এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > আগামী তিন মাসেই পাঁচ শীর্ষ তৃণমূল নেতার অগ্নিপরীক্ষা, ফলাফলের দিকে তাকিয়ে সবাই

আগামী তিন মাসেই পাঁচ শীর্ষ তৃণমূল নেতার অগ্নিপরীক্ষা, ফলাফলের দিকে তাকিয়ে সবাই

লোকসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পরে গেছে ইতিমধ্যেই। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে ভোট হলেও নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যকলাপ পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে এই বছরের শেষের দিক অর্থাৎ নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস করেই নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যকলাপ শুরু হয়ে যাবে পুরোদমে। আর তার আগেই আগামী দু-তিন মাসের মধ্যেই রাজ্যজুড়ে একসঙ্গে ১২ টি পুরসভার নির্বাচন। সেই নির্বাচনে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ-পাঁচজন হেভিওয়েট নেতার কাছে অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে। কেননা পঞ্চায়েতের ধারা বজায় রেখে এই ১২ টি পুরসভার মধ্যে ১-২ টি যদি বিজেপি ছিনিয়ে নিতে পারে বা অন্তত প্রতিটি জায়গায় নিজেদের ভোটব্যাঙ্কের উত্থানের গতি বজায় রাখতে পারে তাহলে তার প্রভাব আগামীদিনে লোকসভা নির্বাচনে পড়তে অবশ্যই বাধ্য। দেখে নেওয়া যাক কোন পাঁচ হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাকে সম্মুখীন হতে হচ্ছে এই অগ্নিপরীক্ষায়।

১. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁর অভিভাবকত্বে থাকা পুরুলিয়া জেলাতে গেরুয়া শিবিরের দুর্দান্ত রকম উত্থান হয়েছে। বর্তমানে দলের অঘোষিত দুনম্বর নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস এই মুহূর্তে কারোর নেই, কিন্তু নীচুতলায় এই নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আর এবার তাঁর সংসদীয় এলাকা ডায়মন্ড-হারবারে পুরসভার নির্বাচন। ১৬ আসন বিশিষ্ট সেই পুরভোটে তাঁর চ্যালেঞ্জ মূলত দুটি। এক – মহেশতলা ‘মডেলে’ ভোট করানো, যাতে কোনো বিরোধীরা ‘সন্ত্রাসের’ অভিযোগের আঙ্গুল তুলতে না পারেন। দুই – সেই শান্তিতে করা নির্বাচনে দেখিয়ে দেওয়া, ডায়মন্ড-হারবারের জনসমর্থন এখনো অটুট, বরং এই চার বছরে তা আরো বেড়েছে। যদি করে দেখাতে পারেন – লোকসভা ভোটে পুরো দলকে একার কাঁধে টেনে নিয়ে যাওয়ার জায়গায় চলে যাবেন, আর তা নাহলে, লোকসভা ভোটে গেরুয়া চাপ বেশ কয়েকগুন বেড়ে যেতে বাধ্য। বিশেষ করে দল যখন তাঁকেই ভবিষ্যতের নেতা হিসাবে বেছে নিচ্ছে, তাঁকে দেখিয়ে দিতেই হবে – তিনি সত্যিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ্য উত্তরসূরি।

২. জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক

মুকুল রায় দল ছাড়ার পর তাঁর পুত্রকে নিয়ে এবং বিজেপি রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিকবার মুখ খোলাতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী হিসাবে যেভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমন শানাতে গিয়ে ‘মাছের মত পাঁকে পুঁতে’ দেওয়ার তত্ত্ব সামনে এনেছেন তা সাধারণ মানুষ কতটা গ্রহণ করে এখনো তাঁর পাশে আছেন তা প্রমান করানোর সুযোগ তাঁর ‘গড়ে’ দু-দুটি পুরসভায় তিনি পাচ্ছেন। ২৪ আসন বিশিষ্ট হাবড়া ও ৩৫ আসন বিশিষ্ট পানিহাটি পুরসভায় দুর্দান্ত ফল করা মানেই দলের মধ্যে গুরুত্ত্ব বেড়ে যাওয়া বহুগুন। কিন্তু সেখানে যদি পদ্ম-বিকশিত হয়, তাহলে কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের আগে চাপ বাড়তে বাধ্য, কেননা মুকুল রায় দল ছেড়েই ঘোষণা করেছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার তিনটি লোকসভা আসনই এবার গেরুয়া দখলে যেতে চলেছে। সুতরাং, মুকুল রায়ের খাসতালুকে দলীয় কর্মীদের প্রিয় ‘বালুদার’ নায়েক কিছু প্রমান করার আছে।

