এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > আয়ুর্বেদিক কলেজে ‘ধন্বন্তরি পুজোতে’ কর্তৃপক্ষের না, ধুন্ধুমার কল্যাণীতে!

আয়ুর্বেদিক কলেজে ‘ধন্বন্তরি পুজোতে’ কর্তৃপক্ষের না, ধুন্ধুমার কল্যাণীতে!

আয়ুর্বেদিক কলেজে “ধন্বন্তরি পুজো” করতে চেয়ে ছাত্রদের আবেদনে সাড়া দিলেন না কলেজ কতৃপক্ষ। আর তারফলে, নদীয়া জেলার কল্যাণী বিআইপিএস আয়ুর্বেদিক কলেজ ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা ও ছাত্র বিক্ষোভ। কলেজে কোনো ঘোষিত ছাত্র সংসদ না থাকলেও, এতদিন রাজ্যের তৃণমূলের মানসিকতা সম্পন্ন ছাত্র-ছাত্রীরাই এই কলেজের অঘোষিত ছাত্র সংসদ বলে পরিচিত বলে দাবি কলেজ ছাত্রদের। কিন্তু, বর্তমানে সেই অঘোষিত ছাত্র সংসদ আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির হাতে বলে জানা গেছে।

ওই কলেজেরই ছাত্র, তথা এবিভিপির ছাত্রনেতা দুর্গাকান্ত রায়ের নেতৃত্বে কলেজের প্রিন্সিপালের কাছে “ধন্বন্তরি পুজো” করতে চেয়ে আবেদন করা হয়। প্রিন্সিপাল সেই আবেদন নাকচ করে দেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাতে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষও সেই আবেদন নাকচ করে দিলে – ক্ষোভে ফেটে পড়ে আবেদনকারী ছাত্র ছাত্রীরা। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এরকম পুজো আগে কোনোও দিন ওই কলেজে হয়নি, নতুন করে কিছু এখানে করা যাবে না। যদি কেউ জোর করে পুজো করে তাহলে সকলের অভিবাবকদের জানানো হবে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, এবিভিপির রাজ্যনেতা দুর্গাকান্ত রায় জানান, “ধন্বন্তরি” শব্দের অর্থ দেব চিকিৎসক। এটিই আয়ুর্বেদের আরাধ্য দেবতা। তিনি আরও জানান, কলেজে শুরুর দিকে এই পুজো কলেজে হলেও ধীরে ধীরে তা বন্ধ হতে হতে, এখন পুরোপুরিই বন্ধ হয়ে গেছে। এই পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবারই কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে ছাত্র-ছাত্রীদের ঝামেলা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যেহেতু এই কলেজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত আর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বামগড় বলেই পরিচিত। সবথেকে বড় কথা, বামেরা পুজোপার্বন তথা ভারতীয় সংস্কৃতি বিরোধী। বাম জামানা তথা বর্তমানের তৃণমূল জামানা আমাদের সংস্কৃতি পরম্পরা ভুলিয়ে দিয়েছে। আমরা আবার সেই সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাইছি – কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ বারেবারেই তাতে বাধা দিচ্ছেন!

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রাজ্যে ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করছে গেরুয়া শিবির – তাই তাঁরা সুকৌশলে প্রতিটা জায়গায় হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। যদিও এবিভিপির দাবী, এটি কোনো ধর্মের সাথে জুড়লে তা ঠিক হবে না। এটি আয়ুর্বেদের সংস্কৃতি – এই সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। তবে, এতদিন রাজ্য-রাজনীতিতে বড়সড় ক্ষমতার শীর্ষে থাকা তিনদল – কংগ্রেস, বামফ্রন্ট বা তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন, মূল সংগঠনের সঙ্গেই তুমুলভাবে রাজনীতির ময়দান জমিয়ে রেখেছিল। কিন্তু, গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠনকে সেইভাবে প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায় নি – কিন্তু বর্তমান রাজনৈতক প্রেক্ষাপটে বিজেপি যেমন বাংলা দখলের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে এগিয়ে চলেছে – ছাত্র রাজনীতির ময়দানেও, বড়সড় প্রভাব বিস্তার করছে এবিভিপি। আর তাই, তাঁদের আন্দোলনের তীব্রতা ও মৌলিকত্ত্ব ক্রমশ বড় প্রভাব ফেলছে রাজ্য-রাজনীতিতে।

Top
error: Content is protected !!