এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দলের মধ্যেই তীব্র উত্থান দুই “প্রতিদ্বন্দ্বীর”? অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে তৃণমূলের “যুবরাজের”?

দলের মধ্যেই তীব্র উত্থান দুই “প্রতিদ্বন্দ্বীর”? অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে তৃণমূলের “যুবরাজের”?

অনুগামীরা তাকে বরাবরই তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলেই অভিহিত করে। তবে সমালোচকদের কাছে তিনি অবশ্য নেত্রীর ভাইপো বলেই দলের শীর্ষস্থানে রয়েছেন বলে শুনতে পাওয়া যায়। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন, তিনি সর্বভারতীয় যুব তৃনমূলের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের প্রায় প্রতিটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে থাকতেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনে পর্যদুস্ত হওয়ার পর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা কিছুটা হলেও হ্রাস করতে শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলে শুভেন্দু অধিকারী বনাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবাদ রয়েছে। প্রকাশ্যে তা কখনও না আসলেও এক নেতার অনুগামীরা অপর নেতার অনুগামীদের বিরুদ্ধে নাম না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যে সরবও হন।

আর বিগত বাম আমলে দাপটের সঙ্গে লড়াই করে দলকে দাঁড় করানো শুভেন্দু অধিকারীর সেইভাবে দলে জায়গা না পেলেও লোকসভা নির্বাচনের পর সেই শুভেন্দু অধিকারীর কাঁধেই একাধিক জেলার সংগঠনের ভাবমূর্তি ফেরাতে দায়িত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছুটা হলেও ক্ষমতা কমতে শুরু করল বলেই দাবি করে বিশেষজ্ঞরা। তাঁর জায়গায় দলের কর্মীরা শুভেন্দুকেই বেশি যোগ্য মনে করছেন। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট ও হচ্ছে। ফলে অস্বস্তি বাড়ছে যুবরাজের।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে রাজ্যের পাশাপাশি জাতীয় স্তরেও এবার সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলে বিকল্প হিসেবে উঠে আসতে শুরু করলেন মহুয়া মৈত্র। যেখানে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র প্রথম দিনেই সংসদে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে আলোড়ন তুলে দিয়েছেন।

ফলে সেদিক থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত 2014 সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর সংসদে প্রথম বলতে উঠলে কার্যত হোঁচট খান তিনি। “মহুয়া মিত্রকে কেন্দ্রে আর রাজ্যের জন্য শুভেন্দুকে চাই”এমন পোস্ট হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সাথেই অনেকে আবার মহুয়ার মধ্যেই তৃণমূল নেত্রীর ছায়া দেখছেন। যা নিয়েও ভাইরাল হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট। ফলে জাতীয় স্তরে মহুয়া এবং রাজ্যস্তরে শুভেন্দু ক্রমশ পরিমাণে এগিয়ে গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

তৃনমূল কর্মীদের অনেকেই বলছেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো হওয়ার সুবাদে এতদিন তেমনভাবে রাজনীতি না করেই দলের শীর্ষ পদে বসে গেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যার জেরে দলে পুরোনো কর্মীদের তেমনভাবে জায়গা ছিল না। কিন্তু এবার লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অপেক্ষা শুভেন্দু অধিকারীর কর্মীদের কাছে অনেকাংশে গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়া এবং জাতীয় স্তরে মহুয়া মৈত্রর বিজেপি বিরোধী হুঙ্কার তৃনমূলে নতুন যুগের সূচনা করেছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

অনেকে বলছেন, অবশেষে তৃণমূলে এবার সুদিন আসতে চলেছে। তবে শুভেন্দু অধিকারী এবং মহুয়া মৈত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসলেও তৃণমূল অবশ্য এটাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেত্রী। বাকি সবাই কর্মী। তাই এখানে কারও বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই।

তবে নেতৃত্ব যাই বলুক না কেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট চাপ বাড়াচ্ছে যুবরাজের। দলের মধ্যে যেভাবে শুভেন্দু অধিকারী এবং মহুয়া মৈত্রর উত্থান ঘটছে, তাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর কতদিন তার হাতে ব্যাটন রাখতে পারবে, তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!