এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > দলের ভাঙন রোধে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়ে চমকে দিলেন অধীর চৌধুরী, লোকসভার আগে বড় বার্তা?

দলের ভাঙন রোধে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়ে চমকে দিলেন অধীর চৌধুরী, লোকসভার আগে বড় বার্তা?

সেতুভঙ্গকে হাতিয়ার করেই দলের ভাঙন জোড়া লাগাতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে দেখা গেল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে। লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেস সাংগঠনিক ফাটল নিয়ে বেশ চিন্তায় রয়েছেন অধীর চৌধুরী। তাই এবার খানিকটা কৌশল করেই দলীয় সংগঠনকে ত্রুটি গুলোকে মেরামত করে এবং নীচু তলার কংগ্রেস নেতাদের যোগাযোগের ভীতকে শক্ত করতে সেতুভঙ্গকেই কাজে লাগালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। সম্প্রতি মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয়ের পর রাজ্যের অন্যান্য সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সেই সূত্রেই এদিন ফারাক্কা ব্যারেজ সংলগ্ন  গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুর সাংসদ অধীর চৌধুরী। আর সঙ্গে নিয়েছিলেন ‘তৃণমূলমুখী’ কংগ্রেস বিধায়ক মইনুল হককে। এছাড়া সঙ্গে ছিলেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিশেষজ্ঞরা,ছিলেন ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের জেনারেল ম্যানেজার শৈবাল ঘোষ।

ফারাক্কা ব্যারেজ সংলগ্ন সেতুটি উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের সড়ক পথে যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও সেটির কোনো রক্ষণাবেক্ষণ হয়না। ফলত সেতুটির অবস্থা ভালো নেই। ভাঙা রেলিং এবং জরাজীর্ণ কংক্রীট নিয়ে কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। এমতাবস্থায় সেতুটির কোথায় কোন মেরামতির প্রয়োজন সেটাই খতিয়ে দেখে গেলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা। মেরামতির সময় সেতু বন্ধ রাখা হবে কিনা সে বিষয়ে পূর্নাঙ্গ আলোচনা হয় সাংসদ বিধায়কের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ তথা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের। প্রাথমিক কথাবার্তায় স্থির হয়েছে যাতায়াতের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে সেতুর পাশের রাস্তা খোলা রেখেই মেরামতির কাজ চালানো হবে। উল্লেখ্য, অধীর বাবু প্রাক্তণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ায় ফারাক্কা সহ রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেতু রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামতির ব্যাপারে অধীর চৌধুরীর বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শুনেছিলেন গড়কড়ী। ফারাক্কা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেই বিশেষজ্ঞদের একটা টিম অবিলম্বে পাঠানো হবে বলেও আশ্বাস দিলেন গড়কড়ী। সেই প্রতিশ্রুতি মোতাবেকই সেতু পরিদর্শন পর্ব সম্পন্ন হল এদিন।

কিন্তু সবথেকে নজরে আসার মতো বিষয় হল দক্ষিণ মালদা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরীকে এদিন দেখা গেল না অধীর চৌধুরীর সঙ্গে। তাঁর বদলে ফারাক্কার বিধায়ক মইনুল হকের উপস্থিতি নজর কেড়েছে রাজ্য রাজনৈতিকমহলের। ফারাক্কা সেতু মুর্শিদাবাদ এবং মালদহের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেছে। মুর্শিদাবাদ অধীর বাবুর নিজের জেলা হলেও ফারাক্কা তাঁর নির্বাচনী ক্ষেত্র বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত নয়। ফারাক্কা বিধানসভা দক্ষিণ মালদহ লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় পড়ে। আর সেখানের সাংসদ হলেন আবু হাসেম খান চৌধুরী ওরফে ডালু। আশ্চর্যজনকভাবে তাকেই এদিন ফারাক্কা পরিদর্শনে করা টিমে দেখা গেল না।

কংগ্রেসের অন্দরের খবর থেকে জানা গিয়েছে, এই আবু হাসেম এবং তাঁর ভাগ্নি তথা উত্তর মালদহের সাংসদ মৌসম নূর তৃণমূলমুখী ছিলেন। বহুবার লোকসভা ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোটের স্বপক্ষে সওয়াল তুলেছেন ডালু। এমনকি জোট নিয়ে আলোচনার জন্য তাকে কয়েকবার তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি মিটিং করতেও দেখা গিয়েছে। এদিন ফারক্কা পরিদর্শনে তাকে অধীর চৌধুরীর পাশে দেখা না যাওয়ার নেপথ্যে কী কারণ থাকতে পারে তা নিয়ে ঘোর জল্পনা চলছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে।

অন্যদিকে,তৃণমূল মহাসচিবের বাড়ি আবু হাসেম খান চৌধুরী যার সঙ্গে গিয়েছিলেন সেই মইনুল হককে সারাক্ষণ ফারাক্কা সেতু পরিদর্শনে অধীর বাবুর পাশে হাঁটতে দেখা গেল। মইনুল হকের তৃণমূল ঘনিষ্ঠতা নিয়েও রাজ্যরাজনৈতিমহলে চর্চার বিষয় ছিল। মাঝখানে খবর পাওয়া গিয়েছিল তিন তৃণমূলে যোগ দেবেন। এর জন্য প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে মইনুল হকের বেশ দূরত্বও তৈরি হয়েছিল।  তবে সে দূরত্ব এখন মধুর সম্পর্কে পরিনত হয়েছে তেমনটাই প্রমাণ পাওয়া গেল এদিন। জাতীয় কংগ্রেস সুপ্রিমো রাহুল গান্ধী নিজের কথা বলে মইনুল হককে কংগ্রেস না ছাড়তে অনুরোধ করেছিলেন। তাই আখরুজ্জামান,আবু তাহেরের মতো বিধায়করা কংগ্রেসের সংগঠনকে দূর্বল করে দিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেও মইনুল কিন্তু কংগ্রেসেই থেকে গেলেন। তৃণমূলঘনিষ্ট কংগ্রেস নেতা ডালু বাবুর বদলে মইনুল হকের মতো বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে পাশে রেখে অধীর চৌধুরী কিন্তু সাফ বুঝিয়ে দিলেন লোকসভা ভোটে জোট গড়তে তৃণমূলের হাত কখনোই ধরবে কংগ্রেস। তাঁর কট্টর তৃণমূল বিরোধী রূপ ফের একবার প্রকাশ্যে এল ফারাক্কা সেতু পরিদর্শনের সূত্র ধরে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!