এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দল থেকে বহিস্কৃত হয়ে প্রকাশ্যেই তৃণমূল নেত্রী ও ‘কাকুকে’ বার্তা দিলেন অনুপম হাজরা – ঝড় রাজ্য-রাজনীতিতে

দল থেকে বহিস্কৃত হয়ে প্রকাশ্যেই তৃণমূল নেত্রী ও ‘কাকুকে’ বার্তা দিলেন অনুপম হাজরা – ঝড় রাজ্য-রাজনীতিতে

তৃণমূল কংগ্রেসের বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ রীতিমত বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দল ছাড়ার পরেই তৃণমূল কংগ্রেস মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন যে সেদিন সকালেই নাকি সৌমিত্রবাবুকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। দলীয় সাংসদকে দল থেকে বহিস্কার করা হল – অথচ তা নিয়ে কোনো প্রেস-মিট বা প্রেস-বিজ্ঞপ্তি হল না! এই নিয়ে যখন ফিসফাস – ঠিক তখনই নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে সৌমিত্রবাবুর উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দেন বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরা।

বরাবরই সোজা কথা সোজা ভাবে বলে বিতর্ক বাড়ানো এই সাংসদ সেদিন নিজের ট্যুইটারে লেখেন, তিনি নাকি গত সাড়ে চার বছর ধরে নিজের কেন্দ্রেই ‘রাজনৈতিক হ্যান্ডিক্যাপড’ হয়ে আছেন – তা সত্বেও তিনি দল ছাড়েননি। আর সৌমিত্র খাঁ দল ছেড়ে দিলেন এইভাবে? বিস্ময়ের এই প্রশ্নের সাথেই অনুপমবাবু সৌমিত্রবাবুকে রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ‘শুভেচ্ছা’ জানান। আর এরপরেই, কালবিলম্ব না করে পার্থবাবু অনুপমবাবুকেও দল থেকে ‘দলবিরোধী’ কাজের জন্য বহিস্কার করেন।

এরপরেই, অনুপমবাবু প্রশ্ন তোলেন তিনি সারদা বা নারদ কেলেঙ্কারিতে যুক্ত নন, তাঁর নামে তোলাবাজি বা অন্য কোন আর্থিক দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই – তাহলে তিনি ঠিক কি দলবিরোধী কাজ করেছেন? আর, রাজ্যের শাসকদলের এহেন সিদ্ধান্তের পরে জল্পনা ওঠে বন্ধু সৌমিত্র খাঁয়ের দেখানো পথেই অনুপম হাজরাও নাকি গেরুয়া শিবিরে যোগদান করতে পারেন। এই জল্পনা আরও গতি পায়, যখন গত ১১ ই জানুয়ারী ট্যুইট করে জানান – তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পর বিগত ৪৮ ঘন্টায় তিনি সাড়ে সতেরো হাজারেরও বেশি ‘কনগ্র্যাচুলেশনস’ মেসেজ পেয়েছেন!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এরপর গতকাল অনুপমবাবু আবারো নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে নাম না করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বার্তা দিয়ে লেখেন, মিডিয়াতে পার্থদার মন্তব্যে মর্মাহত। আপনার আদর্শে আঁচ পড়ে এযাবৎ এমন কাজ সজ্ঞানে করার কথা ভাবতেই পারি না। যদি, যথার্থই দলের স্বার্থে পার্থদা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে তা অবশ্যই সমর্থনযোগ্য। কারণ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ দলের প্রকৃত স্বার্থের ঊর্ধে নয়। আপনার আশীর্বাদপ্রার্থী। যদিও অনুপমবাবু দলনেত্রীর নাম নেন নি – তবুও এটা যে তাঁকেই প্রকাশ্য বার্তা তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

আর এই ট্যুইটে সত্যি করে কি আভাস দিতে চাইলেন অনুপমবাবু তা নিয়ে যখন জল্পনা চরমে – ঠিক তখনই তিনি এবার ‘কাকুকে’ খোলা বার্তা দিয়ে চমকে দিলেন। কারোর নাম না করলেও অনুপমবাবু যে বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডলকেই বার্তা দিলেন মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কেননা অনুপমবাবু ও অনুব্রতবাবুর বিবাদ সর্বজনবিদিত। এমনকি অনুপমবাবুর বহিস্কৃত হবার খবরে রীতিমত উল্লসিত প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন অনুব্রত মন্ডল শিবির।

আজ নিজের ট্যুইটারে অনুপমবাবু লেখেন, গত ২/৩ দিনে ছোট-বড়-মাঝারি নেতাদের (তার মধ্যে কিছু আবার কাকু-ঘনিষ্ঠ) ফোন পেয়ে যা বুঝলাম – বোলপুর লোকসভা এলাকায় (ভয়ে) অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে আছেন কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস করেন না! তাই ভাবছি ট্রেন্ডটা একটু পাল্টে – একটু অন্যভাবে – একটু ভালোবেসে রাজনীতি করলে কেমন হয়?! কারণ ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে – ভয়ের রাজনীতি করে ক্ষমতা ধরে রাখা ক্ষণস্থায়ী কিন্তু ভালোবেসে রাজনীতি করলে, সেটা তুলনামূলকভাবে সবসময়েই দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে!!

স্বাভাবিকভাবেই অনুপমবাবুর একের পর এক এইসব ইঙ্গিতবাহী ট্যুইট ঘিরে তীব্র জল্পনা ঘুরছে রাজ্য-রাজনীতিতে। একদলের দাবি, তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পিছনে পার্থবাবুর ভুল বোঝা আছে – তিনি দলে ফিরে যেতে উৎসুক, তাই দলনেত্রীকে বার্তা দিলেন। আবার অপরপক্ষের দাবি, অনুপমবাবু তাঁর এতদিনের রাজনৈতিক আদর্শের ‘আশীর্বাদ’ নিয়ে ‘ভয়ের’ রাজনীতির পাল্টা ‘নতুন ইনিংসের’ বার্তা দিতেই এই সব বার্তা দিলেন। সত্যিটা আসলে কি? জানতে বোধ হয় আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

Top
error: Content is protected !!