এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > “লঘু পাপে গুরুদণ্ড” তাপস পাল নিয়ে বিস্ফোরক অধীর চৌধুরী!

“লঘু পাপে গুরুদণ্ড” তাপস পাল নিয়ে বিস্ফোরক অধীর চৌধুরী!

একসময় দুজন একই সাথে লোকসভার বেঞ্চে বসেছিলেন। বিরোধী হলেও বিজেপি বিরোধিতার কারনে মাঝে মধ্যেই দুজনের কথা হত, আলাপচারিতা হত। একজন ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের। আর একজন কংগ্রেসের। একজন হলেন সদ্য প্রয়াত অভিনেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তাপস পাল। আর অপরজন হলেন বর্তমান লোকসভার কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। দুজনের মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও, এবার তাপস পালের মৃত্যুতে রীতিমত শোকাহত অধীরবাবু।

অতীতে তৃণমূল সাংসদ থাকার কারণ সময় তাপস পালের একটি বিতর্কিত মন্তব্যে শোরগোল পড়ে যায়। আর সেই সময়ে অন্যান্য রাজনীতিবিদের পাশাপাশি তৃণমূলের এই নেতার মন্তব্যের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে দেখা গিয়েছিল অধীর চৌধুরীকেও। তবে এবার তাপস পালের সঙ্গে অতীতে কাটানো সময় সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন সেই অধীরবাবু। বর্তমানে তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রয়াত হয়েছেন একসময় লোকসভায় তার সঙ্গী তাপস পাল।

এদিন তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে অধীর চৌধুরী বলেন, “সংসদে ওনার সঙ্গে কথা বলতাম, মজা করতাম। যখন উনি গ্রেফতার হলেন, তখন খারাপ লেগেছিল। মনে হয়েছিল, লঘু পাপে গুরুদণ্ড পাচ্ছেন তাপস পাল। বক্তৃতায় খারাপ ভাষা বলেছিলেন। আমি একদিন বলেছিলাম, জানেন তো তাপসদা মুখের ভাষা তীর ছোড়ার মত। ছুড়ে দিলে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। উনি লজ্জিত, অপমানিত বোধ করতেন। ওনাকে দেখে খারাপ লাগত। শেষের দিকে তাপসদার সঙ্গে যখন কথা বলতাম, তখন ওকে হতাশাগ্রস্থ লাগত। উনি অবহেলার স্বীকার হয়েছিলেন। বলতেন, কেউ তো আমায় পাত্তা দেয় না। আমার আর কোন দাম নেই।”

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে তাপস পাল তৃণমূলের হলেও, তাকে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি বলেও জানিয়ে দেন অধীর চৌধুরী। এদিন এই কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “উনি খুব ভেঙে পড়েছিলেন। আমি বলেছিলাম ভেঙে পড়বেন না। রাজনীতি করতে ভালো না লাগলে ছেড়ে দিন। অভিনয় জীবনে ফিরে যান। সাহেবের স্পিরিট নিয়ে ফিরে যান। ফোনে কথা হত তাপসদার সঙ্গে। তারপর তাপসবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। খুব খারাপ লাগছে।”

রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, এক সময় বিতর্কিত মন্তব্য, তার পরবর্তীতে রোজভ্যালি কাণ্ডে শ্রীঘরে যাওয়া থেকে শুরু করে নানা সময়ে বিতর্ক গ্রাস করেছে সদ্যপ্রয়াত তাপস পালকে। যার কারণে একসময় রাজনীতিতে দাপালেও, বেশ কিছুদিন ধরে তাকে রাজনীতির নাগপাশে দেখা যায়নি। এদিন তাপস পালের মৃত্যুর পরেই তার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস দায়ী বলে বিরোধীদের তরফে যখন অভিযোগ করা হচ্ছে, তখন তাপস পালের শ্রীঘর যাত্রা নিয়ে “লঘু পাপে গুরুদণ্ড” হয়েছে বলে দাবি করে পুরনো স্মৃতিকে উস্কে দিলেন কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!