এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > অবশেষে মারাই গেলেন অর্জুন সিংয়ের গড়ে গুলিবিদ্ধ তৃণমূল নেতা, পুলিশি ধরপাকড় অব্যাহত

অবশেষে মারাই গেলেন অর্জুন সিংয়ের গড়ে গুলিবিদ্ধ তৃণমূল নেতা, পুলিশি ধরপাকড় অব্যাহত

শেষ রক্ষা হল না কিছুতেই। অবশেষে দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে মৃত্যু বরণ করতে হলো টিটাগড়ের তৃণমূল কর্মী সতীশ মিশ্রকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নিখাদ ভালো মানুষ বলে পরিচিত সতীশ মিশ্র সোমবার তালপুকুর মুচিপাড়া এলাকায় বি টি রোডের কাছে একটি নির্মীয়মান কালী মন্ডপের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর সেই সময় দুজন দুষ্কৃতী পায়ে হেঁটে এসে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সেই তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি চালায়। আর তখনই একটি গুলি সেই সতীশ মিশ্রর গায়ে লাগলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

তখনই ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর মনিশ শুক্লা সহ বেশ কয়েকজন সেই দুষ্কৃতীদের ধাওয়া করতে গেলেও ঘিঞ্জি এলাকার সুবাদে পালিয়ে যায় তারা। এদিকে সোমবারই সেই আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী সতীশ মিশ্রকে হাসপাতালে ভর্তি করলে মঙ্গলবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। আর যে ঘটনায় তীব্র শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে গোটা টিটাগরে।

ইতিমধ্যেই এই গুলি চালানোর ঘটনায় 4 অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে রয়েছে একদা এলাকায় সিপিএমের ‘ত্রাস’ বলে পরিচিত ভোলা প্রসাদ, কালা মুন্না, সঞ্জয় এবং সমীর নামের চার ব্যক্তি। পুলিশ সূত্রের খবর, শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকায় এদিন এই ঘটনার মূল পান্ডা ভোলা প্রসাদকে আদালতে তোলা না গেলেও বাকি তিন অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে তাদের 14 দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

অন্যদিকে সতিশ মিশ্রের মৃত্যু হওয়ায় এই ঘটনায় নতুন করে খুনের মামলা যোগ করা হবে বলে জানান ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি কে কান্নন। কিন্তু প্রিয় তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে মঙ্গলবার কার্যত অঘোষিত বন্ধ চেহারা নেয় গোটা টিটাগড় বাজার। পুরসভার একাধিক জায়গায় মুড়িয়ে ফেলা হয় কালো পতাকা। একাংশের মতে, ভাল মানুষ বলেই পরিচিত ছিল এই সতীশ মিশ্র।

ফলে কেন তার উপরই কেন এহেন আঘাত নেমে এলো তা বুঝতে পারছেন না কেউই। তবে স্থানীয়রা যাই বলুক না কেন, এই ঘটনায় রাজনৈতিক যোগ ক যে স্পষ্ট তা জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর তথা বিধায়ক অর্জুন সিং এর ঘনিষ্ঠ মনিশ শুক্লা।

এদিন তিনি বলেন, “এই ঘটনার মূল পান্ডা ভোলা প্রসাদ বরাবরই সিপিএম করতো। আমি এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হওয়ার পর সতীশ আমার কাজকর্ম দেখার পাশাপাশি এলাকার কিছু অসামাজিক কাজকর্ম বন্ধও করেছিল। তাই ভোলা প্রসাদ ভাড়াটে খুনি দিয়ে ওকে খুন করেছে।” তবে এক কালে যে দাপটের সঙ্গে এই এলাকায় রাজ করেছেন ভোলা প্রসাদ তা তার চেহারার ছাপেই স্পষ্ট। হাতে সোনার ব্রেসলেট, আঙুলে সোনার আংটি, গলায় একাধিক মোটা চেন সহ একজন আপাদমস্তক সোনায় মোড়া মানুষ এই ভোলা প্রসাদ।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিন এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের টিটাগর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরী বলেন, ” সতীশ আমাদের দলের দক্ষ সংগঠক ছিল। ওর মৃত্যু চরম ক্ষতি। কিন্তু ভোলা প্রসাদ কে দেখেই সকলেই চিনতে পারে। সোনার গয়নায় মোড়ানো একটা মানুষ। সতীশের মত ভালো ছেলে ওর কাটা হয়েছিল।” পাশাপাশি প্রথমে সিপিএম করলেও পরবর্তীতে এই ভোলা প্রসাদ বিজেপির ঘনিষ্ঠ বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে ভোলার সাথে বিজেপির কোন যোগই যে নেই তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তবে এই সতীশ মিশ্রের মৃত্যু নিয়ে এখন যে রাজনৈতিক দল যাই বলুক না কেন! নিজের সন্তান, পরিজন বিদায় বেদনার ব্যথা কতটা কষ্টকর তা একমাত্র বুঝতে পারছে সেই নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!