এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দিলীপ-রাহুল-সুব্রতদের অমিত শাহের দিল্লিতে জরুরি তলব – জল্পনা বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে

দিলীপ-রাহুল-সুব্রতদের অমিত শাহের দিল্লিতে জরুরি তলব – জল্পনা বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে

পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে, বিশেষ করে গো-বলয়ে কংগ্রেসের কাছে ধরাশায়ী হতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। ফলে, সম্মিলিত বিরোধী শক্তি আরও বলীয়ান হয়ে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে ঝাঁপাবেই। এই পরিস্থিতিতে, কেন্দ্র দ্বিতীয়বারের জন্য নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ত্বাধীন সরকার গড়া বেশ কঠিন – মেনে নিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আর তাই, পশ্চিম ও মধ্যে ভারতের যে আসন সংখ্যা গেরুয়া শিবিরকে হারাতে হতে পারে তা পুষিয়ে দেওয়ার জন্য অমিত শাহদের পাখির চোখ আপাতত উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব ভারত। তেলেঙ্গানার বিধানসভা নির্বাচনেই প্রমাণিত দক্ষিণ ভারতে এখনো সেভাবে বাড়েনি বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক। অপরদিকে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির সম্মিলিত আসনসংখ্যা বিশাল কিছু নয় – তাই গেরুয়া শিবিরের বিশেষ নজর থাকবে পূর্ব ভারতেই।

আর, তাই স্বাভাবিকভাবেই বাংলা হতে চলেছে গেরুয়া শিবিরের অন্যতম প্রিয় রাজ্য। এমনিতেই, অমিত শাহ বাংলা থেকে ২২ টি আসন জেতার হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন। তার উপরে, রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস কিছুতেই এখানে বিজেপিকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে রাজি নয়। এমনকি, গেরুয়া শিবিরের প্রস্তাবিত রথযাত্রাকেও আইন ও প্রশাসন দিয়ে রোখার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।

এই পরিস্থিতিতে সূত্রের খবর, আগামীকাল দিল্লিতে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠিয়েছেন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। আর, এই বৈঠককে ঘিরে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। এক পক্ষের বক্তব্য, ওই বৈঠকে রথযাত্রা এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের আশু পদক্ষেপ নিয়ে দিক নির্দেশ করতে পারেন অমিত শাহ।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কিন্তু, দলেরই আরেক পক্ষের মতামত, রথযাত্রা নিয়ে বৈঠক করতে হলে এইভাবে দিল্লিতে ডেকে পাঠানোর কি আছে? সে তো দিল্লি থেকেই বর্তমানে নির্দেশ আসছে আর সেই মত কাজ করছেন রাজ্য নেতারা! তাহলে এই বৈঠক কি নিয়ে? বিজেপিরই ওই অংশের মত, অমিত শাহ রাজ্যে ২২ টি আসন জেতার কথা বললেও – রাজ্যের সংগঠনের অবস্থা খুব খারাপ। বিশেষ করে, শাসকদলের হাতে আক্রান্ত হলেও দলীয় কর্মীদের পাশে জেলা বা রাজ্য নেতৃত্ত্ব সেভাবে দাঁড়াচ্ছেন না।

ওই অংশের আরও বক্তব্য, এছাড়া সংগঠনের যেটুকু বৃদ্ধি হয়েছিল – শাসকদল ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে। বিজেপি করছে জানতে পারলেই – দেওয়া হচ্ছে একের পর এক মিথ্যা পুলিশ কেস! অথচ, রাজ্য বা জেলা নেতৃত্ত্ব নির্বিকার। এমনকি, অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে বিজেপিতে যোগদান করতে এলেও তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় প্রতিটা সাংগঠনিক জেলাতে জেলা সভাপতিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে জেলা কার্যালয়ে।

আর এই সব খবরই নাকি দিল্লিতে অমিত শাহের কাছে পৌঁছেছে। আর তা পৌঁছেছে তাঁর পাঠানো পর্যবেক্ষক ও নেতাদের মাধ্যমেই। এমনকি, অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলকে হারানোর থেকেও দলের কিছু নেতার কাছে বড় হয়ে গেছে দলেরই আরেক গোষ্ঠীকে আটকানো। ফলে ক্রমশ ক্ষোভ তীব্রতর হচ্ছে দলের মধ্যে – এমনকি জেলায় জেলায় বসে গেছেন বহু কর্মী।

আর তাই, এইসবের পরিপ্রেক্ষিতে লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফল করতে হলে – দরকার বড়সড় ‘ঝাকুঁনি’। কিভাবে বা কোন পথে তা সম্ভব – তা নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করতেই এই বৈঠক বলে – বিজেপির ওই অংশের দাবি। আর তাই – আগামীকালের এই বৈঠক ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য গেরুয়া শিবিরের অন্দর মহলে। সত্যিই অমিত শাহ রথযাত্রা নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য এই বৈঠক করছেন, নাকি এই বৈঠকে ‘প্রয়োজনীয় ঝাঁকুনি’ দিচ্ছেন – সেই দিকেই তাকিয়ে এখন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা।

Top
error: Content is protected !!