৩. অনুব্রত মন্ডল

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাঁর খাসতালুক দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায় হুঙ্কার ছেড়েছিলেন, বীরভূম জেলা পরিষদ বিজেপি দখল করে নেবে। কিন্তু বাস্তবে তিনি রাস্তায় ‘উন্নয়ন দাঁড়’ করিয়ে বিরোধীদের মনোনয়নই জমা দিতে দেননি বলে অভিযোগ। এমনকি তাঁর ‘উন্নয়ন-তত্ত্ব’ যে সুধীজন সমাজ ভালোভাবে নেননি শঙ্খ ঘোষের কবিতাই তার প্রমান। এতো ‘উন্নয়ন দাঁড়’ করিয়েও যে কোটি অল্প জায়গায় বীরভূমে পঞ্চায়েত ভোট হয়েছে সেখানে কিন্তু পদ্ম-ফোটার স্পষ্ট ইঙ্গিত। আর এবার তাঁর গড়ে দু-দুটি পুরসভার নির্বাচন – যেখানে রীতিমত তাল ঠুকতে শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। ১৬ আসন বিশিষ্ট বীরভূমের দুবরাজপুর আর সমসংখ্যক আসন বিশিষ্ট বীরভূম সীমান্তে পূর্ব-বর্ধমানের গুসকরায় এবার পুর-নির্বাচন। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামলে কোন উন্নয়ন এখানে তিনি দেখাবেন সেদিকেই লক্ষ্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। কেননা আগামী লোকসভায় বীরভূমের দুই আসনই কিন্তু পাখির চোখ করেছে গেরুয়া শিবির।

৪. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

মুকুল রায় দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে আক্রমনের দায়িত্ত্বটা মূলত নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব। আর এবার তাঁর অগ্নিপরীক্ষা মুকুল রায়ের খাসতালুক বলে পরিচিত নদীয়ায়। এই জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিভাবকত্ত্ব করছেন তিনি। ফলে ২১ আসন বিশিষ্ট চাকদা পুরসভায় শাসকদল কি ফল করে সেদিকেই তাকিয়ে সবাই। কেননা, এতদিন পার্থবাবু মুখে-মুখেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসেছেন মুকুল রায়কে, পঞ্চায়েতের ফলে দেখা যাচ্ছে নদীয়াতেও পদ্মের উঁকিঝুঁকি। এরপর যদি কোনোরকমে পুর-ভোটেও মুকুল রায় এখানে পদ্ম ফোটাতে পারেন, লোকসভা নির্বাচনের আগেই বাকযুদ্ধে অনেকটা পিছিয়ে পড়বেন তিনি। দলের মহাসচিব হিসাবে মুকুল রায় যে সত্যিই কোনো ‘ফ্যাক্টর’ নয় তা প্রমান করার কঠিন দায়িত্ত্ব তাঁর।

৫. অর্পিতা ঘোষ

অরাজনৈতিক স্থান থেকে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থায় সাংসদ হয়েছেন। কিন্তু দলীয় স্তরেই গুঞ্জন জেলার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আগের থেকে বেড়ে গেছে বহুগুন। গত বিধানসভা নির্বাচনে যার ফলে হারতে হয়েছে দলের হেভিওয়েট মুখদের। আর এবার তাঁর সংসদীয় এলাকা বালুরঘাটেই ২৫ আসন বিশিষ্ট পুরসভায় ভোট। এমনিতেই উত্তরবঙ্গে বিজেপির যথেষ্ট বাড়বাড়ন্ত, লোকসভা ভোটার আগে যদি বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই নির্বাচনে পরিস্ফুট হয়, লোকসভা নির্বাচনে ‘অঘটন’ ঘটে যেতেই পারে। ফলে লোকসভা নির্বাচনের আগে ঘর গুছিয়ে নিজের সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দেওয়ার শেষ সুযোগ সাংসদের সামনে। ফলে কার্যত এই পুরভোটের ফলেই তার দ্বিতীয়বারের জন্য দিল্লি যাত্রার ভবিষ্যৎ অনেকটা ঠিক হয়ে যাবে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!