এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > প্রাণনাশের হুমকিতে মৃতের বাবাকে দিয়ে মিথ্যা বলিয়াছেন অনুব্রত প্রমানে মরিয়া বিজেপি

প্রাণনাশের হুমকিতে মৃতের বাবাকে দিয়ে মিথ্যা বলিয়াছেন অনুব্রত প্রমানে মরিয়া বিজেপি

রাজ্যের সর্বত্র পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নপত্র পেশের অতিরিক্ত দিনকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্ন মূলক সন্ত্রাসের ঘটনার সাক্ষী রইলো রাজ্যবাসী। এদিন সিউড়ির কড়িধ্যার ছড়িয়া বুথের শেখ দিলদারের প্রাণনাশ হলো পুলিশের নিস্ত্রিয় বাহিনীর সামনে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুত্র শোকে ভারাক্রান্ত তহিদ খান,প্রথমে ক্যামেরার সামনে দাবি করেন যে তাঁর পুত্রবধূ অর্থাৎ দিলদারবাবুর স্ত্রী বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিলেন।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

সাথে ছিলন তাঁর পুত্রও।তিনি আরো দাবি করেন যে ‘তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান প্রবীর ধর নিজে দাঁড়িয়ে থেকে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। ওর শাস্তি চাই।’ সেখানে পুত্রের মৃত্যুর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সিউড়ি সদরে তৃণমূলের জেলা পার্টি অফিসে জেলা সভাপতির পাশে বসে বিবৃতি দিলেন, “আমি তো বটেই, আমার পূর্ব পুরুষরাও তৃণমূল করতো! বিজেপি ঝাড়খণ্ড থেকে লোক এনে আমার ছেলেটাকে হত্যা করে গেল।” এই কথা শুনে তাহিদ খানকে সর্বান্তকরণে সমর্থন করে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মন্ডল বললেন, ”নিহত দিলদারের বাবা তহিদ খান আমারও আগে থেকে এই জেলার একজন সক্রিয় তৃণমূল কর্মী।” এদিকে এই ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই শেখ দিলদারের হত্যার ঘটনাকে অন্য চেহারা দিলো গেরুয়া শিবির। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে এই হত্যা কান্ডের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে পরিস্কার ভাবে দেখা যাচ্ছে অল্প কদিন আগে রাজ্য জুড়ে পালিত বিজেপি দলের মিছিলে সলের বাকি সব কর্মী সমর্থদের সাথে রীতিমতো উল্লাস করছেন দিলদার শেখ। এই প্রসঙ্গে বীরভূম জেলার বিজেপি সাধারণ সম্পাদক কালোসোনা মণ্ডল জানালেন, ”ওরা প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে দিলদারের বাবাকে পার্টি অফিসে এনে মিথ্যে কথা বলতে পারে। কিন্তু আমাদের এই ভিডিওতে তো স্পষ্ট, ও মনে প্রাণে বিজেপি করত। তা না হলে আমাদের রামনবমীর মিছিলে হাঁটল কেন?” এদিকে পুত্র দিলদারের হত্যার ঘটনায় পিতা তাহিদ খানের বিতর্কিত অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিজেপি আরো প্রশ্ন তুলেছে যে যেখানে প্রথমে তাহিরবাবু বললেন যে আমরা বিজেপির লোক আর তৃণমূল ছেলেকে খুন করেছে সেখানে হটাৎ করে শাসকদলের কার্যালয়ে জেলা সভাপতির পাশে বসে বললেন, ”আমার বাবা, আমি, আমার ছেলে-আমরা সকলেই বরাবর তৃণমূল করি! ছেলে মারা গেলে কারই বা মাথার ঠিক থাকে বলুন। তখন আমরা মাথার ঠিক ছিল না! বিজেপির নেতারা যা শিখিয়ে দিয়েছিল, তাই বলে ফেলেছিলাম!’ এটা কি স্বাভাবিক।পাশাপাশি বিজেপির দাবি ‘কেষ্ট-লীলা’র দৌলতেই ভোলবদলে ফেলতে বাধ্য হলেন তহিদ। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসছে সন্তানহারা পিতার বয়ান এতো দ্রুত বদল হওয়ার জন্যে কোন রঙের ভূমিকা রয়েছে।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ওই ভিডিওকে সামনে এনে শাসকের বিরুদ্ধে ওঠা তাদের অভিযোগকে আরো পাকা করলো গেরুয়া শিবির।আর এটা ভোটের মুখে শাসকের বিরুদ্ধে জনমানসে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!