এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > মুখ্যমন্ত্রীর ‘হাজারটা চোখ’ এড়িয়ে আবার মুকুল রায়ের নামে ফ্লেক্স, অস্বস্তিতে নেতৃত্ত্ব

মুখ্যমন্ত্রীর ‘হাজারটা চোখ’ এড়িয়ে আবার মুকুল রায়ের নামে ফ্লেক্স, অস্বস্তিতে নেতৃত্ত্ব

একদা দলের অঘোষিত দুনম্বর মুকুল রায়, কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করে দলত্যাগ করার পর, দলের প্রথম কোর কমিটির বৈঠকে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় নেতা-কর্মীদের কঠোর বার্তা দেন। তিনি নজরুল মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন, আমরা হাজারটা চোখ রয়েছে, বান্দোয়ানে বা খাতড়ায় কী হচ্ছে, সব নজরে রয়েছে। যদিও মুকুল রায় দলত্যাগ করার পর প্রকাশ্যে সেই নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী। তৃণমূলের একাংশ থেকে দাবি করা হয়, মুকুল রায়ের দলত্যাগকে কোনো গুরুত্ত্ব দিতেই নারাজ তিনি, তাই এবিষয়ে বাক্যব্যয় করতে চান না। অন্যদিকে মুকুলবাবুর ঘনিষ্ঠ কিছু নেতার দাবি, মুকুল বাবু দলত্যাগ করাতে যথেষ্টই অস্বস্তিতে তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্ত্ব, আর তাই মুখ খুলে আরো চাপ ডেকে আনতে চাইছেন না তাঁরা, তাই শীর্ষনেতৃত্ত্ব নিশ্চুপ।
এমত পরিস্থিতিতে কোর কমিটির বৈঠকে দলনেত্রী কার্যত কঠোর বার্তা দিয়ে রাখেন, দলের মধ্যে থেকে অন্যদলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে না, যদি না পোষায় দল থেকে তাঁরা চলে যেতে পারেন, কিন্তু নেত্রী হিসাবে দলবিরোধী কোনো কাজই তিনি মেনে নেবেন না। কিন্তু নেত্রীর এহেন বক্তব্যের পরেও কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে গোপনে রাজ্য জুড়ে মুকুলবাবুর নামে পোস্টার পড়তেই থাকছে। বিশেষ করে যে বান্দোয়ানের উদাহরণ তিনি টেনে এনেছিলেন কোর কমিটির বৈঠকে, সেই বান্দোয়ানেই আবার পোস্টার পরায় বেড়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।কেউ বলছেন এটা রাতের অন্ধকারে বিজেপির কাজ, তো কেউ বলছেন ইতিমধ্যেই বসে যাওয়া কোনো কোনো কর্মী অতি উৎসাহে করছেন এটা। কিন্তু শাসকদলের অন্দরে থাকা চাপা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়েও এমন করা হচ্ছে, বলা লোকের সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। কিন্তু ঘটনা যাই হোক, তৃণমূলনেত্রীর কড়া বার্তাকে উপেক্ষা করে মুকুলবাবুর প্রতি সমর্থনে পোস্টার পড়াতে শাসকনেতৃত্ত্বের অস্বস্তি বেশ স্পষ্ট। তবে স্থানীয় নেতৃত্ত্ব জোর গলায় বলছেন, রাতের অন্ধকারে কয়েকটা ফ্লেক্স টাঙিয়ে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেত্রীর উপর মানুষের আস্থা কিছুতেই টলানো যাবে না, এর প্রভাব ভোটবাক্সে পড়বে না কিছুতেই। তবে সত্যিটা জানতে আমাদের পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।

Top
error: Content is protected !!