঘিরে জমে উঠতে পারে রাজ্য রাজনীতি। তবে শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে কার জয় হবে তা দেখবার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে ভোটবাক্স খোলা পর্যন্ত।

Top
error: Content is protected !!