এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > বিরোধী দলে ভাঙ্গন ও নিজের দলের সাংগঠনিক পরিবর্তন – একুশের লক্ষ্যে গড় সাজিয়ে নিচ্ছেন অনুব্রত

বিরোধী দলে ভাঙ্গন ও নিজের দলের সাংগঠনিক পরিবর্তন – একুশের লক্ষ্যে গড় সাজিয়ে নিচ্ছেন অনুব্রত

বীরভূমে তাঁর দাপটে বিরোধীরা নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে কার্যকলাপ, কোনো কিছুই করতে পারে না বলে মাঝেমধ্যেই অভিযোগ ওঠে। কখনও চরাম চরাম, আবার কখনও বা গুড় বাতাসার কথা বলে ভোটের আগে বাজার গরম করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট তিনি। তবে শুধু পরোক্ষে বিরোধীদের হুমকি দেওয়াই নয়, তার কাছে দলের কর্মীরা যদি ভালো পারফর্মেন্স না দেন, তাহলে তাদেরকেও যে রোষানলের মুখে পড়তে হবে, তা অতীতেও প্রমান করে দিয়েছেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

আর এবার আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে লোকসভার ফলাফল নিয়ে পর্যালোচনা করতে গিয়ে বিধানসভা ভিত্তিক বিভিন্ন জায়গায় দলীয় নেতৃত্বদের ধমক দিচ্ছেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি। বস্তুত, এবারে সারা রাজ্যে বিজেপি হাওয়া কাজ করলেও বীরভূম জেলার একটি আসনও বিজেপির দখলে যায়নি। সেখানে দুটি আসনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। তবে বিধানসভা ভিত্তিক বেশকিছু বুথে শাসক দলের পরাজয় ঘটেছে। যা নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে দলের অন্দরেই।

ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন বিধানসভায় বুথভিত্তিক সম্মেলন শুরু করে দিয়েছেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি। যেখানে হারের জন্য কখনও ধমক, আবার কখনও বা সংগঠনের হাল-হকিকত কিভাবে ফেরাতে হবে, তার জন্য নির্দেশ দিতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। আবার বিরোধীদের কুপোকাত করতে বেশকিছু সভা মঞ্চ থেকে সেই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের তৃণমূলের পতাকা ধরিয়ে দিচ্ছেন তিনি। সূত্রের খবর, শনিবার তারাপীঠের বেসিক মোড়ে হাসন বিধানসভার বুথভিত্তিক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

যেখানে উপস্থিত হন, বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, টিডিএসের ভাইস চেয়ারম্যান তথা রামপুরহাট 2 ব্লকের সভাপতি সুকুমার মুখোপাধ্যায়, সৈয়দ সিরাজ জিম্মি, বোলপুরের তৃণমূল সাংসদ অসিত মাল, অবজার্ভার ত্রিদিব ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা। আর সেখানেই এক একটা বুথ নিয়ে পর্যালোচনা করতে গিয়ে যে বুথে হার হয়েছে, সেখানকার নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় ধমক দেন অনুব্রত মণ্ডল। পাশাপাশি বেশ কিছু জায়গায় সাংগঠনিক রদবদল করতেও দেখা যায় তাঁকে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

শীতলগ্রাম অঞ্চলের এগারোটা বুথের মধ্যে আটটিতেই তৃণমূল হেরে যাওয়ায় সেখানে ফাইভম্যান কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন জেলা তৃণমূল সভাপতি। এদিকে বিষ্ণুপুরে 21 টি বুথের মধ্যে সতেরোটিতেই তৃণমূলের পরাজিত হওয়ায় অঞ্চল সভাপতি নন্দদুলাল দাসকে কড়া ভাষায় ধমক দেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, “আপনি না পারলে ফাইভ ম্যান কমিটি করে দিচ্ছি।” তবে এরপর এই অঞ্চল সভাপতি অবশ্য বিধানসভায় এই অঞ্চল থেকে 1500 ভোটে লিড দেওয়ার কথা দেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতিকে।

অন্যদিকে সাহাপুর অঞ্চলের 25 টির মধ্যে 17 টিতে তৃণমূলের হার নিয়ে নিজের ব্যাথিত মনোভাব প্রকাশ করেন জেলা তৃণমূল সভাপতি। তিনি বলেন, “টিআরডিএ গঠন হওয়ার পর যে পরিমান কাজ হয়েছে, তাতে এই হার খুবই কষ্টের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারাপীঠের উন্নয়নে কোনো টাকা আটকান না।” আর এরপরই সাহাপুর জিপির ওপর ব্লক সভাপতিকে বাড়তি নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি অঞ্চল সভাপতির মাথায় কার্যকরী সভাপতি বসানোর সিদ্ধান্ত নেন জেলা তৃণমূল সভাপতি।

শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলে যাতে ঠিকমত কাজ করা হয়, তার জন্য জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহ-সভাপতি নিতাই মালকে দেখবার নির্দেশ দেন অনুব্রত মণ্ডল। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এই তারাপীঠ সংলগ্ন সাহাপুর অঞ্চলের হার নিয়ে নিজের দুঃখিত মনোভাব প্রকাশ করেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের প্রধান ব্যক্তি। তিনি বলেন, “তারাপীঠের অধিকাংশ মানুষ বাইরের। এই তারাপীঠে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা সত্ত্বেও মানুষ কেন মুখ ফিরিয়ে নিল, তা মা তারাই দেখবেন। মায়ের সঙ্গে তো আমরা ঠকবাজি করিনি।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনের বিধানসভা নির্বাচনে যাতে লোকসভার মত ফলাফল না হয়, তার জন্য এখন থেকেই বিধানসভা ভিত্তিক সম্মেলন করতে শুরু করে দিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। এদিন সেরকমই হাসন বিধানসভায় সম্মেলন করে একদিকে দলীয় সংগঠনের রদবদল, আর অন্যদিকে অন্য দল থেকে কর্মী-সমর্থকদের দলে যোগদান করিয়ে শক্তিশালী সংগঠনের বার্তা দিলেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি। অনুব্রত মন্ডলের একটাই লক্ষ্য গোটা বীরভূমে যেন মাথা তুলতে না পারে পদ্মশিবির। আর তাই, বিরোধী দলে ভাঙ্গন ও নিজের দলের সাংগঠনিক পরিবর্তন – একুশের লক্ষ্যে ক্রমশ গড় সাজিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!