এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > অমিত শাহের সভার আগে সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য পেলেন “গৃহযুদ্ধের আঁচ”, অস্বস্তিতে বিজেপি

অমিত শাহের সভার আগে সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য পেলেন “গৃহযুদ্ধের আঁচ”, অস্বস্তিতে বিজেপি

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে শাসকদল তৃনমূলের চাপে রাখতে রাজ্যে গণতন্ত্র বাঁচাও নামক রথযাত্রার কর্মসূচিকে ঘিরে প্রবল প্রস্তুতি শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে। সূত্রের খবর, বাংলা 3 প্রান্ত থেকে বিজেপির এই রথযাত্রা আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হবে। আর যা শেষ হবে 14 ই ডিসেম্বর তৃণমূলের অনুব্রত গড় বলে পরিচিত বীরভূমের তারাপীঠে।

গতকাল দুপুরে সেই বীরভূমের রামপুরহাটে দলীয় রথযাত্রার কর্মসূচি উপলক্ষে সভাস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা রামপুরহাট রেলওয়ে মাঠ পরিদর্শনে আসেন রাজ্য বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। অভিযোগ, এই রামপুরহাটের ক্রীড়া সংস্থার মাঠ ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতি চাইলেও তা পাওয়া যায়নি। আর এরপরই এই রামপুরহাটের রেলওয়ে চ্যাম্পিয়ন মাঠকে সভাস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে বিজেপি।

দলীয় সূত্রের খবর, এই খানেই রথ যাত্রার শেষ দিনে সভা করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। আর তাই গতকাল সেই সভাস্থল পরিদর্শন করলেন রাজ্য বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য, বীরভূম জেলা বিজেপির সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়, রামপুরহাট পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলর শুভাশিস চৌধুরি সহ অন্যান্যরা।

এইখানে এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ রাজ্য সরকার আমাদের সভা করার কোনো অনুমতি দিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা এখানে রেলের মাঠে সভার আয়োজন করছি।” অন্যদিকে বীরভূমে বিজেপির রথ যাত্রার পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল কীর্তন যাত্রা ঘোষণা করেছেন।

এদিন সেই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কারো মধ্যে আধ্যাত্ম রস তৈরি হলে তা অবশ্যই ভালো।” তবে এতসব করে আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে বিজেপি অর্ধেকের বেশি আসন পাবে বলে এদিন দাবি করেন তিনি। এদিকে বিজেপি নেতার এহেন দাবি প্রসঙ্গে পাল্টা মুখ খুলেছেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব ভট্টাচার্য। এদিন তিনি বলেন, “শুধুমাত্র অনুব্রত মণ্ডলকে মোকাবিলা করার জন্য আজকে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহকে পথে নামতে হচ্ছে। আর এতেই বিজেপির আসল অবস্থা বোঝা যাচ্ছে।”

অন্যদিকে বীরভূমে রথযাত্রা নিয়ে বিজেপি জোর প্রস্তুতি নিলেও দলীয় স্তরে প্রবল অন্তর্কোন্দলে অস্বস্তি বাড়ছে সেই গেরুয়া শিবিরে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বীরভূমের সিউড়িতে এই রথযাত্রার প্রস্তুতি বৈঠকে জেলা বিজেপির একাংশ নেতা একে অপরের সাথে বচসা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। জানা যায়, এখানেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান জেলা বিজেপির সহ-সম্পাদক অনিল সিংহ ও সহ-সভাপতি শুভাশিস চৌধুরি।

এমনকি জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে তারা রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ একটি চিঠিও দেন। কিন্তু যেখানে দলীয় সংগঠনকে মজবুত করতে কেন্দ্রীয় ও বিজেপির একাংশ প্রবল জোর দিচ্ছেন, ঠিক সেখানেই এই জেলায় এহেন গোষ্ঠী কোন্দল কেন? এদিন এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এটা ছোট ঘটনা। এসব ঠিক মিটে যাবে।” কিন্তু মুখে ছোট ঘটনা বললেও মনে যে অস্বস্তি এদিন শমীক ভট্টাচার্যের শারীরিক ভঙ্গিমা দেখে তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিকে রাজ্য নেতৃত্ব এই পরিস্থিতিকে ছোট ঘটনা বললে তাদের কিছু বলার নেই বলে এদিন জানিয়েছেন বীরভূম জেলা বিজেপির সম্পাদক অনিল সিং। পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে তাই প্রত্যেকেই সুবিচার পাবে বলে এদিন জানান জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায়। সব মিলিয়ে এবার রথযাত্রা কর্মসূচির আগে বীরভূম জেলা বিজেপির প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অস্বস্তি বাড়াচ্ছে গেরুয়া শিবিরে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!