এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > জল্পনা বাড়িয়ে মুকুল রায়কে বাদ দিয়ে রাজ্য-বিজেপির চার হেভিওয়েটের সঙ্গে বৈঠকে সঙ্ঘের প্রভাবশালী

জল্পনা বাড়িয়ে মুকুল রায়কে বাদ দিয়ে রাজ্য-বিজেপির চার হেভিওয়েটের সঙ্গে বৈঠকে সঙ্ঘের প্রভাবশালী

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ যে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের কাছে বিশেষ গুরুত্ত্ব পাচ্ছে – তা লোকসভা নির্বাচনের এতদিন আগেই মুকুল রায়কে নির্বাচনী কমিটির আহ্বায়ক করে দেওয়া থেকেই প্রমাণিত। কিন্তু, এবার সেই মুকুল রায়কে বাদ দিয়েই রাজ্য বিজেপির চার শীর্ষ নেতাকে নিয়ে এক গোপন বৈঠ করলেন রাজ্যের সংঘের অন্যতম শীর্ষ হেভিওয়েট নেতা। আর সেই বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে বিজেপির অন্দরমহলে।

সূত্রের খবর, বাংলায় সঙ্ঘের অন্যতম মুখ বলে পরিচিত ওই নেতা কিছুদিন আগেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এখন কিছুটা সুষ্ঠ হলেও – বাইরের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে বা সভায় যাচ্ছেন রীতিমত মেপে। আর তাই, তিনি তাঁর বাসভবনেই ডেকে পাঠিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির চার গুরুত্ত্বপূর্ন নেতা – রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা, অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু ও অন্যতম রাজ্য সহ-সভাপতি ডঃ সুভাষ সরকারকে। আশ্চর্যরকমভাবে সেই তালিকায় নাম নেই স্বয়ং মুকুল রায়ের।

বন্ধ দরজার পিছনে কি হয়েছে সেই বৈঠকে – তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। তবে, রাজ্য বিজেপিরই একটি সূত্রের দাবি – রাজ্যে বর্তমানে যেভাবে বিজেপির কাজ বা বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে তাতে রীতিমত অখুশি সঙ্ঘের ওই মুখ। সেই বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন – রাজ্য বিজেপি যে সমস্ত আন্দোলন-কর্মসূচি করছে বলে দাবি করছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা হচ্ছে খাতায়-কলমে। আর বাস্তবে হলেও, তার গুরুত্ত্ব সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে খুবই সামান্য। আর এই সামগ্রিক ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে দলীয় কর্মীদের।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

ওই সূত্রের আরও দাবি, এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে রাজ্য বিজেপিকে বার করে আনতে সঙ্ঘের তরফে তিনি জানিয়েছেন – এখন থেকে রাজ্য-বিজেপির যা অনুষ্ঠান বা কর্মসূচি হবে, তা রাজ্যস্তরেই হোক বা বুথস্তরে তা সঙ্ঘকে জানিয়েই করতে হবে। তিনি নিজের প্রতিনিধির মাধ্যমে দেখতে চান – সেই কর্মসূচি বাস্তবে কতটা ছাপ ফেলছে বা সাধারণ মানুষ তা কতটা গ্রহণ করছেন। এমনকি, সঙ্ঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও রাজ্যের গেরুয়া নেতাদের ও তাঁদের অনুগামীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামনেই লোকসভা নির্বাচন – আর তাই রাজ্য বিজেপি ও সঙ্ঘের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, মুকুলবাবুর এই বৈঠকে আমন্ত্রণ না পাওয়া না নিয়ে রাজ্যস্তরের এক নেতার রসিক মন্তব্য, ‘চাণক্যকে’ বাদ দিয়ে কি আর রাজনীতি হয়? মুকুলবাবুর সঙ্গে ওই সঙ্ঘ নেতার অত্যন্ত সুসম্পর্ক। এমনকি, মুকুলবাবুর পুত্র অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে নিজের অসুস্থ শরীর নিয়েও ওই নেতা দেখা করতে এসেছিলেন। এমনকি, মুকুলবাবুর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ও বৈঠক হয়। আর তারপরেই জল্পনার ঢঙে বলে দিলেন, দেখুন হয়ত, আসলে মুকুলবাবুরই মস্তিষ্কপ্রসূত এই বৈঠক!

ওই নেতা আরও জানান – কেননা, মুকুলবাবু বিজেপিতে এসে এইটুকু প্রমান করে দিয়েছেন – তৃণমূলকে হারানোই তার একমাত্র পাখির চোখ এবং তা করতে তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়েই চলতে চান। সুতরাং, তাঁকে কি আর হঠাৎ করে এমনি এমনিই ব্রাত্য করে রাখা হবে? আর সবথেকে বড় কথা, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্ব কিন্তু বাংলার প্রতিটা পদক্ষেপ খুব ভালোভাবে লক্ষ্যে রাখছে। সবমিলিয়ে – রাজ্য বিজেপির ও সঙ্ঘের এই গোপন বৈঠক ঘিরে তীব্র জল্পনা গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!