এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > অ্যানসার প্লিজ – (লাভ স্টোরি) – কলমে অপরাজিতা-পর্ব ৪

অ্যানসার প্লিজ – (লাভ স্টোরি) – কলমে অপরাজিতা-পর্ব ৪


এই সব কথা চলতে চলতেই অভ্রর একটা ফোন এলো।

অভ্র – কি করে? এখন কেমন আছে ? অসীমকাকুকে ডেকেছিল? এসেছিলো? আচ্ছা দেখো এসে মেডিসিন দেবে ঠিক হয়ে যাবে। ঠিক আছে -অসুবিধা হলে কল কোরো।

অরিত্রদা – কি হয়েছে।

অভ্র – ঠাকুমার তেমন কিছু নয়, ঠাকুমার পা মচকে গেছে ।যন্ত্রনা হচ্ছে চেঁচাচ্ছে।

অরিত্রদা – ওষুধ দিলি না।

অভ্র – আমার দেওয়া ওষুধ খাবে না।

প্রশান্তদা – মানে?

অভ্র – মানে আমাকে বিশ্বাস করে না , ঠাকুমার ধারণা , আমি ভুল ওষুধ দিয়ে ঠাকুমাকে মেরে ফেলবো।

প্রতীকদা – কেন?

অভ্র –  অনেক কেস আছে।

অরিত্র- শুনি

অভ্র – টাইম লাগবে

সাবির – আছে টাইম তুই বল

 

অভ্র -আমার খুব ইচ্ছা ছিল আমি ইঞ্জিনিয়ার হবো, বেশ ল্যাপটপের ব্যাগ নিয়ে বাইকে করে অফিস যাবো। কিন্তু আমার বাবা মায়ের ইচ্ছা ছিল ছেলে ডাক্তার হবে। তো জয়েন্ট এর আগে আমার এক ফ্রেন্ড এসেছে ,তার সাথে কথা হচ্ছে বুড়ি ওদিক থেকে কান পেতে শুনছে আমি জানিনা। সো আমি আমার বন্ধুকে বলেছি আমার প্ল্যান হচ্ছে মেডিক্যালে আমি সাদা খাতা জমা দেব তাহলে নো নাম্বার, ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভালো করে দেব পেয়ে যাবো তখন বাবা কি আর করবে ভর্তি করে দেবে । বুড়ি শুনেছে।

সারাদিন চুপচাপ। বাবা এলো বাবাকে জানিস চন্দ্র (আমার বাবাকে ডাকে )এই টুকু ছেলের মনে মনে কি পাপ, কত কি ছক কষে নিয়েছে, বন্ধুকে বলে কিনা ডাক্তারির পরীক্ষায় বলেছে সাদা খাতা জমা দেবে।ব্যাস বাবা চুলের মুক্তি ধরে দমাদ্দম পেটাচ্ছে , কি ? এই সব ছক কষছো, বাবার টাকার গাছ দেখেছো ?
এত কষ্ট করে রোজগারের টাকায় ফুর্তি হবে। দেখো আরতি কি ছেলে হয়েছে , এবার তো আমাদের মেরে ফেলার ছক কষবে।

সবাই ফের হাসছে। অভ্র ভাব কথা থেকে কোথায় পৌঁছালো , এমন অনেক্ষন চেঁচামেচি চললো। দেন মা মাথায় হাত দিয়ে বললো বল আমার ,মাথায় হাত দিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর লিখবি , আমি বললাম – সব কি করে লিখবো ? যেগুলো জানিনা সেগুলো?
বাবা বলে – না জানলে ভুল লিখে আসবি ,আর যদি না ডাক্তারিতে চান্স পাও , বাড়ি থেকে বার করে দেব।
ব্যাস ফের দিনরাত এক করে পড়াশোনা শুরু হলো। তারপর অনিচ্ছা স্বত্তেও ভালো করে লিখে ডাক্তারিতে চান্স পেতে হয়েছিল। তখন আমি ঠাকুমাকে বলেছিলাম। তোমাকে ভুল ওষুধ খাইয়ে মেরে ফেলবো দাড়াও ডাক্তারটা হই। সেই থেকে ভয়।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

নমিতাবৌদি – তোর বাবাকে বলে নি ?

অভ্র – বলেছিলো, আমি ম্যানেজ করে ফেলেছিলাম , ভুল শুনেছে বলে।

নীতীশদা – ওটা ব্যাপক – দমাদ্দম পেটাচ্ছে।

অভ্র -ঠাকুমা লাগতো আর  বাবা এই রকমই পেটাতো।

প্রদীপ্তদা – ঠাকুমা কি লাগতো? কেন?

