এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > আদি নয়, দলে নবাগতদের ওপরই ভরসা! ক্রমশ স্পষ্ট করলেন অমিত শাহ?

আদি নয়, দলে নবাগতদের ওপরই ভরসা! ক্রমশ স্পষ্ট করলেন অমিত শাহ?

একসময় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে নব্য বনাম পুরাতন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বিবাদ নজর কাড়ত রাজ্য রাজনীতিতে। পুরাতন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বারবার অভিযোগ ছিল, তৃণমূলে নবাগত বামফ্রন্ট, বিজেপি, কংগ্রেস কর্মীদের আধিক্যে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে 1998 সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। যার কারণে প্রায়শই দেখা যেত দলের গোষ্ঠী কোন্দলের ছবি। যার কারণে বারবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে রাজ্য থেকে শুরু করে জেলা তৃণমূল শীর্ষ নেতাদেরকে।

কিন্তু এদিক থেকে একেবারেই স্বস্তির অবস্থাতে নেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি বলে মত রাজনৈতিক মহলের। যখন নতুন বনাম পুরাতন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে সংঘাত চরমে উঠেছিল, তখন ড্যামেজ কন্ট্রোল থেকে শুধু করে একাধিক বিষয়েই তরজা মেটাতে আসরে নামতে হয় তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে। যা রীতিমতো অস্বস্তিকর হয় তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

কিন্তু ইতিমধ্যে গঙ্গা, যমুনা, ভাগীরথী দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। পাল্টে গেছে রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ। আর তাই একসময় যে বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে, এখন সেই বিপদ এসে উপস্থিত রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে। এক সময় যেমন নব্য তৃণমূল বনাম পুরাতন তৃণমূলীদের দ্বন্দ্বে মশগুল থাকত রাজ্য রাজনীতি, এখন তেমন নতুন বনাম পুরাতন বিজেপির লড়াইয়ে শোরগোল উঠেছে রাজ্য রাজনীতির আঙ্গিনায়।

সম্প্রতি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ যেখানে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেন, সেই মঞ্চ থেকে একের পর এক বক্তব্য রাখেন মাফুজা খাতুন থেকে শুরু করে অর্জুন সিংহ সহ একাধিক নবাগত বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু কিছুটা বাদ পড়ে যায় পুরাতন বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ। যেমন একসময়কার বিজেপি দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে জয়প্রকাশ মজুমদার থেকে শুরু করে একাধিক নেতা। যার কারণে কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছে পুরাতন অর্থাৎ দুর্দিনে লড়াই, আন্দোলন করা ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্ব‌।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

আর এখানেই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন, সব্যসাচী দত্ত যখন একেবারে সদ্য সদ্য যোগ দিয়েই সর্বভারতীয় ভারতীয় জনতা পার্টি সভাপতি অমিত শাহের মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগ পাচ্ছে, তখন কেন বাদ পড়ে যাচ্ছে দলের দুর্দিনে পাশে থেকে লড়াই করা পুরাতন বিজেপি নেতৃত্ব! তাহলে কি বুঝতে হবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বদের কাছে দুর্দিনে কাজ করা পরিশ্রমী কর্মীদের কোনো মূল্য নেই! বিশেষ সূত্রের খবর, রাজ্য বিজেপির এক পুরাতন নেতৃত্ব রাজকমল পাঠকের বিশেষ ইচ্ছে ছিল, অমিত শাহের মঞ্চ থেকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম এর সভায় বক্তব্য রাখার। কিন্তু সেদিন বক্তব্য রাখার সুযোগ ঘটেনি রাজ্য বিজেপির বর্ষীয়ান অভিনেতার।

আশ্চর্যজনকভাবে কিন্তু বক্তা লিস্টে নাম ছিল এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব ঘনিষ্ঠ পরবর্তীতে বিজেপি নেত্রী প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষের। যদিও সভাস্থলে দেরি করে পৌঁছানোয় তার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। কিন্তু রাজ্য বিজেপির অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, দলের অসময়ের সঙ্গীদেরকে ভুলে কি করে নতুন নতুন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে অন্যান্য দল থেকে আসা নেতারা প্রাধান্য পাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির সভায় বক্তব্য রাখার!

বিশেষ খবর অনুযায়ী, সেদিনের অমিত শাহের সভায় যারা বক্তব্য রেখেছিলেন, যার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে বেশির ভাগনেতাই ছিল অন্য দল থেকে আসা। আর বঙ্গ বিজেপিতে নবাগতদের এই প্রাধান্য রীতিমতো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে আভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোর। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন দলের একাধিক বর্ষিয়ান নেতা। আগামী দিনে যেন নতুনদের জন্য পুরাতন বিজেপি কর্মীদেরকে বক্তব্যের লিস্ট থেকে বাদ দেওয়া না হয়, সেই বিষয়ে বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সিপিএম থেকে আসা মাফুজা খাতুন থেকে শুরু করে তৃণমূল থেকে আসা সব্যসাচী দত্ত পর্যন্ত নেতারা যখন ভারতীয় জনতা পার্টির মেগা মিটিংয়ে বক্তব্য রাখার সুযোগ পাচ্ছে, তখন কেন পুরাতনদেরকে বাদ পড়তে হচ্ছে! তবে এই বিষয়ে কিছুটা আলাদা মত প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, পুরাতন যে সমস্ত নেতৃত্ব রয়েছেন, তারা তো বলার সুযোগ পাবেন। কিন্তু নতুনদেরকেও প্রথম প্রথম সুযোগ দেওয়া উচিত।তবে দীলিপবাবুর এই মতবাদকে সহজে মেনে নিতে পারছেন না দলের আদি নেতারা

স্বভাবতই তাদেরকে দলের বড় মঞ্চে সুযোগ না দেওয়ায় রীতিমতো ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে পুরাতন বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। কিন্তু আগামী দিনে নিজেদেরকে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছতে গেলে পুরাতন কর্মীদেরকেও যে প্রয়োজন, তা রীতিমতো বুঝতে পারছেন বিজেপির রাজ্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই পরবর্তী দিনগুলোতে এই ঘটনা ঠিক কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছয়, সেদিকেই নজর থাকবে বিশেষজ্ঞ মহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!