এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > অনুব্রত মণ্ডলের “ভোট চুরির” বার্তা কি নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ভাবমূর্তি খারাপ করবে?

অনুব্রত মণ্ডলের “ভোট চুরির” বার্তা কি নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ভাবমূর্তি খারাপ করবে?

Priyo Bandhu Media

2011 সালে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, প্রায় সব নির্বাচনের আগেই একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে উঠে আসছে বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টকে।

কখনও পুলিশকে বোম মারা, তো কখনও বা গুড় বাতাসা খাইয়ে দেওয়া – আবার কখনও রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে, তো আবার চড়াম চড়াম ঢাকের শব্দ – বিরোধীদের উদ্দেশ্যে নানা ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল বীরভূমের জেলা তৃণমূলের সভাপতিকে। কিন্তু এবার হঠাৎই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগেই সেই অনুব্রত মণ্ডলের মুখের বিস্ফোরক মন্তব্যকে ঘিরেই সরগরম হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বীরভূমের সিউড়িতে একটি কর্মী সভায় উপস্থিত হয়ে প্রত্যেক বুথ সভাপতিকে ডেকে আগামী লোকসভা নির্বাচনে তারা নিজের এলাকা থেকে কত লিড দিতে পারবেন তা জানতে চান অনুব্রত মন্ডল। আর এরই মাঝে হঠাৎই চাতরার বুথ সভাপতিকে ডেকে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “ভোট চুরি করতে পারবেন?” সাথে সাথে সেই বুথ সভাপতি বলেন, “হ্যাঁ পারব।” আর প্রকাশ্যে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতির এহেন মন্তব্যকে ঘিরেই ‌এবার সরগরম হয়ে উঠতে শুরু হচ্ছে বঙ্গের রাজনীতি।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচন এই রাজ্যে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ব্যাপক সন্ত্রাস করেছে এই অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে বিরোধী দলগুলো। আর এরই মাঝে বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতির “ভোট চুরির” নিদান সেই বিরোধীদের হাতে শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে এক নতুন অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

এদিকে প্রথম দিন ভোট চুরির কথা বললেও পরবর্তীতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন সেই বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি। মুরারইয়ে গিয়ে সেখানকার এক বুথ সভাপতিকে একই প্রশ্ন করলে সাথে সাথেই ঢোক গিলে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “ভোট চুরি মানে আমি চুরির কথা বলেছি।” তবে অনুব্রত মন্ডল যতই ব্যাপারটিকে ঢাকবার চেষ্টা করুন না কেন, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা হিসেবে তিনি যেভাবে লোকসভা নির্বাচনের আগেই ভোট চুরির পরামর্শ নিজের নেতাকর্মীদের দিচ্ছেন, তাতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অঙ্গুলিহেলনে রাজ্যে যে সন্ত্রাস হতে পারে সেই আশঙ্কা এখনই উড়িয়ে দিতে পারছেন না অনেকেই।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসকদলের এই হেভিওয়েট নেতার কথায় তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক কিছুটা হলেও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কেননা সাধারণ মানুষ যেনতেন প্রকারেণ নির্বাচনের উৎসবে অংশগ্রহণ করতে চায়। ফলে আর যাই হোক না কেন তারা ভোটটা যাতে দিতে পারেন তার জন্য সকলেই আপ্রাণ চেষ্টা করেন। আর সেই নির্বাচনের আগেই ভোট চুরির কথা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের মুখে শোনা গেলে শাসকদলের ওপরে যে মানুষ কিছুটা হলেও বিরাগভাজন হবেন তা এককথায় বলাই যায়।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!