এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > আদালতের নির্দেশ পেতেই তড়িঘড়ি অবস্থান বদল তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার “চেয়ারম্যানের!”

আদালতের নির্দেশ পেতেই তড়িঘড়ি অবস্থান বদল তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার “চেয়ারম্যানের!”

অনাস্থার সভা ডেকেও অবশেষে তা বাতিল করতে হলো চেয়ারম্যানকে। যে ক্ষেত্রে তার বাধা হয়ে দাঁড়াল কলকাতার উচ্চ আদালত। জানা যায়, গত মঙ্গলবারই অনাস্থা সভা ডেকেছিলেন নৈহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান। কিন্তু আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরই এদিন তা বাতিল করতে দেখা যায় তাঁকে।

প্রসঙ্গত, নৈহাটি পৌরসভায় নির্বাচনের সময় তৃণমূলের টিকিটে 31 জনের মধ্যে 31 জন কাউন্সিলরই জয়লাভ করেছিলেন। তবে সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি কিছুটা ভালো ফল করলে নৈহাটি পৌরসভার 15 জন তৃণমূল কাউন্সিলর তৃণমূল ছেড়ে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। যার ফলে পৌরসভায় নিজেদের ক্ষমতা দখল নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল। চাপে পড়ে বিজেপির পক্ষ থেকে অনাস্থা আনা হতে পারে এই আশঙ্কায় চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায় প্রশাসনকে জানিয়ে দেন যে, তিনি আর এই পৌরসভা চালাতে পারছেন না। আর এরপরই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে প্রশাসক বসানো হয়। যার ফলে চেয়ারম্যান থেকে কাউন্সিলর সকলেই প্রাক্তন হয়ে পড়েন।

অন্যদিকে এই পৌরসভার ক্ষমতা দখল করতে তৎপর হয়ে ওঠে গেরুয়া শিবির। বিজেপির অনাস্থা আনা চিঠিতে সই করেন প্রায় 18 জন কাউন্সিলর। তবে রাজ্য সরকার যেভাবে পৌরসভায় প্রশাসক বসিয়েছে, তাতে সেই ফর্মুলায় তাদের যে এই পৌরসভা দখল করা সম্ভব হবে না, তা অনুধাবন করে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতার উচ্চ আদালতে একটি মামলা করে বিজেপি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে যখন আদালতে মামলা চলছে, ঠিক তখনই যে সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলর বিজেপিতে গিয়ে তৃণমূল পরিচালিত পৌরসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন, তারা ফের বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসতে শুরু করেন। এখন বর্তমানে বিজেপিতে মোট 5 জন কাউন্সিলর রয়েছেন।

ফলে সেদিক থেকে বিজেপির পক্ষে এই বোর্ড দখল করা অত্যন্ত কঠিন। তবে পৌরসভায় এভাবে প্রশাসক বসানো যায় কিনা, তা নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে একসময় আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হলে তার পরিপ্রেক্ষিতে গত 25 সেপ্টেম্বর কলকাতা উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এভাবে প্রশাসক বসানো যায় না। প্রয়োজনে চেয়ারম্যানকে অনাস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

এদিকে আদালতের এই রায় পাওয়ার পরই বিজেপির থেকে নিজেদের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি হওয়ায় সমস্ত কাউন্সিলরদের চিঠি দিয়ে অনাস্থার সভার জন্য মঙ্গলবার পৌরসভার কার্যালয়ে ডাকেন চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়। তবে আদালতের পক্ষ থেকে আরেক নির্দেশিকা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, অনাস্থার এই সভা জেলাশাসকের উপস্থিতিতে করতে হবে।

আর এতেই নিজের ডাকা অনাস্থার সভার তারিখ পরিবর্তন করে এদিন অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “25 সেপ্টেম্বর আইনজীবী মারফত জানতে পারি আমাকে অনাস্থার মুখোমুখি হতে হবে। প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ। তাতে রয়েছে, জেলাশাসকের উপস্থিতিতে অনাস্থার সভা হতে হবে। তাই এদিনের সভা বাতিল করা হয়েছে। জেলাশাসক 16 অক্টোবর সভা ডেকেছেন।” তবে চেয়ারম্যান এর আগে অনাস্থার সভা ডাকার জন্য সমস্ত কাউন্সিলরকে চিঠি দিলেও তখনই বিজেপির 5 জন কাউন্সিলর জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তারা এই সভায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

যার জেরে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি হার নিশ্চিত জেনেই বিজেপি আগেভাগেই রণেভঙ্গ দিতে চলেছে! এদিন এই প্রসঙ্গে ব্যারাকপুর জেলা বিজেপির সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র বলেন, “আদালত নির্দেশ দিয়েছে, প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ। আমাদের দলে যারা এসেছিলেন, তারা অনেকেই ফিরে গিয়েছেন। কাউকে জোর করে টেনে আনা হয়নি। ওনারা স্বেচ্ছায় এসেছিলেন। অনাস্থার সভায় যা হবে, তা মেনে নেওয়া হবে।”

সব মিলিয়ে এখন জেলাশাসকের উপস্থিতিতে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নৈহাটি পৌরসভা যে তৃণমূলের দখলে যেতে চলেছে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত গোটা রাজনৈতিক মহল। তবে তখন পাঁচজন কাউন্সিলার নিয়ে বিজেপি ঠিক কোন পথ অবলম্বন করে! সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছেন অনেকে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!