এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > তৃণমূলের ব্লক-সভাপতির খোঁজে বাড়িতে পুলিশ, অভিমানে সোজা কালীঘাটে

তৃণমূলের ব্লক-সভাপতির খোঁজে বাড়িতে পুলিশ, অভিমানে সোজা কালীঘাটে

মাত্র তিন  দিন আগে বলাগড়ের তৃণমূল ব্লক সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁজে পুলিশ তাঁর বাড়িতে যান। আর এতেই অপমানিত হয়ে শ্যামাপ্রসাদ বাবু এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করলেন। বাড়িতে পুলিশ আসা কে কেন্দ্র করে অত্যন্ত অসঅন্তুষ্ট শ্যামাপ্রসাদ বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ”আমি বাড়ি না-থাকায় পুলিশ আমার ৮৪ বছরের অসুস্থ মাকে বলে আসে, ধনেখালিতে গিয়ে ছেলেকে দেখা করতে বলবেন। না হলে ফল ভাল হবে না।” আক্ষেপের সুরে তিনি বললেন, ”বাম আমলেও পুলিশ কখনও বাড়িতে যায়নি।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এ বার দলের ছেলেদের কাছে মুখ দেখাব কী করে?” তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলাগড় অঞ্চলেরই অধিবাসী। দলের জেলা যুব সভাপতি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে তাঁর বিরোধীতার সম্পর্ক বহু দিনের এবং এলাকাবাসীর তা পরিচিতও। এখন রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে ঐ ব্লকের পঞ্চায়েতে দলীয় মনোনয়ন কে বা কারা পাবে তা নিয়ে পূর্বোক্ত দুই নেতা ও তাঁদের অনুগামীদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছে। এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি ধনেখালির দলীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী অসীমা পাত্রের বাড়িতে বৈঠক হয়।বৈঠকে শ্যামাপ্রসাদ বাবু অনুপস্থিত থাকলেও , উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্ত এবং বলাগড়ের দলীয় পর্যবেক্ষক তথা বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় ঐ দিন জেলা পুলিশের এক কর্তা শ্যামাপ্রসাদ বাবুর বাড়ি গেছিলেন ঠিকই তবে তিনি কখনই শ্যামাপ্রসাদ বাবুকে কোনো হুমকি দেননি। ঐ পুলিশ কর্তা বললেন,”ওঁকে তো গ্রেফতার বা আটক করতে পুলিশ যায়নি। সরকারি লোকজন ওঁর খোঁজ পাচ্ছিলেন না। তাঁদের অনুরোধেই পুলিশ খোঁজ করতে গিয়েছিল।”  এদিকে শ্যামাপ্রসাদ বাবুর বাড়িতে পুলিশ পাঠানোর প্রসঙ্গে বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল বলেন, ”শ্যামাবাবুকে কয়েকদিন ধরে খোঁজা হচ্ছিল। উনি ভোটের কাজের সময় তিন দিন ধরে মোবাইল বন্ধ করে বসে ছিলেন। আমি, অসীমা কেউ ওঁর সঙ্গে কথা বলতে পারছিলাম না। তাই খোঁজ করতে পাঠানো হয়েছিল।” তাঁর ফোন বন্ধ রাখার কথা জিজ্ঞাসা করে শ্যামাপ্রসাদ বাবুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন,”যে ভাবে টিকিট চেয়ে ঘন ঘন ফোন আসছে, তাতে ফোন বন্ধ রেখে একটু স্বস্তি পাচ্ছি।” জেলার যুব সভাপতি কে একপ্রকার দোষারোপ করে তিনি বললেন, ”যুব সভাপতি এলাকায় ঘোঁট পাকাচ্ছেন। আমি আর বিধায়ক আলোচনা করে সব ঠিক করেছি। জেলা পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস তা অনুমোদনও করেছেন। তাই আমার উপরে ওঁদের রাগ। কালীঘাটে গিয়ে বিষয়টা জানিয়ে এসেছি। আমাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।” এদিকে শ্যামা প্রসাদ বাবুর আনা অভিযোগ একপ্রকার অস্বীকার করে দলের জেলা যুব সভাপতি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বললেন,”এখানে গতবারের জয়ী ৩০ জন এ বার টিকিট পাননি। এটা আমাদের দলের নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এ নিয়ে অসীমাদিরা আলোচনায় ডাকলেও শ্যামাবাবু সেখানে যাননি। তবে ওঁর বাড়িতে পুলিশ পাঠানোর ব্যাপারে একেবারেই আমার কোনও হাত নেই।”

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!