এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বিজেপিতে যোগ দিতেই এবার প্রতারণা মামলায় ঘুম উড়তে চলেছে সৌমিত্র খাঁয়ের – জানুন বিস্তারিত

বিজেপিতে যোগ দিতেই এবার প্রতারণা মামলায় ঘুম উড়তে চলেছে সৌমিত্র খাঁয়ের – জানুন বিস্তারিত

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার এক সপ্তাহ পেরোতে না পেরোতেই সৌমিত্র খাঁয়ের বিরুদ্ধে এবার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হল বড়জোড়া থানায়। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগটি তুলেছেন স্বয়ং তাঁর মামাতো ভাই প্রশান্ত মন্ডল।

অভিযোগকারী বয়ানে লিখেছেন, তাঁর সংসদ সদস্য দাদা সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তিন লক্ষ টাকা নিয়েছেন৷ অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নেমেছে বড়জোড়া থানার পুলিশ। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুয়ো বলেই দাবী করেছেন সৌমিত্র খাঁ। বিষয়টি জানাজানি হয়ে যেতেই তীব্র শোরগোল পড়ে যায় গোটা বাঁকুড়া জেলা জুড়েই।

বড়জোড়ার বাসিন্দা বছর ত্রিশের প্রশান্ত অভিযোগে আরো জানা গিয়েছে,সৌমিত্র খাঁ সম্পর্কে তাঁর পিসতুতো দাদা। এই সৌমিত্র বাবু এসএসসির মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর থেকে তিন লক্ষ টাকা নেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর সে কথা রাখেননি সৌমিত্র বাবু। তবে এতোদিন পর তিনি এখন কেন অভিযোগ জানাতে এলেন?

এ প্রশ্নের জবাবে প্রশান্ত জানান,এতোদিন সৌমিত্র খাঁ তৃণমূলের সাংসদ হওয়ার চাকরির আশা করছিলেন তিনি। তাছাড়া তাঁর ভয়েও এতোদিন বিষয়টি কাউকে জানানো হয়নি। অন্যদিকে,দেওয়া টাকা ফেরত পাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে প্রশান্ত মন্ডলের। তবে অভিযোগকে তৃণমূলের চক্রান্ত বলেই ব্যাখ্যা করলেন সৌমিত্র খাঁ।

বক্তব্যে জানালেন,দলত্যাগ করার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে নোংরা রাজনৈতিক খেলায় নেমেছে তৃণমূল। শুধুমাত্র তাঁর নামে বদনাম রটানোর জন্যে মামাতো ভাইয়ের উপর চাপ সৃষ্টি করে এসব করা হচ্ছে। অভিযোগ না জানালে প্রশান্ত মন্ডলকে বড়জোড়া ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলেই দাবী করেন সৌমিত্র বাবু।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

তিনি আরো জানান,গত বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতিরা তাঁর শ্বশুরবাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে সৌমিত্র খাঁ হুঁসিয়ারী দিয়ে বললেন,”তৃণমূল নেতারা যেন ভুলে না যান, তাঁদেরও শ্বশুরবাড়ি আছে। আর সেখানেও কেউ ভবিষ্যতে ইট ছুঁড়তে পারে।”

তবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সৌমিত্র বাবুর অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং অযৌক্তিক বলে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন বড়জোড়ার তৃণমূল ব্লক সভাপতি অলোক মুখোপাধ্যায়। বললেন,”তাঁর মামাতো ভাইকে আমরা কেনও খামোকা হুমকি দিতে যাব? এটা ওঁদের ঘরের ব্যাপার। সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়িতে ইটপাটকেল কে মেরেছে তা আমার জানা নেই। তবে ওই ধরনের ঘটনা তৃণমূল প্রশ্রয় দেয় না।” এই ঘটনার সত্যতা এখনো সামনে আসেনি।

এব্যাপারে বাঁকুড়ার পুলিস সুপার কোটেশ্বর রাও বলেন,চাকরি দেওয়ার কথা দিয়ে তিন লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে সংসদ সদস্য সৌমিত্র খাঁয়ের বিরুদ্ধে। যতো জলদি সম্ভব এই রহস্যের জট উদ্ধার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য,তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ জানিয়েই সম্প্রতি দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এবং তাঁর এই দলত্যাগের নেপথ্যনায়ক যে যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়,সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন,”অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বৈরাচারী মনোভাব ও পুলিশের অত্যাচার আমাকে দল ছাড়তে বাধ্য করছে। আমাদের কোনও স্বাধীনতা নেই।”

শুধু তাই নয় তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত দিয়ে গিয়েছেন তিনি। বলেছেন,তৃণমূল কংগ্রেস পিসি-ভাইপোর দলে পরিণত হয়েছে। দিল্লিতে বিজেপির কার্যালয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের উপস্থিতিতেই গেরুয়া ঝান্ডা তুলে নেন সৌমিত্র খাঁ।

এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিকমহলে। এ কদিন রাজ্যরাজনীতিতে চর্চা কিছু কম ছিল না সৌমিত্র খাঁয়ের দলত্যাগ বিষয়ে। সেই চর্চাকে আরো একটু বাড়িয়ে এবার এই দলত্যাগী সাংসদই ফের প্রতারণার অভিযোগে জড়ালো।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!