এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > অকালে প্রেমের বোধন – কলমে – অপরাজিতা , পর্ব ১

অকালে প্রেমের বোধন – কলমে – অপরাজিতা , পর্ব ১

ফ্লাইটে বসে সিটবেল্টটা বেঁধে নিলো অভি। যতবারই যায়, আসে এয়ারপোর্টে পৌঁছে, ফ্লাইটে বসে, ফোন করে দেয় অভি ওর মা অনুপমাকে। এবারেও কল করতে গিয়েও করলো না।ছোটমা ( কাকিমা -সুপ্রিয়া)কে কল করে বললো – হুম – ছোটমা ,আমি ফ্লাইটে বসে পড়েছি, ব্যাঙ্গালোরে পৌঁছে আবার কল করবো। -ওপাশ থেকে (কাকিমা -সুপ্রিয়া)- তোর মা খুব চিন্তা করছে ,বাবু – একবার কথা বল।  শুনেই ফোনটা কেটে দিলো অভি।

চোখ বুঝলো – মা – লোকের মায়ের জন্য কতো ভালো হয়। আর অভি আজ পর্যন্ত যত বড় বড় বাঁশ খেয়েছে সব মায়ের জন্য। অভির ইচ্ছা ছিল নেভিতে যাবে। শুনেই মা কাঁদতে শুরু করেছিল – কারণ মায়ের ধারণা তার ছেলের উপর সবার আক্রোশ। কোনোদিন নাকি সমুদ্রে ফেলে দেবে অন্যরা। মা এমন বোঝায় ঠাকুমাও বেশ বুঝে যায়। মা ঠাকুমা দুজনেই মরা কান্না জুড়ে দিয়েছিলো। তবুও দাদু, ছোট পিসে, বাবা, কাকা পাশে দাঁড়িয়েছিল আর্টিফিসার এপ্রেন্টিস এক্সাম দিয়েছিলো অভি। চান্স পেয়েছিলো কিন্তু অনেক পরে চিঠি এসেছিলো তখন সব শেষ।

চাকরিতে যোগ দিয়েই একটা আমেরিকা – অন সাইটে যাবার অপরচুনিটি এসেছিলো। মা সেবারও কান্নাকাটি শুরু করলো, কেন না আমি নাকি বাইরে গিয়ে কোনো বিদেশিনীকে বিয়ে করবো। ব্যাস, ভিজাতে আটকে গেলো। অভির নাকের ডগা দিয়ে যোগেশ শ্রীবাস্তব ফুড়ুৎ হয়ে গেলো। সিরিয়াসলি। ফালতু ফালতু টেনশন করে, কু ডেকে কেউ নিজের ছেলের ক্ষতি করে মাকে না দেখলে ধারণাও করতে পারতো না অভি।

যদিও আগের ক্ষতগুলো মিটেছে। খড়্গপুর আই আই টি থেকে পড়েছে। ব্যাঙ্গালোরে বড় কোম্পানিতে চাকরি করে। বাইরেও গিয়েছিলো। যদিও তখন ও মা শুরু করেছিল। অভি রেগে বলেছিলো -আমি যাবোই। কিন্তু আর ফিরবো না। তুমি এইসব কু ডাকছো। দেখবে প্লেইন ক্র্যাশ করে যাবে। তোমার ভালো হবে। ছেলের কথায় ভয় পেয়ে আর আপত্তি করেননি অনুপমাদেবী। মা নাকি এত ভয় পেয়েছিলো আমেরিকা যাওয়া , আসার সময় ওদের বাড়ির দূর্গা দালানে হত্তে দিয়ে পড়েছিল। যাতে অভি ভালোভাবে পৌঁছায় আর ফিরে আসে।

কিন্তু এবার মায়ের জন্য যে বাঁশ খেয়েছে অভি কিছুতে পূরণ হবে না। হঠাৎ মনে পড়লো সায়নার কথা। কি বলবে ওকে এবার। সায়না বোস – ওদের অফিসে নতুন জয়েন করেছে , বাঙালি , ভীষণ স্মার্ট, একটু ন্যাকা বাট অভি প্রেমে পড়েছিল। অভির দিকে একটু ঝুঁকেছে মেয়েটা। বাঙালি বলে বেশ বন্ধু হয়ে গেছে। অভি ভেবেছিলো বাড়ি থেকে ফিরে এসে প্রপোজ করবে। কিন্তু মা সব শেষ করে দিলো।উফফ কিছু ভালো লাগছে না।

এই সব ভাবতে ভাবতে ব্যাঙ্গালোরে পৌঁছালো অভি। নেমে, লাগেজ নিয়ে ট্যাক্সি ধরলো। তারপর বাবাকে কল করলো – ফোন টা মা ধরলো। বাবু –?

অভি – পৌঁছে গেছি। ট্যাক্সি ধরেছি, ফ্ল্যাটে গিয়ে জানিয়ে দেব, রাখছি।

অনুপমা – বাবু, মেয়েটার মুখের দিকে আমি তাকাতে পারছি না। একবার কথা বল, তোর রাগ তো আমার উপরে মেয়েটা কি করেছে বল।

অভি – মা আমি এখনো ফ্ল্যাটে ঢুকিনি, সিন ক্রিকেট করো না। কি চাও এক্সিডেন্ট হয়ে আমি মরি।

অনুপমা – বাবু। …………………..

