এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপম হাজরার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে খুশির জোয়ার এই শিবিরে

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপম হাজরার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে খুশির জোয়ার এই শিবিরে

একই দিনে যেন জোড়া পতন ঘটল তৃণমূলে। একদিকে নয়াদিল্লিতে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের বিজেপিতে যোগদান, আর অন্যদিকে সেই সৌমিত্র খাঁয়ের পথ মাড়াতে পারেন বোলপুরের তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরা-সেই আশঙ্কায় আগেভাগেই এদিন তৃণমূল ভবন থেকে অনুপম হাজরাকে বহিষ্কার করার ঘটনায় তোলপাড় হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি।

প্রসঙ্গত, বীরভূম জেলার রাজনীতিতে জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলই শেষ কথা বলেন। বিরোধী তো বটেই, শাসকদলের জেলার হেভিওয়েট নেতারাও সেই অনুব্রত বাবুর দাপটে কার্যত ভয়ে তটস্থ থাকেন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও অত্যন্ত প্রিয় পাত্র বলে পরিচিত এই অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট।

আর বিভিন্ন সময়ে সেই জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে বিভিন্ন বিরোধী মন্তব্য করে শোরগোল তুলে দিয়েছিলেন বোলপুরে তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরা। যা নিয়ে দলের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও এব্যাপারে কোনোরূপ কর্ণপাত করেননি তিনি। আর এহেন একটা পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সেই অনুপম হাজরাকেই দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কার করায় তীব্র খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ও তার শিবিরে।

জানা গেছে, কখনও সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁর ডাক না পাওয়া, তো কখনো বা নেতাজিকে বড় করতে গিয়ে গান্ধীজিকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা, আবার কোনো সময় কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মালকে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী বলে বিতর্কে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন বোলপুরের এই তৃণমূল সাংসদ। যা নিয়ে সেই অনুপম হাজরার প্রতি তীব্র রুষ্ট হয়েছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীরা।

সূত্রের খবর এদিন নয়াদিল্লিতে যখন সৌমিত্র খা বিজেপিতে যোগদান করছেন ঠিক তখনই ফের নিজের টুইটার থেকে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন বোলপুরের তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, “গত চার বছর ধরে জেলায় একটাও কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ডাক না পেয়েও জেলাতে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিবন্ধী হয়েও দিদির প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি। আর তুই পারলি না!”

আর এইখানেই তীব্র জল্পনা তৈরি হয় যে, তাহলে কি রাজনৈতিক প্রতিবন্ধী বলতে নিজেকেই বোঝাতে চাইলেন বোলপুরের এই তৃণমূল সাংসদ! এদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও আর বেশি দেরি করা হয়নি এই বিতর্কে ইতি টানার জন্য। সাথে সাথেই সৌমিত্র খাঁর পাশাপাশি বোলপুরের অনুপম হাজরাকেও বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয় শাসক দল। আর এই অনুপম হাজরাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তেই এখন তীব্র খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীদের মধ্যে।

 

আমাদের খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে, নীচের যে কোন একটি করুন –

১. যোগ দিন আমাদের WhatsApp Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
২. যোগ দিন আমাদের Telegram Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৩. যোগ দিন আমাদের Facebook Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৪. যোগ দিন আমাদের Twitter Handle – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৫. যোগ দিন আমাদের Google+ Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৬. যোগ দিন আমাদের LinkedIn Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৭. যোগ দিন আমাদের Tumblr গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৮. বুকমার্ক করে রাখুন আমাদের Official Home Page – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৯. যোগ দিন আমাদের YouTube Chanel – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
১০. যোগ দিন আমাদের Facebook Page – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

 

এদিন এই ব্যাপারে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মন্ডল প্রকাশ্যে কিছু না বললেও এই প্রসঙ্গে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী বলেন, “অনুব্রত মণ্ডলের নেতৃত্বে গোটা জেলা জুড়ে উন্নয়নে কর্মযজ্ঞ চলছে। যা নিয়ে রাজ্য নেতৃত্ব প্রবল খুশি। কিন্তু অনুপম হাজরা মাঝেমধ্যেই বিতর্কিত পোস্ট করেছিলেন যাতে আমাদের দলেরও অস্বস্তি’ বাড়ছিল।”

অন্যদিকে এই ব্যাপারে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইনটিটিইউসির জেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, “সংসদ সদস্য হলে যে একটা নৈতিক দায়িত্ব থাকে তা পালনই করেনি অনুপম হাজরা। তাই যা হয়েছে ভালই হয়েছে।” এদিকে এই ব্যাপারে অনুপম হাজরার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়ও।

এদিন তিনি বলেন, “যখন আমরা সবাই এক হয়ে অনুব্রত মণ্ডলের নেতৃত্বে জেলায় উন্নয়ন ও সাংগঠনিক ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি, ঠিক তখনই ফেসবুক-টুইটারে বিভিন্ন অস্বস্তিকর মন্তব্য করে দলকে বিপাকে ফেলেছিলেন অনুপম হাজরা। লোকসভা ভোটের আগে ওঁকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত একেবারেই সঠিক।” সব মিলিয়ে এবার অনুপম হাজরার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে বেজায় খুশি বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীরা।

Top
Close
error: Content is protected !!