অভ্র – আরে ঠাকুমার সাথে আমার হেবি ক্যাচাল সেই ছোটবেলা থেকে। ঠাকুমা খুব শুচিবাই টাইপের ছিল , এখন বয়েস হয়ে কমেছে , কিন্তু তখন এই ছুবি না, ওই করবি না, সেই করবি না, বার বার চান কর,কথায় কথায় মাকে খোটা দেওয়া আমার সাথে একেবারে সদ্ভাব ছিল না। আমি ওসব মানতাম না। আর তাছাড়া ঠাকুমার স্বভাব সব জিনিসটা বাড়িয়ে বলা আমি থাকলে সত্যিটা বলে দিতাম। আমাকে একেবারে দেখতে পারতো না। এদিক ওদিক হলেই বাবাকে গিয়ে লাগাতো আর আমি মার্ খেতাম।

অরে কারুর কিছু হলেই মরছে না কেন? মরুক এই সব বলে গালাগালি করতো , একদিন ওই রকম কিছু বলেছে আমি বলেছি তোমার তো অনেকদিন হলো তুমি মরো

কেঁদে টেন্ডে -চন্দ্রোওওওওওও দেখ তোর ছেলে আমাকে কি বলছে, বলছে মরো , আমার আর বেঁচে থেকে কি হবে ,ওগো তুমি কোথায় আছো গো ? আমাকেও কেন তোমার সঙ্গে নিয়ে গেলে না গো। (দাদুকে )ব্যাস বাবা -কিইইইইই – আমার মাকে মরতে বলেছিস?এত বড় সাহস! যার জন্য তোর বাবা জন্মেছে, তুই পৃথিবীর আলো দেখেছিস তাকে এত বড় অপমান। তোর একদিন কি আমার একদিন। উদম পেটানি। তারপর ঠাকুমার পায়ের কাছে ফেলে বলে – ক্ষমা চা, বল আর কোনোদিন বলবোনা, অন্যায় হয়ে গেছে। মা ওদিক থেকে ভগবান – এমন ছেলে পেটে ধরেছি, এ ছেলে জন্ম দেবার আগে আমাকে তুলে নিলে না কেন? এ পাপ আমি কোথায় রাখবো। বড় বড় ডায়লগ সব – যেন নাটক হচ্ছে।

সবাই হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে।

অভ্র – আসলে আমার দাদু অনেক ছোট বেলায় মারা গেছে সো বাবা কাকাকে ঠাকুমা খুব কষ্ট করে মানুষ করেছে এস পার বাবা ,তাই বাবা ‘মা’ বলতে অজ্ঞান। কাকুও আছে তবে বাবার মতো নয়। সেই থেকে আমি সুযোগ পেলেই ঠাকুমাকে জ্বালাতে শুরু করি। বাবাকে বলে দিতো মার্ খেয়েছি কিন্তু থামিনি।

প্রতীকদা – তোর লজ্জা হওয়া উচিত। নিজের ঠাকুমা তোকে বিশ্বাস করে না। ছিঃ

অভ্র – প্লিজ,তোমার অমন ঠাকুমা থাকলে না পাগল হয়ে যেতে।  ওরকম অনেক কেস আছে।

অরিত্র -বল শুনি।

নীতীশদা – তুই ডাক্তারি কোথা থেকে পড়েছিস? কলকাতা ?

অভ্র – না বাঙ্গলোরে ,

নীতীশদা – ওই জন্যই কন্নাডা?

অভ্র – হুম

নন্দিতা বৌদি তোর আরো গল্প বল শুনি।

অভি -তখন ডাক্তারি পড়ছি পুজোর সময় বাড়ি গেছি। বন্ধুরা মিলে বেড়িয়েছি। তো এক বন্ধুর বাড়িতে থাকা হবে পরের দিন বাড়ি আসবো সব ঠিক আছে , রাত্রে বিয়ার টিয়ার খাওয়া হয়েছে,সকালে বাড়ি এসেছি। দেখি টেবিলে কচুরি সিঙ্গারা , মা বললো বাবা গরম গরম কচুরি এনেছে ব্রাশ করে নে খেতে দিচ্ছি , আমি ব্রাশ করতে গেলাম টুথপেস্টের গন্ধটা হটাৎ করে কেমন লাগলো বমি করে ফেলেছি। বাবা কি হয়েছে করে এলো।

এগুলো কি?

