এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > অনুব্রতর পছন্দ মেনে অসিত মালকে টিকিট দিলেও, অপছন্দ সত্বেও শতাব্দীতেই আস্থা মমতার

অনুব্রতর পছন্দ মেনে অসিত মালকে টিকিট দিলেও, অপছন্দ সত্বেও শতাব্দীতেই আস্থা মমতার

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রে অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ অসিত মালকেই প্রার্থী করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে,বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের এক প্রিয় পাত্রকে পিছনে ফেলে প্রার্থী হলেন বিদায়ী সংসদ সদস্য শতাব্দী রায়কে।

যেহেতু বিগত নির্বাচন গুলোতে শতাব্দী রায়ের রেকর্ড ভালো তাই ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের পর এবার লোকসভা নির্বাচনেও বীরভূম আসনে প্রার্থী করা হল এই খ্যাতনামা অভিনেত্রীকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্যে শতাব্দী রায়ের উপরেই বেশি আস্থা রেখেছেন দলনেত্রী,এমনটাই শোনা যাচ্ছে।

সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়কে রামপুরহাটের এক জনসভার মঞ্চে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ তাঁদের একসঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। বীরভূম থেকে এবার নতুন মুখকে প্রার্থী করা হবে এমন জল্পনা ছড়ালেও শেষে শতাব্দী রায়কে প্রার্থী করে সে জল্পনার মুখে ছাই দেন দলনেত্রী।

মনে করা হচ্ছে,দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য হিসাবে জেলায় বেশ খ্যাতি রয়েছে শতাব্দী দেবীর। এটি তাঁর জয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি অক্সিজেন দেবে। তবে গতবার কিন্তু খুব বেশি ভোটের ফারাকে জেতেন নি শতাব্দী। কংগ্রেস এবং বামেদের সম্মিলিত ভোটের থেকে কম ভোটই পেয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে,বীরভূমের আসন না হলেও বোলপুরে প্রিয় ভাই কেষ্ট-র (অনুব্রত মণ্ডল) পছন্দের মানুষকেই ভোটের টিকিট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবী,তিনি দীর্ঘদিনের যোগ্য প্রার্থী। বহুদিন হাসন বিধানসভা আসনে কংগ্রেসের বিধায়কও ছিলেন তিনি। বাম আমলে যেমন তাঁর দাপট ছিল তেমনি কংগ্রেসেরও মুখ্যসচেতক ছিলেন তিনি। শেষ বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল না করলেও তাঁর উপর আস্থা রেখেছেন অনুব্রত বাবু।

হাতের মুঠোয় আরও সহজে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে যোগ দিন –

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রতিটি জনসভাতেই অসিত মালকে গুরুত্ব দিয়েছেন অনুব্রত। তবে অসিত মালকে প্রার্থী করার অপর আরেকটি কারণ হল,সংসদীয় ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার একটা অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। ২০০৯ সালে কংগ্রেস ও তৃণমূলের জোটের প্রার্থী হিসেবে বোলপুর আসনে যেমন তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তেমনি গত নির্বাচনে এই আসন থেকে বিপুল ভোটে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

বীরভূম লোকসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী শতাব্দী রায় বলেন, ‘আমার উপর আস্থা রাখার জন্য দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) প্রতি আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ। দু’বার বীরভূমের মানুষ আমাকে ভালোবাসা দিয়েছেন, ভরসা করেছেন। আমিও তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আশাকরি এবারও তাঁরা আমাকে আশীর্বাদ করবেন।’

অন্যদিকে,বোলপুর লোকসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থী অসিত মাল বলেন,’মুখ্যমন্ত্রী সহ প্রার্থী নির্বাচক মণ্ডলীকে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে। তিনি চেয়েছিলেন এখানে আমি প্রার্থী হই। তাঁর নেতৃত্বে রেকর্ড ভোটে জেতার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

উল্লেখ্য,প্রার্থী ঘোষণা হয়ে যেতেই সঙ্গে সঙ্গেই প্রচার কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তৃণমূল। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এই দুজনের নাম সহ দেওয়াল লিখনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তৃণমূল কর্মীরা। সিউড়িতে দেওয়াল লিখনে অংশ নিয়েছেন মহিলারাও। শাসকদল যখন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে প্রচার কর্মসূচি জোরকদমে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তখনও বিজেপি নিজেদের সাংগঠনিক ক্ষমতাবৃদ্ধি নিয়ে পড়ে রয়েছে। এছাড়া বাম-কংগ্রেসের মধ্যে এখনো বীবভূম ও বোলপুল আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এই প্রেক্ষিতে ভোটযুদ্ধের প্রথম ধাপে বেশ কিছুটা এগিয়েই রয়েছে তৃণমূল।

Top
error: Content is protected !!