এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > কেন্দ্রের দয়া নয়, আইন করে বাংলার জন্য বিশেষ আর্থিক সাহায্যের জন্য বড়সড় পদক্ষেপ অধীর চৌধুরীর

কেন্দ্রের দয়া নয়, আইন করে বাংলার জন্য বিশেষ আর্থিক সাহায্যের জন্য বড়সড় পদক্ষেপ অধীর চৌধুরীর

Priyo Bandhu Media


34 বছরের বাম সরকারের অবসান ঘটিয়ে যখন রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস, তখন থেকেই বিগত সরকারের দেনা তাদেরকে শোধ করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি এই ব্যাপারে কেন্দ্রের কাছে বারবার বাংলার জন্য বিশেষ প্যাকেজের দাবি জানিয়ে এসেছেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে সুর মিলিয়ে এতদিন বাংলার জন্য কেন্দ্রের আর্থিক অনুদান দেওয়ার ব্যাপারে তেমন কোনও কথা বলতে দেখা যায়নি কংগ্রেসকে।

কিন্তু এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোরবিরোধী বলে পরিচিত বাংলার কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বাংলার জন্য কেন্দ্রের কাছে দাবি জানালেন। সূত্রের খবর, বাংলার জন্য যাতে কেন্দ্র অনুদান দেয়, তার কারণে লোকসভায় প্রাইভেট মেম্বার বিল আনতে চলেছেন কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী। জানা গেছে, আগামীকাল সেই বিলটি পাস হতে চলেছে। আর যদি এই বিলটি পাশ হয়ে যায়, তাহলে বাংলার আর্থিক দুর্দশা অনেকটাই ঘুচবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

কিন্তু হঠাৎ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বাংলার জন্য কেন্দ্রের কাছে আর্থিক দাবি-দাওয়া চাওয়ার উদ্যোগকে খুব একটা ভালো চোখে নিচ্ছে না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। তাদের মতে, এর মধ্যে সূক্ষ্ম রাজনৈতিক সমঝোতার ব্যাপার রয়েছে। কেননা সম্প্রতি সমস্ত জল্পনা-কল্পনাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে নিজের মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রশাসনিক বৈঠকে ঘোর বিরোধী অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা রাজনৈতিক সৌজন্যের নজিড় বলে মনে করেছিল বিশেষজ্ঞরা।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

অনেকে এও দাবি করেছিলেন, রাজ্যে বিজেপির উত্থানে এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস এবং বামকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন। আর তাই সেদিক থেকে বিজেপিকে ঠেকাতে প্রশাসনিক বৈঠকে এখন কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে ডাকলেন। আর এবার সংসদে পরোক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলেন কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। যে কারণে এতদিন বাংলায় আর্থিক দেনার দায়ে রাজ্য সরকার চলছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেও, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, বর্তমান তৃণমূল সরকারের আমলে সেই দেনার পরিমাণ আরও বেড়ে গিয়েছে।

কিন্তু এবার সংসদে সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলার হয়েই অধীর রঞ্জন চৌধুরী গলা ফাটানোয় অন্য রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কেন তিনি হঠাৎ কেন্দ্রের কাছে বাংলার জন্য এই আর্থিক দাবি-দাওয়া চেয়ে বসলেন? এদিন এই প্রসঙ্গে লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই রাজ্যের জন্য কোনো বিশেষ প্যাকেজ বা ঋনমুক্তির দাবি নয়। আইনের মাধ্যমে বিশেষ আর্থিক সহায়তা চাইছি। সেই মত ‘দ্য ফিনান্সিয়াল অ্যাসিটেন্স টু দ্য স্টেট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল 2019’ আনা হচ্ছে।”

তিনি স্পষ্ট করে দেন, “কোনো দয়া-দাক্ষিণ্যে নয়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্য আদায় করতে চাইছি। গরিবদের পাশাপাশি গোটা রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা পেতেই এই বিল। যে সরকারই থাকুক, রাজ্যের উপর আমার অধিকার কম নয়। রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকলেও রাজ্যের উন্নয়নের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছি।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধীর রঞ্জন চৌধুরী যদি কেন্দ্রের কাছ থেকে বাংলার জন্য আর্থিক অনুদান আদায় করতে সক্ষম হন তাহলে তিনি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পারবেন।

একদিকে যেমন তিনি বাংলার প্রতি তার দরদী মনোভাব প্রকাশ করতে সক্ষম হবেন, ঠিক তেমনই উন্নয়নের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছেন বলে বার্তা দিতেও সচেষ্ট থাকবেন। ফলে দুই দিক থেকে লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই প্রাইভেট মেম্বার বিল এনে তা পাস করাতে কতটা সক্ষম হন, এখন সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন দাবি করেও যা পারেননি, তা সাংসদ হিসাবে অধীর চৌধুরী যদি সত্যিই আদায় করে দিতে পারেন – তাহলে দলমতের উর্ধে উঠে তিনি কিন্তু আম-বাঙালির কাছে চিরস্মরণীয় হয়েই থেকে যাবেন।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!