আমি – চিকেন

বাবা- চিকেন এমন দেখতে হয় ? বলে এক চড়

মা সাথে সাথে ছুটে এসে কি হলো ?
বাবা – মদ খেয়েছে তোমার ছেলে !
ডাক্তার হতে পাঠিয়েছিলে মাতাল হয়ে ফিরেছে , এবার ড্রেনে পরে থাকবে , তুলে আনতে হবে.
ভাবটা এমন যেন আমি চুল্লু খেয়ে বাড়ি ঢুকেছি

মা – ভগবান আমার কি সর্বনাশ হলো গো, গলায় দড়ি দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় রইলো না গো, আমাকে তুলে নাও গো।
এই তোকে এত টাকা খরচা করে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়তে পাঠিয়েছি। তার এই প্রতিদান দিলি তুই ? এবার লোকে গায়ে থুতু দেবে। আমি এই জীবন আর রাখবো না

তবে মা যে কি নিঃস্ব হয়েছে আজ পর্যন্ত আমার কাছে সেটা ধাঁধা, কেননা আমি শুনিনি যে বাবা পড়ানোর জন্য মায়ের গয়না নিয়েছে বা লোন নিয়েছে যাই হোক কিছু বলা যাবে না মাথা নিচু করে শুনছি

বাবা – এখুনি মরবে কি? এখনো তো অনেক কিছু দেখার বাকি আছে ! এরপর তো মেয়েরা ঢুকবে কোলে তোমার নাতি নাতনিদের নিয়ে , মরলে হবে তাদের কোলে তুলে নাচাবে, লম্পট একটা

আমি – এমন কিছু করিনি আমি

বাবা – চুপ আবার মুখে কথা, ‘দুশ্চরিত্র কোথাকার ‘ বলে ফের এক চড় ,

আমি তখন ভাবছি – কেন কচুরি খাবো ভাবলাম, কেন ব্রাশ করতে গেলাম এমনিই কচুরিটা খেলাম না , কেন বাড়ি এলাম ঋষি বলেছিলো ওদের বাড়িতে থাকতে কেন থাকলাম না।

নন্দিতা – তুই হাসিসনি , আমি হলে হেসে ফেলতাম, তারপর কি করলি? পালালি ?

অভ্র – দাড়াও মার্কেটে এখনো ঠাকুমা আসিনি , এবার ঠাকুমা।
কি হয়েছে রে?

বাবা – মাগো আমি পারলাম না মা , তোমার অযোগ্য নাকি একটা বলেছিলো , ছেলে আমি পারলাম না নিজের সন্তানকে মানুষ করতে , পড়তে গিয়ে মদ খেয়ে বাড়ি ঢুকেছে।

ঠাকুমা – ওকি কথা গো ? পড়াশোনা ছাড়িয়ে দে। দোকানে বসিয়ে দে, চোখের সামনে থাকবে , নাহলে মদ খেয়ে সব ঘটি বাটি বিক্রি করে দেবে, রাস্তায় তোদের বুড়ো বয়সে ঘুরতে হবে।মদ খেয়ে এসে বৌ পেটাবে, রত্নাকে ওর বর মায়ের দেখেসনি।তোদের জেল খাটতে হবে। রত্না হচ্ছে আমাদের যে বাড়ির কাজ করে সে। পড়াশোনা ছাড়িয়ে দে।
মা সঙ্গে সঙ্গে আমাকে মাথায় হাত দিয়ে বল আর মদ খাবি না কোনো দিন।

বাবা – শুধু মদ, গাঞ্জা, হেরোইন আর কি কি খায় জিজ্ঞাসা করো।

আর আমার তখন মনে হচ্ছে এবার বন্ধ করো আমি একটু শুই, ভীষণ ঘুম পাচ্ছে দাঁড়াতে পারছি না।

ভাগ্যভাল চেঁচামেচি শুনে কাকু এলো ,শুনলো , বললো চান করে ঘুমাতে যা . যা হোক করে চান করে ঘুমালাম।
বেঙ্গালুরুতে যাওয়া অব্দি বাবা কথা বলে নি , ঠাকুমা খালি কথা শুনিয়েছে আর মা বুঝিয়েছে।

 

আগের পর্ব – এনসার প্লিজ – (লাভ স্টোরি) – কলমে অপরাজিতা-পর্ব ৩

 

পরের পর্ব –  অ্যানসার প্লিজ – (লাভ স্টোরি) – কলমে অপরাজিতা-পর্ব ৫

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!