এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > আমি নষ্ট মেয়েমানুষ ———— ( ১ অংশ ) – কলমে অপরাজিতা – (প্রিয়বন্ধু নিজস্ব )

আমি নষ্ট মেয়েমানুষ ———— ( ১ অংশ ) – কলমে অপরাজিতা – (প্রিয়বন্ধু নিজস্ব )

 

আমি অনামিকা, আজ আমি আমার গল্প বলবো। জানিনা কে কে বুঝতে পারবে এটা কার গল্প – তবে আমি জানি আমার পিউ বুঝতে পারবে যে এটা তার মার্ গল্প। আমার ছোট্ট পিউ আজ বড় হয়ে গেছে। কয়েকদিন হলো শশুরবাড়ি গেছে। পিউ আমার মেয়ে, আমার বন্ধু আমার বাঁচার একমাত্র অবলম্বন।

আমার জীবনের এক মুহূর্তের একটা ভুল আমার জীবনটা তছনছ করে দিলো। ওই মুহূর্তটা যদি না আসতো আমার জীবনে তাহলে হয়তো আমার জীবনটা অন্য রকম হতো।ভগবান আমায় রূপ দিয়েছে উদার হাতে।সত্যিই সুন্দরী ছিলাম আমি।তখন সবে কলেজে ভর্তি হয়েছি ১৮ বছর বয়েস আমার। যাকে তাকে আমার কাছে ঘেঁষতে দিতাম না আমি, সব ছেলেরা পাগল আমার জন্য। অহংকার নয়, ভয় লাগতো আমার। এক দূর সম্পর্কের দিদি প্রেমে আঘাত পেয়ে সুইসাইড করেছিল। আমি এসবের জন্য নিজেকে গুটিয়ে রাখতাম।

আমাদের কলেজে একদিন আমার এক বন্ধু তার দূর সম্পর্কের দাদার সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিলো সেও এই কলেজেই পরে থার্ড ইয়ার। দেখতে খারাপ নয়,খুব সুন্দর কবিতা বলে ,খুব সুন্দর কথা বলে ,গায়ে পড়া তো মোটেই নয়, অপরের দুঃখে আগে ছুটে যেত ,ভালো লাগতে শুরু করলো আমার। একসঙ্গে গল্প করতাম ,আস্তে আস্তে কখন যে ভালো বেসে ফেললাম বুঝলাম ই না। ও আমাকে ভালোবসে জানালো। কাউকে বলতে মানা করলো আমাদের সম্পর্কের কথা।

আমরা বাইরে লুকিয়ে দেখা করতে লাগলাম। এমন ই এক দিনে ও আমাকে ওর এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে গেলো আমি বোকার মতো চলে গেলাম ওকে বিশ্বাস করে। এদিকে আমার বিয়ের দেখাশোনা শুরু হয়েছে ,আমি ওকে বললাম আর জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলাম। বাড়িতে কেউ ছিল না তাই সেই সুযোগ নিলো সে। আমি প্রথমে বাধা দিলেও আমিও ভেসে গেলাম ওর সাথে। সেই খানিকের দুর্বলতায় আমার সব কিছু শেষ হয়ে গেলো।

পাগলের মতো ওকে আঁকড়ে ধরলাম। তারপর ২ দিন আমি কলেজে ওকে দেখতে পেলাম না। ওর বোনকে জিজ্ঞাসা করলাম ও কিছু বলতে পারলো না। ৩ দিনের দিন ও কলেজে এলো কিন্তু আমাকে কেমন যেন এড়িয়ে গেলো, আমি কিছু বুঝলাম না। ওকে খুঁজতে ওর ক্লাসে গেলাম দরজায় থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম।ও ওর বন্ধুদের সাথে আমার শরীর নিয়ে আলোচনা করছে,আমার দম্ভ ভেঙেছে ও ,ও জিতে গেছে বেটে। বেট,ও বেট করেছিল আমার সঙ্গে প্রেম করবে, জিতে গেছে।

আমি নিজের কানগুলোকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। কোনো রকমে পালালাম বাড়ি এলাম।কোনো জ্ঞান ছিল না আমার। আমি এত বড় ভুল করলাম শুধু এই ভাবছি। ভয় করছে বাড়িতে যদি জেনে যায় কি হবে আমার। পাগল লাগছে। ভয় ,অস্বস্তি,লজ্জা,কষ্ট,কি হচ্ছিলো আমি জানি বুঝিয়ে বলার ক্ষমতা নেই আমার। ২ দিন কলেজ গেলাম না।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

 

