এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাজ্য সরকারের – জানুন বিস্তারিত

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাজ্য সরকারের – জানুন বিস্তারিত

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে শিশুদের মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে তৈরি করা হলো ‘শিশু আলয়’। কিছুদিন আগেই খেলার ছলে প্রাক-প্রাথমিক শিশুদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানোর কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার সেই সেই পরিকল্পনায় সারা রাজ্যের সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একাধিক আইসিডিএস কেন্দ্র তথা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রও ‘শিশু আলয়’ রূপে সেজে উঠেছে।

কোন থেকে শিশু আলয় রূপ অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র গুলিতে শিশুদের খেলার ছলে বিজ্ঞানসম্মতভাবে পড়ানো হবে, পড়াশোনার ফাঁকে খেলাধুলো করানো হবে। কিন্তু কর্মীরা কিভাবে তা শিশুদের করাবেন তার জন্য এবার জেলার ১ হাজার ২০০ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবে প্রশাসন। আগামী সোমবার থেকেই শুরু হবে তাদেরই বিশেষ প্রশিক্ষণ।যাতে তাঁদের কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়তার জন্য দক্ষ প্রশিক্ষক প্রায় দেবেন এই প্রশিক্ষণ।

প্রশাসন সূত্রে খবর, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানে পুষ্টিকর খাদ্যের পাশাপাশি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দান করা হয়। তিন থেকে ছ’বছর বয়সি শিশুরা এখানে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা পেয়ে থাকে। এরপর তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সে শিশুদের মস্তিষ্কের স্নায়ুর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি হয়। পাশাপাশি সামাজিক বিকাশ এই সময় সবচেয়ে দ্রুত হয়। তাই এই সময় তাদের বিশেষভাবে যত্ন করতে হয়। তাই খেলার মাধ্যমে শিশুদের পড়াশোনার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাকে বলা হয়, ‘জয়ফুল লার্নিং’।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির একটিমাত্র ক্লাসরুম। আর সেই ক্লাসরুমগুলিও অত্যন্ত সাদামাটা। সেই উপলক্ষেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সারা রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে নতুন করে সাজাতে উদ্যোগী হয়েছেন। বর্তমানে রাজ্যে যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি রয়েছে, সেগুলিরই পরিকাঠামোর বদল করে ‘শিশু আলয়’ গড়ে তোলা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত,উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পুরসভা এবং ব্লক মিলিয়ে মোট ১০ হাজার ১৫০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। ২০১৮-২০১৯ আর্থিক বছরের মধ্যে ৩ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে শিশু আলয় রূপে সাজানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে এখনো পর্যন্ত ৯৫১টি শিশু আলয় সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে গিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই শিশু আলয়ে চারটি ব্লক থাকবে। আঁকার ব্লক, খেলনার ব্লক, বইয়ের ব্লক এবং খেলাধুলোর ব্লক। আঁকার ব্লকে শিশুদের ছবি আঁকানোর মাধ্যমে পড়াশোনা করানো হবে মূলত
রং চেনানোর মাধ্যমে ।

খেলনার ব্লকে বিভিন্ন ধরনের খেলনা থাকবে। বইয়ের ব্লকে ছোটদের জন্য নানান বই থাকবে। সেগুলিও পড়ানো হবে। বেশিরভাগ জায়গায় বইয়ের ব্লকটিকে লাইব্রেরি আকারে সাজানো হচ্ছে। যাতে লাইব্রেরি সম্পর্কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খুব ছোট থেকেই জ্ঞান তৈরি হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের আবৃত্তি শেখানো, উচ্চারণ শেখানো, বাগান তৈরি করা, শিশুদের নিয়ে নাটকের দল তৈরির উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাদের নান্দনিক চেতনার বৃদ্ধি হয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, “এই শিশু আলয় গুলিতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে পড়াশোনার জন্য আগামী সোমবার থেকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ১ হাজার ২০০ জন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দক্ষ প্রশিক্ষকেরা তাঁদের ট্রেনিং দেবেন। ১ হাজার ২০০ জন কর্মীকে ৩০টি ব্যাচ ভাগ করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ হলেই তাঁরা শিশু আলয়ে ‘জয়ফুল লার্নিং’ মাধ্যমে পড়াতে শুরু করবেন।”প্রশাসন আশা করছে এর মাধ্যমে শিশুরা একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ পাবে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!