এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > শিক্ষকদের বৃহত্তম আন্দোলনে সমর্থনের জন্য মুকুল রায়ের পর আমন্ত্রণ পৌছালো আরো দুই হেভিওয়েটের কাছে

শিক্ষকদের বৃহত্তম আন্দোলনে সমর্থনের জন্য মুকুল রায়ের পর আমন্ত্রণ পৌছালো আরো দুই হেভিওয়েটের কাছে

আগামী ২৯ শে অক্টোবর থেকে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকের পিআরটি স্কেলের দাবিতে শহীদ মিনারের পাদদেশে উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বা ইউইউপিটিডব্লুএর উদ্যোগে এ যাবৎকালের শিক্ষকদের বৃহত্তম ধর্ণা ও আন্দোলন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আর সেই কর্মসূচির সফল রূপায়ণের জন্য অন্যতম উদ্যোক্তা তথা প্রতিবাদী শিক্ষক মইদুল ইসলাম আগেই জানিয়েছিলেন যে, যেহেতু এই আন্দোলন অত্যন্ত মানবিক এবং এখানে শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষা করাই একমাত্র লক্ষ্য – তাই, রাজ্য-রাজনীতির সমস্ত হেভিওয়েট নেতা, গণ-সংগঠন ও বুদ্ধিজীবী মহলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে

এর আগে মইদুলবাবুরা এই আন্দোলন কর্মসূচির উদ্বোধন করার জন্য অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এছাড়াও, আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রখ্যাত আইনজীবী ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্যকে। তাছাড়া, হেভিওয়েট বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের কলকাতার বাসভবনের কাছে এক কর্মসূচিতে গিয়ে হঠাৎ তাঁর দেখা পাওয়ায় মইদুলবাবু সরাসরি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাঁকেও। এরপর গতকাল, সংগঠনের তরফে এক প্রতিনিধিদল গিয়ে দেখা করেন বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী ও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্য্যকান্ত মিশ্রের সঙ্গে।

ইউইউপিটিডব্লুএর তরফে আগামী ২৯ শে অক্টোবর থেকে তাঁদের আন্দোলনকে সমর্থন করা ও সেই আন্দোলনে পাশে থাকার জন্য তাঁদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাজ্য-রাজনীতির দুই হেভিওয়েট নেতাকে – শিক্ষকদের আন্দোলনে এই আমন্ত্রণ জানানো প্রসঙ্গে মইদুলবাবু পরে জানান, আমাদের মত শিক্ষকদের কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষার আলো দেওয়া। কিন্তু, খালি পেটে তো আর শিক্ষার অঙ্গীকার রক্ষা করা সম্ভব হয় না! বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে রাজ্যের হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক বড় অসহায় অবস্থায় আছেন – আর তাই, নিতান্ত নিরুপায় হয়েই শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবার আমাদের এই বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে হচ্ছে। আর সেই মানবিক আন্দোলনে – আমরা সমস্ত রাজনৈতিক রঙ ভুলে সমাজের সমস্ত শ্রেণীর মানুষকে সমর্থনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

প্রসঙ্গত, সংগঠনের তরফে এই বৃহত্তর ধর্ণা ও আন্দোলন কর্মসূচির ভাবনার অন্যতম রূপকার রাজ্য-সম্পাদিকা পৃথা বিশ্বাস এর আগেই একান্ত সাক্ষাৎকারে আমাদের জানিয়েছিলেন, শুধু হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাই নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও – সবমিলিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছিলেন যে, এনসিটিই নর্ম অনুযায়ী সারা দেশের মত আমাদের রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের যোগ্যতা এখন উচ্চ-মাধ্যমিকে ৫০% ও সাথে দুই বছরের ডিএলএড প্রশিক্ষন – যেটা আগে ছিল মাধ্যমিক। রোপা ২০০৯-এ শিক্ষকদের বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে সেন্ট্রাল পে কমিশন-৬ মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

পৃথাদেবী জানিয়েছিলেন, সেন্ট্রাল পে কমিশন-৬-এ প্রাথমিক শিক্ষিকদের জন্য ৯,৩০০ – ৩৪,৮০০ স্কেল এবং গ্রেড পে ৪,২০০ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের রাজ্যে হাই স্কুলের শিক্ষকদের বেলায় রোপা ২০০৯ মেনে বেতন দেওয়া চালু হলেও প্রাথমিকে সেটা দেওয়া হয়না! বর্তমানে, পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ৫,৪০০ – ২৫,২০০ এবং সাথে গ্রেড পে ২,৬০০ – যেটা আদতে মাধ্যামিক যোগ্যতার বেতন কাঠামো! অথচ, ২০১০ সালে রাজ্য সরকার শিক্ষকদের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এনসিটিই নর্ম মেনে নেয় এবং শিক্ষকরা সেই মত নিজেদের যোগ্যতা বাড়াতে বাধ্য হন।

পৃথাদেবীর ক্ষোভ, যোগ্যতা বাড়ালেও বেতন কাঠামর পুনর্বিন্যাস করা হয়নি। ফলস্বরূপ – অন্যান্য রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের সাথে আমাদের রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনের বৈষম্য অনেকটাই! এমনকি বৈষম্য – এই রাজ্যেরই অনান্য শিক্ষকদের সাথেও। এতে আমাদের সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে – আমরা বঞ্চিত হচ্ছি ও বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে জীবনধারণ করার পক্ষেও তা রীতিমত কষ্টকর। তাই, আমাদের মূল দাবি – আমরা যে সময় থেকে এনসিটিই নর্ম অনুযায়ী যোগ্যতা বৃদ্ধি করেছি সেই সময় থেকেই আমাদের ন্যায্য যোগ্যতা অনুসারে বেতন দিতে হবে। অর্থাৎ, পে কমিশন এর আগেই পে-রিভিশন করে সেই রিভাইসড স্কেলের ওপর পে কমিশন এফেক্ট দিতে হবে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!