এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > গোপন ব্যালটে 4 টি বুথে মেয়র নির্বাচনের ভোট, ক্রস ভোটিং এড়াতে কড়া ব্যবস্থা শাসকদলের অন্দরে

গোপন ব্যালটে 4 টি বুথে মেয়র নির্বাচনের ভোট, ক্রস ভোটিং এড়াতে কড়া ব্যবস্থা শাসকদলের অন্দরে

মেয়র নির্বাচন নিয়ে এখন তীব্র তৎপরতা কলকাতা পৌরসভা অন্দরে। শাসক দলের মেয়র পদের প্রার্থী ফিরাব হাকিমকে জেতাতে ইতিমধ্যেই দলের সমস্ত কাউন্সিলরকে নিয়ে বৈঠক করলেন পৌরসভার চেয়ারপারসন মালা রায়। অন্যদিকে বিরোধী দল বিজেপির এই মেয়র পদে প্রার্থী মিনাদেবী পুরোহিত যাতে শাসকদলের ক্রস ভোট পেয়ে মাথা তুলতে না পারে সেই ব্যাপারেও তৃণমূলের প্রাক্তন মেয়র পারিষদেরা দলের কাউন্সিলরদের বেঁধে দিলেন সতর্কবার্তা।

সূত্রের খবর, আগামী 3 ডিসেম্বর বেলা একটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার এই মেয়র পদে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলবে। আর সেই নির্বাচনের কাজ শেষ হলেই মেয়র এবং ডেপুটি মেয়র শপথ নিয়ে নতুন মেয়র পারিষদ সদস্যদের শপথ নেওয়াবেন। জানা গেছে, এবারে এই কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য চারটি কাউন্টারে চারটি ব্যালটবক্স রাখা হয়েছে।

যেখানে 1 নম্বর কাউন্টার 1 থেকে 35 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা, 2 নম্বর কাউন্টারে 36 থেকে 70 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা, 3 নম্বর কাউন্টারে 71 থেকে 105 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা এবং 4 নম্বর কাউন্টারে 106 থেকে 144 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা গোপন ব্যালটে তাদের ভোট দেবেন। আর এই প্রতিটি ব্যালট বক্সের সামনেই শাসক দল তৃণমূল এবং বিরোধী দল বিজেপির একজন করে এজেন্ট উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে পুরসভার মেয়র পদের নির্বাচনে যাতে দলের কাউন্সিলরদের আরও ঠিক মতো করে সেই দিকটিতে অবহিত করা হয় সেই কারণে গতকালই পুরো ভবনে তৃণমূল পুর পরিষদীয় দলের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে কলকাতা পৌরসভার তৃণমূলের 122 জন কাউন্সিলরের মধ্যে 113 জন কাউন্সিলরই উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, অনুপস্থিত কাউন্সিলরদের মধ্যে 3 জন শহরের বাইরে থাকায়, 3 জন অসুস্থ থাকায় এবং 2 জন ব্যক্তিগত কাজের জন্য এই বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি।

অন্যদিকে এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা বলা হলেও বৈঠকে দেখাই যায়নি এই কলকাতা পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। কেন উপস্থিত হলেন না শোভনবাবু? এদিন এই প্রসঙ্গে কলকাতা পৌরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় বলেন, “প্রত্যেক কাউন্সিলরকে যে ভাবে জানানো হয়েছিল ঠিক সেইভাবে শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও আসতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি নিজের না আসার ব্যাপারে কিছু জানাননি।”

এদিকে এদিন দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে দলের পার্থী এক নম্বরে থাকা ফিরহাদ হাকিমকে যাতে সকলে ভোট দেয় সেই ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা পৌরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়। সূত্রের খবর, ব্যালট পেপারে এক নম্বরে রয়েছে তৃণমূলের মেয়র পদপ্রার্থী ফিরহাদ হাকিম এবং দুই নম্বরে রয়েছে বিজেপির মেয়র পদপ্রার্থী মিনাদেবী পুরোহিতের নাম। জানা গেছে, কাউন্সিলররা ভোট দেওয়ার সময় পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে টিক দিয়ে ভোট দেবেন। আর এদিন সেই ব্যাপারটিই দলের কাউন্সিলরদের বুঝিয়ে দেন মালা রায়।

একাংশের মতে, বারে বারে দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে দলীয় কাউন্সিলরদের অবহিত করার পেছনে ক্রস ভোটিংয়ের একটা আশঙ্কা রয়েছে শাসক দলের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলর এদিন বলেন, 1985 সালে এই কলকাতা পুরসভায় কমল বসুর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটে অনেক কংগ্রেস কাউন্সিলাররাই ক্রস ভোটিং করেছিলেন, যার জেরে সিপিএমের কমল বসু মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন। আর তখনই কংগ্রেসের দু তিনজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রবল অভিযোগ উঠেছিল।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তাই এবারে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের এই কলকাতা পৌরসভার মেয়র ভোট যুদ্ধে একটি বা দুটি ক্রস ভোট হলে তৃণমূলেরই মুখ পুড়বে-আর এই আশঙ্কা থেকেই দলের সমস্ত কাউন্সিলরদের নিয়ে আগেভাগেই বৈঠক করে দলের মেয়র পদপ্রার্থী ফিরহাদ হাকিমকেই যাতে সব ভোট দেওয়া হয় সেই ব্যাপারে সকলকে অবহিত করলেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। তবে শেষ পর্যন্ত কি হয় তা বোঝা যাবে আগামী 3 ডিসেম্বর কলকাতা পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনে ব্যালটবক্স খোলার পরই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!