এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > আগামীকালের ভোটের আগে জেতার জন্য ‘সুপার কনফিডেন্ট’ তিনি, ‘নতুন স্ট্র্যাটেজির’ ইঙ্গিতে বোঝালেন অর্জুন

আগামীকালের ভোটের আগে জেতার জন্য ‘সুপার কনফিডেন্ট’ তিনি, ‘নতুন স্ট্র্যাটেজির’ ইঙ্গিতে বোঝালেন অর্জুন

আগামীকাল সারা দেশের সঙ্গে রাজ্যের তিন জেলার ৭ আসনেও পঞ্চম দফার ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। উত্তরবঙ্গের পালা শেষ করে ভোটের পরিধি আপাতত দক্ষিণবঙ্গে – যা ২০০৯ থেকেই কার্যত তৃণমূলের দুর্জয় ঘাঁটি হিসাবে পরিগণিত। কিন্তু বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই এই সব আসনে পদ্ম শিবিরের পাপড়ি মেলার প্রবলতর ইঙ্গিত। ফলে, আগামীকাল যে ৭ আসনে ভোটগ্রহণ হবে তার সবকটিতেই টানটান উত্তেজনা থাকার ইঙ্গিত। কিন্তু এসবের মধ্যেও আগামীকাল বিশেষ করে নজর কাড়তে চলেছে যে আসনটি – নিঃসন্দেহে তা হল – ব্যারাকপুর।

শিল্পাঞ্চলের এই আসনকে ঘিরে কার্যত ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। মুকুল রায় দল ছাড়ার পর, কাঁচরাপাড়া-ভাটপাড়া-নোয়াপাড়া সহ সমগ্র ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে দিয়েছিলেন তৎকালীন আস্থাভাজন অর্জুন সিংয়ের হাতে। মুকুল রায়ের হাত ধরে নোয়াপাড়া বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির তুমুল ভোট বাড়লেও, নিজের আত্মীয় সুনীল সিংকে জিতিয়ে এনে নিজের সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দিয়েছিলেন অর্জুন সিং। কিন্তু, এরপরেই যেন ছন্দপতন – অর্জুন সিং দাবী করে বসেন ব্যারাকপুরের টিকিট।

কিন্তু, রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে যায়, তৃণমূল যদি অর্জুন সিংকে টিকিট দেয়, তাহলে ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে টিকিট দিতে পারে বিজেপি। এই অবস্থায় – কার্যত উভয়সঙ্কটের মধ্যে দাঁড়িয়ে, খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে একসঙ্গে ডেকে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী ও অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে। রফাসূত্র হিসাবে তিনি জানান, দীনেশ ত্রিবেদীকে লোকসভার টিকিট দেওয়া হবে, আর অর্জুন সিংকে ভোট মিটলে দেওয়া হবে রাজ্যের মন্ত্রীত্ব। কিন্তু, অর্জুন শিবিরের দাবী, অর্জুন সিং দলের কঠিন সময়ের বিধায়ক – তা সত্ত্বেও দলনেত্রী এতদিন তাঁর জন্য মন্ত্রীত্বের কথা ভাবেননি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

ফলে, ভোট মিটলে মন্ত্রীত্বের প্রতিশ্রুতি কতটা বজায় থাকতে পারে তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ অনুগামীরা। ফলে তিনি নিজে আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তৃণমূলের কড়া নজরদারি এড়িয়ে সোজা দিল্লি গিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন। স্বয়ং তৃণমূল নেত্রীর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আটকানো যায় নি এই ডাকাবুকো নেতাকে। বিজেপিও ব্যারাকপুর থেকেই অর্জুন সিংকে প্রার্থী ঘোষণা করে। আর প্রার্থী হয়েই অর্জুন সিংয়ের ঘোষণা, দীনেশ ত্রিবেদী তৃণমূলের সাংসদ হলেও, তাঁকে ব্যারাকপুরে পাওয়া যায় শুধুমাত্র লোকাভা ভোটের আগে! এলাকার মানুষের আপদে-বিপদে ২৪ ঘন্টা, বছরে ৩৬৫ দিন পাশে দাঁড়ান তিনিই।

অর্জুন সিংয়ের দাবি, ফলে ব্যারাকপুরের স্থানীয় মানুষের আবেগকে মর্যাদা দিয়ে তিনি প্রার্থী হয়েছেন এবং তিনিই এই কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জিতবেন। আর সেই জয় নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই গোটা লোকসভা জুড়েই তৃণমূলে ব্যাপক ভাঙন ধরিয়েছেন তিনি ও মুকুল রায়। অন্যদিকে, তাঁর ঘনিষ্ঠ শিবিরের দাবি, বাকি যাঁরা এখনো তৃণমূল থেকে আসেননি, তাঁরা তৃণমূলে থেকেও অর্জুন সিংকে জেতাতেই ‘কাজটা’ করবেন আর নির্বাচনের ফল বেরোলেই তাঁরা সব হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে নেবেন। তবে, এত কিছুর মধ্যেও হাল ছাড়তে রাজি নয় তৃণমূল।

ব্যারাকপুরে মাটি কামড়ে পরে আছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। একাধিকবার সভা ও রোড-শো করে গেছেন স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বর্তমানে দলের অঘোষিত দুনম্বর নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানে মুকুল রায়, অর্জুন সিংকে ‘গদ্দার’ বলে অভিহিত করার পাশাপাশি এই কেন্দ্রে তৃণমূল দু-আড়াই লক্ষ ভোটে জিতবেন বলে দাবি করে গেছেন। ফলে, ব্যারাকপুরের লড়াই তৃণমূল যে সহজে ছাড়ছে না – ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। কিন্তু ভোটগ্রহণের ২৪ ঘন্টা আগে নিজের ‘সুপার কুল’ ইমেজ তুলে ধরে অর্জুন সিং স্পষ্ট করে দিলেন, এই লড়াইয়ে তিনি কোনো চাপেই নেই।

আজ, বারাসতে সমস্ত রাজনৈতিক দলের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে। সেখান থেকে বেরিয়েই অর্জুন সিং জানান, নির্বাচনের দিন শাসকদল ভোট লুট করতে এলে, কমিশন যদি সামাল দিতে না পারে, তবে প্রতিরোধ করা হবে। আগামীকাল নয়া প্ল্যানে ভোট করাব, আমি প্রতিটা ইলেকশনে নতুন নতুন অপারেশন করি। স্বাভাবিকভাবেই অর্জুন সিংয়ের এই হুঁশিয়ারির পরে, বীরভূমের অনুব্রত মন্ডল প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল কংগ্রেস অর্জুন সিংকে আগামীকাল নজরবন্দি করার জন্য কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। জবাবে ‘সুপার কনফিডেন্ট’ অর্জুন সিংয়ের মুখে মুচকি হেসে ছোট্ট উত্তর, অনুব্রত গুন্ডা, আমি প্রার্থী।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!