এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > অধীর চৌধুরীকে ‘দুরমুশ’ করতেই দুই ঘনিষ্ঠকে সামনে রেখে মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দু অধিকারীর

অধীর চৌধুরীকে ‘দুরমুশ’ করতেই দুই ঘনিষ্ঠকে সামনে রেখে মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দু অধিকারীর

১৯’এর লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে কংগ্রেসকে কড়া টক্কর দিতে চাইছে তৃণমূল। মুর্শিদাবাদ বরাবরই কংগ্রেসের শক্তিঘাঁটি। আর এখানের বেতাজ বাদশা অধীর চৌধুরী। জেলায় অধীর বাবুর খ্যাতি এবং জনপ্রিয়তার জন্যে রাজনৈতিকমহলে মুর্শিদাবাদ ‘অধীর গড়’ হিসাবেও পরিচিত।

তবে এবারের লোকসভা ভোটে মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস বনাম তৃণমূলের কাঁটে কা টক্কর হতে চলছে। অধীর চৌধুরীকে ধরাশায়ী করতে তাঁরই দুই প্রাক্তন ছায়াসঙ্গীকে ভোটোর ময়দানে নামাল তৃণমূল। অপূর্ব সরকার এবং আবু তাহের খান। দুজনই একসময়ের কংগ্রেস বিধায়ক এবং অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

বহরমপুর কেন্দ্রে অপূর্ব সরকারকে এবং মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে আবু তাহের খানকে প্রার্থী করল তৃণমূল। এছাড়া জঙ্গিপুর কেন্দ্রে ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানকে প্রার্থী করা হল।

জেলার তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে বহরমপুর কেন্দ্রটি সবথেকে উল্লেখযোগ্য। এই কেন্দ্রে দীর্ঘদিনের কংগ্রেস প্রার্থী প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁর বিরুদ্ধে কান্দির বিধায়ক তথা পুরসভার চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকার ওরফে ডেভিডকে প্রার্থী করল তৃণমূল।

১৯৯৯ সালে কান্দি পুরসভার বিধায়ক কাউন্সিলর হওয়ার পর ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল হিসাবে জয়ী হন তিনি। এরপর ২০১১ এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের তরফ থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে জয়ী হন তিনি। ২০১৭ সালের ১৮ মার্চ কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূলে শামিল হন অপূর্ব বাবু।

হাতের মুঠোয় আরও সহজে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে যোগ দিন –

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

দলীয় সূত্রের খবর,জেলা রাজনীতিতে অপূর্ব সরকার ওরফ ডেভিডের প্রভাব লক্ষ্য করার মতো। তিনি দফায় দফায় পুরসভার ভোটে আরএসপি নেতা তথা চেয়ারম্যান প্রমথনাথ ঘোষকে, বিধানসভা নির্বাচনে কান্দির রাজাবাবু তথা অতীশ সিংহকে হারিয়েছেন। লোকসভা ভোটেও তিনি এরকম চমক দেখাবেন আশা করে তাকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

তাছাড়া কিছুদিন আগেই অপূর্ব বাবুকে বহরমপুর পুরসভার প্রশাসক পদেও নিয়োগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাজেই আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল,আসন্ন লোকসভা ভোটে অপূর্ব বাবুকে নিয়ে বেশ ভাবনাচিন্তা রয়েছে তৃণমূলের। প্রার্থী হওয়ার পর অপূর্ব বাবুর বক্তব্য,’লোকসভা ভোটে বহরমপুর কেন্দ্রে লড়াই করার সুযোগ পেয়ে খুশি। সকলের সহযোগিতায় এবার এই আসনটি দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেব।’ তবে জেলায় কংগ্রেস-সিপিএমের জোট অধীর চৌধুরীকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সিপিএমের আওতায় থাকা মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সিপিএম প্রার্থী স্থানীয় সংসদ বদরুদ্দোজা খানের বিরুদ্ধে নওদার বিধায়ক আবু তাহের খানকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাহের সাহেব। তিনি একবার নওদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর ২০০১ সালে কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল হিসাবে বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। এর ২০০৬,২০১১ এবং ২০১৬ সালে কংগ্রেসের হয়ে ভোটে লড়ে বিধায়ক হন।

অধীর চৌধুরী ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত এই মানুষটি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নওদা ব্লক কংগ্রেস এবং বছর খানেক কংগ্রেসের সভাপতির ভূমিকাও পালন করেছেন। এরপর ২০১৮ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে,অভিজ্ঞ এবং দক্ষ সংগঠক হিসাবে পরিচিত তাহের সাহেব সিপিএমকে কড়া টক্কর দিতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যেহেতু জেলায় কংগ্রেস এবং সিপিএমের জোট হচ্ছে কাজেই তৃণমূলের একক লড়াই সহজ হবো না।

অবশ্য জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তাহের সাহেব। বললেন,’এই কেন্দ্রে লড়াই করার সুযোগ দেওয়ায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানাই। এলাকাবাসীর আশীর্বাদে এই কেন্দ্র এবার তৃণমূল নেত্রীর হাতে তুলে দেব।’

জেলার অন্য একটি নজরকাড়া কেন্দ্র হল জঙ্গিপুর। এই কেন্দ্র থেকেই একসময় নির্বাচিত হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় বর্তমানে তাঁর পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় এই কেন্দ্রের সংসদ সদস্য এবং এবারের কংগ্রেস প্রার্থী। এই৷ কেন্দ্র থেকেই তৃণমূল ব্যবসায়ী খালিলুর রহমানকে প্রার্থী করেছে। ধুলিয়ান ডাকবাংলোর বাসিন্দা রহমান সাহেবের গত বিধানসভা নির্বাচনে সামশেরগঞ্জ কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল। অসুস্থতার কারণে হতে পারেননি। তবে এবারের লোকসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

প্রার্থী হওয়ার পর বক্তব্য,’অসুস্থতার কারণে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারিনি। এবার তৃণমূল লড়াই করার সুযোগ দিয়েছে। মানুষের আশীর্বাদে এই কেন্দ্র মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেব।’ ব্যবসার পাশাপাশি স্কুল,কলেজ স্থাপনে বহুবার অার্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। রহমান সাহেবের এই সমাজসেবী রূপ তৃণমূলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌছে দেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Top
error: Content is protected !!