এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > মানুষের কাজ করার জন্যে পঞ্চায়েতে বসেছেন, লুট করার জন্য নয় জেলে ভরে দেব: অনুব্রত

মানুষের কাজ করার জন্যে পঞ্চায়েতে বসেছেন, লুট করার জন্য নয় জেলে ভরে দেব: অনুব্রত

দায়িত্বে থেকেও মানুষের প্রয়োজনে কাজ না করতে পারলে পঞ্চায়েত প্রধান-উপপ্রধানদের জেলে ভরে দেওয়ার কড়া নিদান দিলেন অনুব্রত মন্ডল। তিনি বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী নেতাও। চাঁচাছোলা ভাষায় বিরোধীদের আক্রমণ করার রেকর্ড রয়েছে তাঁর,তেমনি দলীয় কর্মীরা ঠিকঠাক কাজ না করলেও ধমক দিতে পিছপা হন না তিনি।

এমনকী দল থেকে বের করে দেওয়ারও হুঁসিয়ারী প্রকাশ্যেই দিয়ে দেন তৃনমূলের এই হেভিওয়েট নেতা। এদিন বিকালে নলহাটি-১ ব্লকের হরিপ্রসাদ হাইস্কুল মাঠে প্রকাশ্য জনসভায় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সতর্ক করে দিয়ে বললেন, যদি কোনো পঞ্চায়েত সদস্য সরকারি বাড়ি দেওয়ার নাম করে টাকা চাইতে আসে আর সেটা যদি তাঁর কানে যায়,তাবে দল থেকে ছাঁটাই করে দেওয়া হবে তক্ষুনি,শুধু তাই নয় চোর অপবাদ দিয়েও জেলেও ভরে দেওয়া হবে।

পাশাপাশি ধমক দিয়ে বললেন,’মানুষের কাজ করার জন্য পঞ্চায়েতে বসেছেন, লুট করার জন্য নয়। পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানরা যা ইচ্ছে করবেন এটা মানব না, সরিয়ে দেব।’ স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে নেতার বার্তা,এরকম কোনো দুর্নীতিমূলক কাজ হতে দেখলেই তাঁরা যেন সোজা থানার ওসির কাছে যান। এদিনের সভায় এলাকায় পানীয় জলের জন্যে ১২ টি সাবমার্সিবল বসিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরীকে।

এছাড়াও ব্লকে ১০-১৫ টি কালভার্টের টেন্ডার ও একটি ৫০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকার রাস্তাও করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিছু দালাল চক্র অনুব্রত বাবুর নাম করে সরকারি বাড়ি করিয়ে দেওয়ার নামে টাকা তুলছে,এমনটা কানে এসেছে তৃনমূল নেতার। এদের সকলকেই তিনি জেলে ভরবেন,এমনটাই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন তিনি। আর একারণেও এই পঞ্চায়েত সদস্যদের উদ্দেশ্যে কড়া নিদান দিলেন তিনি।

দলীয় সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৯’ এর বিগ্রেড সভায় জেলা থেকে ৬ লক্ষ মানুষ নিয়ে যাওয়ার ব্লকভিত্তিক সভা করা শুরু করে দিয়েছেন অনুব্রত। এদিন সেরকমই একটি সভা ছিল। এই সভাতেই জনসমাবেশ দেখে আপ্লুত তিনি। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বরাবরের মতো এবারও বিজেপিকে তোপ দাগলেন তিনি।বললেন,’এই মাঠে এক লক্ষ ৮০হাজার মানুষ এসেছেন। এত মানুষের ভোট না পেলে তোমরা কোথায় যাবে?’ তাছাড়া আগামী লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল বাংলায় ৪২ টি আসনেই ঘাসফুল ফোটাবে,বিজেপি ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না,এমনটাই বক্তব্য তাঁর।

চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বললেন,’আমাকে জেলে ভরলেও জেল থেকে ভোট করে দেখিয়ে দেব। তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি রয়েছে।’ এদিন অসমের এনআরসি ইস্যু তুলেও বিজেপিকে তুলোধানা করতে ছাড়লেন না তিনি। বললেন,দেশের মানুষের মোদীকে চিনতে আর বাকি নেই। বিজেপি কেবল বিভেদের রাজনীতি করতেই জানে। বিজেপি আসলে তৃণমূলকে ভয় পায় তাই মিডিয়াকে কেবল বলতে থাকে অনুব্রত মন্ডলকে জেলে ভরে দেবে।

এই প্রেক্ষিতেই বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে বললেন,তিনি চুরি কিংবা ডাকাতি কিছুই করেননি যে তাকে জেলে যেতে হবে। তবে বিজেপির উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন,জেলে ভরলেও জেল থেকে ভোট করে দেখিয়ে দেবেন তিনি। তৃণমূল তৈরি আছে। সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে স্থানীয়দের ভয় পাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

সঙ্গে এটাও জানান,’ বুথ থেকে কিছুটা দূরে উর্বর জমি পড়ে আছে। ভোটের দিনে পাচনের বাড়িতে সোজা করে দিন, বুথ ছাড়বেন না’। অনুব্রত মন্ডল তাঁদের পাশেই থাকবে,বিজেপিকে কী করে রুখতে হয় তিনিই দেখিয়ে দেবেন,এমনটাই চ্যালেঞ্জ তাঁর। সবশেষে অঞ্চল এবং বুথ সভাপতিদের উদ্দেশ্য করে কড়া বার্তা তাঁর-মাসে দুটো মিটিং করতে না পারলে দায়িত্বে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!