এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > রাশিয়া-আমেরিকা থেকে পুলিশ এনেও অনুব্রত মন্ডলকে আটকানো যাবে না দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন নিজেই

রাশিয়া-আমেরিকা থেকে পুলিশ এনেও অনুব্রত মন্ডলকে আটকানো যাবে না দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন নিজেই

দলনেত্রীর নির্দেশ মতোই ১৯ জানুয়ারীর বিগ্রেড সমাবেশের জন্যে জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে প্রচারমূলক সভা করে বেরাচ্ছেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। এদিন কেতুগ্রামের পাঁচুন্দি মাঠে দলীয় সভায় উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানেই চিরাচরিত ভঙ্গিতে বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে দেখা গেল তাকে।

বললেন,’রাশিয়া, আমেরিকা যেখান থেকে খুশি পুলিস আনলেও আমি কেতুগ্রাম থেকে ষাট হাজার ভোটে লিড দেব। মিলিটারি দিয়ে ভোট হলেও আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা কি চুড়ি পরে বসে আছি নাকি। মিলিটারি দিয়ে ভোট হলেও আমরা আগেও জিতেছি এবারও জিতব।’

প্রসঙ্গে জানালেন এর আগে বোলপুর ও সিউড়ি লোকসভা কেন্দ্র থেকে তাকে নির্বাচন কমিশন পুরষ্কৃত করেছে। অনুব্রত বাবুর সঙ্গে এদিন একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, বীরভূম জেলার তৃণমূল নেতা রানা সিংহ, কাটোয়ার তৃণমূল নেতা অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখরা।

এদিন নবনির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রধানদের সচেতন করে দিয়ে বলেন, কোনো পঞ্চায়েত প্রধান যদি ক্ষমতায় এসে ভাবেন মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার বদলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পেয়ে যাবেন,তাহলে এটা তাঁদের ভুল ধারণা। এরকম কাজে গাফিলতি দেখলে এলাকাবাসীদের বিধায়কের কাছে নালিশ জানাতে বললেন। গরীব মানুষকে ফাঁকি দিয়ে টাকা পকেটস্থ করার কথা ভাবলেই দল তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দেবে, এমনটাই কড়া ভাবে দলীয় নেতাদের জানিয়ে দিলেন তিনি। দায়িত্বে এসে উপযুক্ত কাজ করার নিদান দিলেনি। যতটা সম্ভব ততোটা পরিষেবা দেওয়ার দেওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি।

কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহওয়াজকে নিয়ে কাজ করতে পঞ্চায়েত প্রধানদের পরামর্শ দিলেন অনুব্রত বাবু। তবে হুমকি দিয়ে এটাও বললেন,দায়িত্বে থেকে দুর্নীতি করলেই তাকে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করতে এক মুহূর্তও ভাববেন না তিনি।এছাড়া এদিন দলীয় অঞ্চল ও বুথ সভাপতিদের উদ্দেশ্য তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা নির্দেশ দেন ব্লকস্তরের প্রতিটি অঞ্চলে মিটিং করে মানুষের সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখতে।

প্রয়োজনে সেগুলো সমাধান করতে। উন্নতমানের পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়ার বার্তা দিলেন তিনি। কেতুগ্রামকে উন্নয়নে ভরিয়ে দেওয়ার নিদান দিলেন তিনি। প্রসঙ্গে জানালেন কেতুগ্রামের ছ’টি রাস্তা ৬৪ কোটি টাকা দিয়ে খুব শীঘ্রই টেন্ডার হতে চলেছে। সব রাস্তাগুলি পিডব্লুডিকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে বলে বিতর্কে জড়িয়ে ছিলেন তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা। সেই বিতর্ককে উস্কে দিতে তিন ফের প্রসঙ্গে টানলেন নিজের করা মন্তব্যকে। বললেন,’আমি যে বলি উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে, আমি কি অন্যায় বলি? বাড়ি থেকে বেরিয়ে আপনারা উন্নয়ন দেখতে পান না? উন্নয়ন কি কোনও জায়গায় বাকি আছে এটা বলতে পারবেন? রাস্তা থেকে ঘাট সবই উন্নয়ন করা হয়েছে।’ নেত্রীর নির্দেশ মতোই বালির অবৈধ কারবার নিয়ে পুলিশি সতর্কতা জারি রয়েছে এলাকায়,এমনটাই জানালেন তিনি।

বললেন,বৈধ চালান ছাড়া বালি পাচার করতে দেখলেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করবে। এদিন জেড প্লাস সিকিউরিটিতে চারজন মহিলা সিকিউরিটি বাড়ানো নিয়ে অনুব্রত মুখ খোলেন। বিরোধীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন,বিজেপির দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়ের সিকিউরিটিতে তো সিআরপিএফ জওয়ানরা আছেন। আর তৃনমূলের কেন সিকিউরিটি বাড়ল তা জেলার এসপিরা ভালোভাবে বলতে পারবেন।

 

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্ত্যবের প্রেক্ষিতেও মন্তব্য করতে দেখা যায় তাকে। কটাক্ষ করে বলেন,’উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দাদুর কত বয়স ছিল আমরা জানি না। আর উনি বলে দিলেন হনুমানের জন্ম নাকি দলিত ঘরে। আরএক মন্ত্রী বললেন হনুমানের নাকি আদিবাসী ঘরে জন্ম। ওরাই সব জানে, আমরা কিছু জানি না।’

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

উল্লেখ্য,তিনি যে অনুব্রত মন্ডল বারবার এভাবে বিরোধীদের চাঁচাছোলা আক্রমণ শানাতে ময়দানে ফিরবেন এটা এদিনও বুঝিয়ে দিলেন তিনি। এবং লোকসভা ভোটে আগে তিনি এভাবে বিরোধীদের তোপ দাগতে সক্রিয় থাকবেন এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!