এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > পদ হারালেন অনুব্রত – ঘনিষ্ঠ হেভিওয়েট নেতা! চাঞ্চল্য শাসকদলের অন্দরেই!

পদ হারালেন অনুব্রত – ঘনিষ্ঠ হেভিওয়েট নেতা! চাঞ্চল্য শাসকদলের অন্দরেই!

2019 সালে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে 42 এ 42 এর স্বপ্ন দেখা তৃণমূল কংগ্রেস মুক্ত করে করলেও নিজের গড় রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। এই জেলায় দুটি আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

কিন্তু গোটা রাজ্যে তৃণমূলের এই ভরাডুবির পেছনে কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে নবনিযুক্ত তৃণমূলের নির্বাচনী রণনীতিকার জানতে পেরেছেন, অনেকগুলো কারণের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের একাংশের অসংযত মন্তব্য তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা পালন করেছে। আর এই বিষয়ে যে সব থেকে বেশি এগিয়ে রয়েছে অনুব্রতবাবু, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এবার বীরভূম জেলার প্রতি বিশেষ নজরদারি রেখেছেন পিকের টিম। জেলার ক্ষেত্রে অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহনের পিছনে এই পিকের টিমের অদৃশ্য হাত লক্ষ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আর সম্প্রতি খয়রাশোলে তৃণমূলের পর্যবেক্ষক পদ থেকে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরীর অপসারণ তৃণমূলের সাংগঠনিক পট পরিবর্তনের একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার বোলপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কমিটির বৈঠকে এই রকম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এই ব্যাপারে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অভিজিৎ সিংহ বলেন, শনিবার জেলা কমিটির বৈঠকে ব্লক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে খয়রাশোলের বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিকাশবাবু জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসাবে অনেক কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকেন। তাছাড়া সিউড়ি শহরের রাজনগর ব্লকের তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তাই খয়রাশোলের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গায় দলের সর্বক্ষণের নেতা হিসাবে অরুণ চক্রবর্তীকে পর্যবেক্ষককের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও সরকারি দলের পর্যবেক্ষক হিসেবে দুবরাজপুর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পীযূষ পান্ডেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নবনিযুক্ত খয়রাশোলের পর্যবেক্ষক অরুণ চক্রবর্তী বলেন, দলের জেলা সভাপতি যে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি তা সার্থক করতে সব রকম ভাবে চেষ্টা করব। তিনি এও জানান, এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হবে।

এই বিষয়ে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে বোলপুরের তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির বৈঠক করা হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। পাশাপাশি দলের জেলা কমিটির নেতা এবং ব্লকের সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। উক্ত বৈঠকে অনুব্রত মণ্ডল জেলার কয়েকটি ব্লকের সংগঠন নিয়ে পর্যালোচনা করে পাশাপাশি রাজ্যের নির্দেশ অনুযায়ী এনআরসির প্রতিবাদে প্রত্যেকটি ব্লকে ব্লকে মিছিল করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এই বৈঠক থেকে তৃণমূল সূত্রে আরও জানা গেছে, বীরভূমের খয়রাশোল ব্লক দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। এই ব্লকে কোনো ব্লক সভাপতি নেই অনেকদিন হল। তাছাড়াও দলের গোষ্ঠী কোন্দলের কারণে জেরবার হয়ে রয়েছে শাসক দল। একাধিকবার গন্ডগোলের ঘটনা সামনে এসেছে এর পাশাপাশি ব্লক সভাপতি খুন হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে খয়রাশোল ব্লকে। তাই বিধানসভা নির্বাচনের পর একটি ব্লক পরিচালন কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। সেই কমিটির মাথায় পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী। সহকারি পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন অরুণ চক্রবর্তী। এই পরিচালন কমিটিতে খয়রাশোলের তৃণমূল নেতারাও ছিলেন।

অনেকে মনে করেন, বিকাশবাবু পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও খয়রাশোলের অশান্তি থামাতে পারেনি। কিছুদিন আগেও কাকরতলায় এক পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে। আর তাতে নতুন করে ওই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এছাড়াও গত লোকসভা ভোটে খয়রাশোল এলাকায় তৃণমূল বিজেপির তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে পড়ে। আর দলের এই ভরাডুবির পেছনে যে গোষ্ঠী কোন্দল দায়ী, এই বিষয়ে সন্দেহ নেই।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, একাধিকবার গন্ডগোলে সেখানকার মানুষ যথেষ্ট ভীত হয়ে পড়েছে তৃণমূলের প্রতি। তাই তারা শাসকদলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর তাই আগামী 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে খয়রাশোল ব্লক তৃণমূলের পক্ষে কতটা নিরাপদ জায়গায় থাকবে, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে দলীয় কর্মীদের মধ্যে। দুবরাজপুর বিধানসভা আসনের অন্তর্গত খয়রাশোল ব্লক। তাই জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চিন্তার কারণ। যদিও অভিজিৎ বাবু বলেন, আসলে বর্তমানে সাংগঠনিক অবস্থা ভালো জায়গায় রয়েছে।

কিন্তু বিশেষ সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশবাবু “দিদিকে বলো” কর্মসূচি পালন করতে খয়রাশোলে গিয়েছিলেন। সেখানে বহু মানুষ তার কাছে নানান ধরনের অভিযোগ জানিয়েছেন। তাই কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে বিকাশবাবুকে পর্যবেক্ষক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। তবে এই বিষয়ে বিকাশবাবু জানিয়েছেন, “ব্লকের পর্যবেক্ষক হিসেবে এলাকায় আমি কি কাজ করেছি তাই এলাকার মানুষ খুব ভালোমত জানেন। ব্লকের প্রত্যেকটি অঞ্চলেই সমন্বয় কমিটি গঠন করার কাজ শুরু করেছিলাম। তবে সভাপতির পাশাপাশি সিউড়ি সহ অন্যান্য এলাকার দায়িত্ব মাথার উপরে থাকায় যথেষ্ট চাপ হচ্ছিল। তাই বারবার দলকে জানিয়েছি। খয়রাশোল ব্লকের পর্যবেক্ষক থেকে অব্যাহতি চাওয়ার জন্য অবশেষে দল আমাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তবে খয়রাশোলের দিকে নজর থাকবে। সেখানে উন্নয়নের কাজ সমানতালে চলবে।”

কিন্তু আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক পদ পরিবর্তন বীরভূম জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস কে কি স্বাভাবিক জায়গায় থাকতে পারবে, নাকি লোকসভা নির্বাচনে বিভিন্ন এলাকায় এগিয়ে থাকার সুবাদে খুশির খবর আসবে গেরুয়া শিবিরের পক্ষে! এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশেষজ্ঞরা।

Top
error: Content is protected !!