আমার এক পাড়ার দাদা খবরটা নিয়ে এলো। যে এককালে আমাকে অনেকবার বলেছে ভালোবাসে আমি পাত্তা দিই নি। পাড়াতে জানলো,বাড়িতে জানলো ,আত্মীয় স্বজন সবাই জানলো আমি চরিত্রহীনা। আমার ভাবাসার দান। চুলের মুঠি ধরে আমায় ঘর থেকে বাইরে উঠানে বার করা হলো। চড়, থাপ্পড়,মারধর চললো ,সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগালি। দোষ করছি আমি ,দোষ নয় অপরাধ – চরম অপরাধ যার কোনো ক্ষমা নেই। আমাকে তো এই শারীরিক আঘাত সহ্য করতেই হবে , লাগলো না একটুকুও।

সবাই যখন মারতে মারতে থামলো তখন আমার কাছে সব জানতে চাওয়া হলো। আমার সেই বান্ধবীকে খুঁজে তার দাদার ঠিকানা জোগাড় করা হলো সে ফেরার। তাকে খুঁজে পাওয়া গেলো না। আমি অচ্যুত হয়ে গেলাম আমার সেই আপনজনের কাছে। যারা একদিন আমাকে চোখে হারাতো,তাদের কাছ আমি ২ চোখের বিষ হয়ে গেলাম।আমার পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হলো। লোকের কাছে মুখ দেখানো ভার হয়ে গেলো আমাকে নিয়ে।

মারতে গেলাম সবাই আটকে দিলো,আমাকে বেঁচে থেকে তিলে তিলে মারতে হবে একেবারে মোর বাঁচবো এ তো হবার নয়। আমাকে মামার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হলো। মামাদের কাছে যে আমি এত প্রিয় ছিলাম তখন গলগ্রহ। মামীরা তাদের ছেলে  মেয়েদের সাথে আমাকে মিশতে দিলো না আমার মতোই নষ্ট হয়ে যাবে ওরা। খবর ছাড়াতে বেশি দেরি হলো না। মামারবাড়ি থেকে আমাকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো আবার বাড়িতে। আবার শুরু হলো সেই একই অত্যাচার। আমি এর বাড়ি আর ওর বাড়ি ঘুরছি, লাঠি ঝাঁটা খাচ্ছি ।

প্রায় ৩ মাস পর এমন ভাবেই আমি আমার বড় পিসির বাড়ি গেলাম। সেখানে একদিন পিসির ননদ এলো তার জাকে নিয়ে।তার আমাকে দেখে ভারী পছন্দ হলো তার মাসির ছেলের বৌ করতে চায়। একটাই ছেলে ভালো চাকরি করে। দোষের মধ্যে সে আমার থেকে ১৮ বছরের বড় আর তার আগে একবার বিয়ে হয়েছিল কিন্তু বৌ মরে গেছে ,লোকে বলে ওরাই নাকি মেরে দিয়েছে। পাড়ায় যেহেতু রটে গিয়েছিলো তাই ভ্যাংচি পড়ছে বিয়ে হচ্ছে না। আমরা যদি রাজি থাকি তবে যোগাযোগ করবে।পিসি আমাকে নিয়ে বাড়ি এলো, সবাই হামলে পড়লো আমার মতো নষ্ট মেয়ের এর থেকে আর কি ভালো পাত্র জুটবে।এ পাত্র যেন হাতছাড়া না করা হয়। অতএব পিসির বাড়ি থেকে দেখাশোনা আর বিয়ে ২ টি হয়ে গেলো। আমাকে দিয়ে দিব্বি করানো হল আমি আমার অতীত নিয়ে যেন কোনো কথা না বলি। তারা আমাকে আমার অতীত না জেনেই বৌ করে ঘরে তুললো।

আমায় ফুলসজ্জার রাত্রে আমার স্বামী জানালো তার মায়ের সব কথা যেনো আমি শুনি আর মায়ের নাম কোনো অভিযোগ সে শুনবে না। আগের বৌয়ের কোনো কথা যেন আমি না জিজ্ঞাসা করি।আমিও আমার অতীতের কথা বলতে সাহস পেলাম না।আমার আপত্তি স্বত্তেও তিনি আমাকে জোর করলেন। আমার শশুর শাশুড়ি আমাকে জানিয়ে দিলেন আমায় যেন রোজ রোজ বাপের বাড়ি যাবার বায়না না করি আর বুঝিয়ে দিলেন কি কি কাজ করতে হবে। তারা খারাপ মানুষ নন। আগের বৌকে মেরে দিয়েছিলো কিনা জানি না তবে মনে হয় নি আমার তেমন কিছু। আমার খুব ভয় করতে লাগলো যদি এর জেনে যায়,আমাকে যদি বাড়ি থেকে বার করে দেয় ?

বাকি অংশ পড়তে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধুর পেজে —

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!