এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > অমৃতসরের মৃত্যু মিছিলে শোকাহত গোটা দেশ, আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা কেন্দ্রের

অমৃতসরের মৃত্যু মিছিলে শোকাহত গোটা দেশ, আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা কেন্দ্রের

একদিকে বাংলায় যখন চলছে চোখের জলে উমা বিদায় বিজয়ার মিষ্টিমুখ মা চলে যাবার দুঃখে যখন বিষাদগ্রস্ত ।অন্যদিকে হিন্দিবলয়ের রাজ্যগুলিতে তখন চলছে দশেরায় রাবন দহনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ।অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠার উৎসবে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত ছিল লোকজন। কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন ঘটল একটি ট্রেনের আগমনে। দসেরার সন্ধ্যায় অমৃতসরের ট্রেন দুর্ঘটনায় এক ধাক্কায় বদলে দিল সমগ্র পরিস্থিতি ।উৎসবের আনন্দ রূপান্তরিত হয়েছে স্বজন হারানো কান্নায়। মৃত্যুপুরী অমৃতসরে এখন শুধুই হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাস।এটা কোনো দুঃস্বপ্ন নয়তো? নাহ্, অশুভ শক্তি বিনাশের দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে গিয়ে যে এভাবে প্রাণ বলি দিতে হবে তা হয়ত কেউ কল্পনাও করননি।

আতসবাজির শব্দে-আলোর ঝলকানিতে যখন সবাই উৎসবের আবহে অন্য আমেজে রেললাইনের ওপরে দাঁড়িয়ে ঠিক তখনই ট্রেন পিষে দিয়ে চলে গেল।এক মুহূর্তে বদলে যায় পুরো জায়গাটার চেহারা।কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আনন্দভূমি রূপান্তরিত হয় মৃত্যুপুরিতে।
চতুর্দিকে শুধুই রক্ত আর স্বজন হারানোর কান্না। তার মধ্যেই চলছে উদ্ধারকাজ। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।রাজনৈতিক দলগুলির একে অপরকে দোষারোপের পর্ব। তদন্তের প্রতিশ্রুতি। শোকজ্ঞাপন।ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আহতদের জন্যও তিনি ঘোষণা করেন ৫০,০০০টাকার ক্ষতিপূরণ।

কিন্তু বছরের পর বছর রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে রাবণ দহন দেখার অনুমতি কি করে পেল তারা? কি করেইবা ট্রেন যেতে পারল সেই সময়ে? কে দায় নেবে এত মৃত্যুর? বারবার উঠে আসছে এই প্রশ্নগুলি। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং শুক্রবারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি শনিবার একদিনের জন্য ছুটির ঘোষণা করেন তিনি। স্থগিত রাখেন নিজের ইজরায়েল সফরও।

উল্লেখ্য, অমৃতসর এবং মানয়ালের মাঝে ২৭ নম্বর গেটের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে রেলের তরফে। দশেরা অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎই ভিড়ে ঠাসা মানুষদের উপর দিয়ে একটি ডিএমইউ ট্রেন চলে যায়। ট্রেনের নম্বর ৭৪৯৪৩। এমনই তথ্য দিয়েছেন নর্দান রেলের সিপিআরও।

অনেকেই এটাকে বলছেন ‘মাস কিলিং’। আবার কারোর মতে এটা এক ‘নৃশংস হত্যা’। অমৃতসরের কাছে চৌরা বাজারে সমবেত জনতার উপর দিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটে যাওয়া ট্রেনের ভিডিও প্রকাশ হতেই এমন সব মন্তব্য শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে ৬১ হয়েছে। গতকাল রাতেই মৃত্যু সংখ্যা ৬০ বলে রেলের তরফে জানানো হয়েছিল। আজ ভোরে আরও একজন আহতর মৃত্যু হয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

চৌরা বাজারে রেললাইনের ধার ঘেঁষে বিশাল আকারে রামলীলার আসর বসাটা কোনও নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই এখানে রামলীলার উত্‍সব হয়। কিন্তু কোনওদিনই রেল লাইনে-র উপরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের উপর দিয়ে ট্রেন গিয়েছে বলে জানা যায়নি। গতকাল যেভাবে উত্‍সবে শরিক হওয়া মানুষদের উপর দিয়ে ছুটন্ত ট্রেন চলে গিয়েছে তাতে হতবাক সকলে।মুহুর্তের মধ্যেই স্তব্ধ হয়ে যায় উৎসবের আয়োজন।স্বজন হারানো শশ্মানে দাঁড়িয়ে অমৃতসরবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন কি করে সেই সময়ে আসল এই দুরন্ত গতির ট্রেন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!