ফোনটা কেটে দিলো অভি।

ফের ফোন বাজলো। এবার প্রিয়া দি। অভির বড় পিসি মারা গেছে। পিসেমশাই আবার বিয়ে করেছেন। সেই দ্বিতীয় পক্ষের মেয়ে হলো প্রিয়া দি। বিয়ের পর ব্যাঙ্গালোরেই থাকে। নিজের ভাইয়ের মতোই সম্পর্ক অভির সঙ্গে প্রিয়ার। যদিও সেই নিয়ে বড় অভিযোগ অভির বড় পিসির মেয়ে রিম্পার। অভি পাত্তা দেয়না। ফোনটা তুললো অভি – কি রে? কদিন কোনো খবর নেই। বার বার কল করছি ফোন তুলছিস না। জুঁই আমাকে ফটো পাঠিয়েছিল – কি মিষ্টি দেখতে রে। পুরো লক্ষী ঠাকুর মনে হচ্ছে। রাখছি বলে ফোনটা কেটে দিলো অভি।

অভিদের বাড়ি কলকাতার কাছে শান্তি নগরে। অভিদের পরিবার বনেদি পরিবার। অভির পূর্বপুরুষ কেউ এখানে বড় জমি দান করেছিলেন স্কুল বানানোর জন্য। হাই স্কুল হয়েছে সেই জমিতেই। অভির দাদু সেই স্কুলের হেড স্যার ছিলেন। কিন্তু রিটায়ার্ড করার পর ও তিনি স্কুলে পড়াতেন। এখন আর তেমন বেড়োন না। কিন্তু এলাকার মানুষ খুব গন্নি মান্নি করে অভির দাদুকে। অভির বাবাও ওই স্কুলের ম্যাথের টিচার। কাকা অবশ্য ব্যাংকের ম্যানেজার। অভিদের বাড়ির সকলেই ওই স্কুল থেকেই পড়েছে। অভিও ওই স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছে।

অভির পুরোনাম – অভিলাষ, নামটা দাদুর দেওয়া। বয়েস ২৭। দেখতে রাজপুত্র। মা বাবু বলে। আর ছোটমা মাঝে মাঝে বাবু বলে। বাকি সবাই অভি বলে ডাকে। দাদু আর ঠাকুমা দাদুভাই বলে। অভিরা এক ভাই, একবোন। বোনের নাম জুঁই। বাবারা দুই ভাই। প্রথমে বড় পিসু, তারপর বাবা, তার পর বাকি চার পিসি শেষে কাকু। কাকুর একটাই মেয়ে। সে মোটে ৬ বছরের। কাকিমার সঙ্গে অভির সম্পর্ক বন্ধুর মতো। যত আবদার সেই মেটায়। আর আছে ছোট পিসে। নিজের ছেলের থেকে বেশি ভালোবাসে। মা বেশি ঝামেলা করলেই ছোট পিসে সামলায়। অভির সব থেকে ভরসার জায়গা। কিন্তু এবারে পিসেও মায়ের দিকেই ঝুঁকেছে। কিন্তু অভির তাতে রাগ নেই। ছোট পিসির উপর কোনো রাগ থাকে না অভির। সব মায়ের ওই কু ডাকার জন্যই হয়েছে। এমনটাই ধারণা অভির আর সেই নিয়ে মায়ের উপর রাগ।

কিছু বুঝছেন ? বিষয়টা জানতে হলে দিন পনেরো আগে পিছিয়ে যেতে হবে।

প্রায় দিন পনেরো আগে অভি আর তার ফ্লাটমেট কুশল অভিদের বাড়িতে এসেছিলো। গল্পের শুরু তখন থেকেই।

ছেলে এতদিন পর বাড়ি এসেছে। ছেলের পছন্দ সই সব রান্নাই হলো। নিজেদের পুকুরের মাছ আহা। স্বাদই আলাদা। অভি মাছের ত্বক খেতে ভালোবাসে। ওর মা করেছেন সেটা। কিন্তু আজকেই করেছে কালকে একটু মোজলে ব্যাপক লাগবে। খেতে খেতে অভি বললো – কালকে তক্তা আরো ভালো লাগবে রেখে দাও আজ মাছের অন্যকিছু খাচ্ছি কাল খাবো।

অভির ঠাকুমা, কাকিমা ,বোন একসঙ্গেই টেবিলে বসে গল্প করছিলো। ঠাকুমা বললো – কাল তো হাঁড়িবারণ। পরিতোষের মেয়ের বিয়ে তো কাল। আমাদের সবাইকে বলে গেছে। তুমি আসবে সেও জানে আলাদা করে তোমাকেও বলেছে। আজ টক খেয়ে নাও।

অভি বললো বুঝলাম – কিন্তু এই পরিমল কে?

অনুপমা – আরে প্রতাপ বাবুর বদলি হয়ে যিনি এসেছিলেন। তুই পরিসনি।

অভি – ও আচ্ছা।

অভির ঠাকুমা বললেন – গুঞ্জাবতীর বিয়ে হচ্ছে আমাদের পরমের ছেলের সঙ্গে।

পরম হলো অভির দাদুর স্টুডেন্ট। অভিদের বাড়িতে খুব আসতো। এখনো আসে। কলকাতায় চাকরি করেন। পাশের গ্রামে বাড়ি। অভি ভালো করে চেনে। অভি চেনে সন্দীপকে পরমের ছেলে, অভির থেকে বড়।

গুঞ্জাবতী নামটা শুনে অভি বললো – কার বিয়ে ?

অনুপমা – গুঞ্জাবতী।

অভি গুঞ্জাবতী নাম শুনে হা হা করে হেসে উঠল।

 

পরের পর্ব – অকালে প্রেমের বোধন – কলমে – অপরাজিতা , পর্ব ২

আমাদের আর এক প্রেমের গল্প – পড়তে ক্লিক করুন

বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা – কলমে – অপরাজিতা

 

আমাদের অন্য গল্প পড়তে ক্লিক করুন – অপরাজিতা

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!