এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > এখনো চিহ্নিত করা যায় নি রাজ্যের সব মৃত গ্রাহক, তাতেই সাড়ে ৬ লক্ষ ভুয়ো রেশন কার্ড চিহ্নিত!

এখনো চিহ্নিত করা যায় নি রাজ্যের সব মৃত গ্রাহক, তাতেই সাড়ে ৬ লক্ষ ভুয়ো রেশন কার্ড চিহ্নিত!

উদ্যোগটা শুরু হয়েছিল মাস কয়েক আগেই। মৃত রেশন গ্রাহকদের চিহ্নিত করে তাদের রেশন কার্ড বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল খাদ্যদপ্তর। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন জেলার মৃত রেশন গ্রাহকদের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বিডিওদের। এই প্রক্রিয়ায় গোটা রাজ্য থেকে প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ মৃত গ্রাহকদের পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। এদের কার্ডগুলো বাতিল করা হবে।

তবে খাদ্যমন্ত্রী জোতিপ্রিয় মল্লিকের দাবী,মৃত রেশন গ্রাহকের সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি। আরো চিহ্নিতকরণ দরকার। নবান্ন থেকেও খাদ্য দপ্তর কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,অবিলম্বে আরো মৃত রেশন গ্রাহকদের তালিকা জানাতে হবে। তবে এর আগেই মৃতদর চিহ্নতকরণ সংক্রান্ত একটি নীতি চালু করে খাদ্যদপ্তর। পুরসভা,পঞ্চায়েত,হাসপাতাল থেকে মৃতদের তালিকা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। তবে এখনো পর্যন্ত শুধু বিডিওদের মাধ্যমেই পঞ্চায়েতের মৃত্যু তালিকা পাওয়া গিয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী,কোনো পরিবারের সদস্যের মৃত্যুর পর তাঁর রেশন কার্ড ‘সারেন্ডার’ করা বাঞ্ছনীয়। এর জন্যে নির্দিষ্ট ফর্ম রয়েছে। মৃত রেশন গ্রাহকের কার্ড দেখিয়ে শেষ কবে খাদ্যসামগ্রী তোলা হয়েছে, তার সার্টিফিকেট নিতে হয় ওই ডিলারের কাছ থেকে। কিছু পুরসভা ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করার সময় রেশন কার্ড ফেরত দেওয়ার প্রমাণ চায়। কিন্তু এই নিয়ম সব জায়গায় ফলো করা হচ্ছে না বলেই মনে করছেন খাদ্যদপ্তরের আধিকারিকরা।

এর জেরে ব্যাপক আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে রাজ্যসরকারকে। মৃতদের রেশন কার্ডে বরাদ্দ করা চাল-গমের ভর্তুকির জন্য সরকারকে ব্যাপক অর্থ হয়ে যাচ্ছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে মৃত রেশন গ্রাহকদের কার্ড নিশ্চিতভাবে বাতিল করতে কড়া পদক্ষেপ নিতে চাইছে দপ্তর।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

প্রসঙ্গত,জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের (এনএফএসএ) সুবিধা প্রাপকের সংখ্যা কোন রাজ্যে কত হবে, তা প্রায় ৬ বছর আগে নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের কোটা নির্ধারিত হয় ৬ কোটি ১ লক্ষ। সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্য থেকে এই কোটা বাড়ানোর দাবী উঠলেও কেন্দ্রের তরফ থেকে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। এনএফএসএ-র মৃত গ্রাহকদের চিহ্নিত করে বাদ দিলে সেই জায়গায় নতুন নাম ঢোকাতে পারবে খাদ্য দপ্তর। এতে রাজ্য সরকারের আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমবে। কারণ এনএফএসএ বহির্ভূত রেশন গ্রাহকদের সম্পূর্ণ আর্থিক খরচ রাজ্যসরকারকেই ওঠাতে হয়। মাস কয়েক আগেই এনএফএসএ-কোটা একই থাকলেও গ্রাহকদের ডিজিট্যাল রেশন কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

এখন এখন নতুন আবেদনকারীদের রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সেই কার্ডের সংখ্যা ক্রমাগতই বাড়ছে বলে জানিয়েছে দপ্তর। সব মিলিয়ে রাজ্যে এখন প্রায় ৮ কোটি ৯০ লক্ষ রেশন কার্ড রয়েছে। রাজ্য সরকারের প্রকল্পের অধীনস্থ মৃত রেশন গ্রাহকদের চিহ্নিত করে বাতিল করা সম্ভব হলে প্রশাসনের আর্থিক চাপ কমবে। বর্তমানে খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয় রাজ্য। কার্ডের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভর্তুকির সংখ্যাও স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে।

খাদ্যদপ্তরের দাবী,বামফ্রন্ট জামানায় রাজ্যে জনসংখ্যার থেকে বেশি ছিল রেশন কার্ড। এবং মৃতদের রেশন কার্ড বাতিল করার কোনো উদ্যোগই নেয়নি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার। এর জেরে বর্তমানে এরকম ‘ভূতুড়ে’ রেশন কার্ডের রমরমা দেখা যাচ্ছে। তবে ২০১১ তে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার মৃত রেশন কার্ড বাতিল হয়েছে। এই তথ্য কেন্দ্র সরকার দ্বারাও স্বীকৃত। আপাতত ফের বিভিন্ন জেলার মৃত রেশন গ্রাহকদের চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত কর্মব্যস্ততা রয়েছে খাদ্যদপ্তরে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!