এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > ৪৯ জন প্রাক্তন জঙ্গির হোমগার্ডের চাকরির জন্য রাজ্যকে আবেদন তৃণমূল জেলা নেতৃত্বের

৪৯ জন প্রাক্তন জঙ্গির হোমগার্ডের চাকরির জন্য রাজ্যকে আবেদন তৃণমূল জেলা নেতৃত্বের

লোকসভা ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কুমারগ্রামের ৪৯ জন প্রাক্তন কেএলও জঙ্গি এবং জঙ্গি আন্দোলনের সহায়তা করা লিঙ্কম্যানের তালিকা রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলা নেতৃত্ব হোমগার্ডের চাকরির জন্য। উদ্দেশ্য একটাই,তাঁদের জীবনের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা। তাঁরা যাতে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে সেই সুযোগই করে দিতে উদ্যোগী তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগেও পঞ্চায়েত ভোটের মরশুমে কর্মসংস্থান এবং পুর্নবাসনের লক্ষ্যে এই জেলা থেকেই গত ২২ জুলাই হোমগার্ড পদে নিযুক্ত হন ২১ জন প্রাক্তন কেএলও জঙ্গি। এই ২১ জনের মধ্যে ৪ জন ফালাকাটার ৬ জন আলিপুরদুয়ারের এবং ৯ জন কুমারগ্রাম ব্লক থেকে চাকরি পেয়েছেন। তবে বাকি দুজনের মধ্যে একজন নদী বেডের লাইসেন্স থাকায় এবং অন্যজন স্বাস্থ্য দপ্তরের অ্যাম্বুলেন্স চালানোর জন্য এই চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি।

তবে হঠাৎ করে কেন প্রাক্তন কেএলও জঙ্গিদের নির্বাচনের আগে আগে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে এতো তৎপর রাজ্যসরকার? প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। রাজনৈতিক সূত্রের খবর বলছে, এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কুমারগ্রাম ব্লকে আশানুরূপ ফল করেনি তৃণমূল। পঞ্চায়েত সমিতির ৩২ টি আসনের মধ্যে ১৭ টি আসন পেয়ে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এবং ১৫ টি আসন পেয়ে বোর্ড গঠনের দৌড়ে পিছিয়ে ছিল রাজ্যের শাসকদল। তবে সুযোগ বুঝে বিজেপির একজন সদস্যকে দলে টেনে পঞ্চায়তে সমিতির বোর্ড দখল করে নেয় আখেরে তৃণমূলই। তবে এরপরই ক্ষেপে যায় বিজেপি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে গেরুয়াশিবির পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠনে অংশগ্রহন করতে আপত্তি জানায়। তবে পঞ্চায়েড সমিতির ফল খারাপ হলেও সব দিক দিয়ে বিচার করলো পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলে কুমারগ্রামে বিজেপির থেকে এগিয়ে আছে তৃণমূলই। প্রায় ১০ হাজার ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তাঁরা।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এই লিড বাড়াতেই এবার আরো ৪৯ জন প্রাক্তন কেএলও ও লিংকম্যানকে হোমগার্ডের চাকরি দিয়ে তাঁদেরকে তৃণমূলের তরফে আনতে চায় রাজ্যের শাসকদল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিজেপিকে আগামী লোকসভা ভোটে একেবারেই কোনঠাসা করার পরিকল্পনা রয়েছে তৃণমূলের। এরসঙ্গে কুমারগ্রামের তৃণমূলের বহু চর্চিত গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের গোড়ায় আঘাত করে রাজনীতির ময়দানে মাটি শক্ত করারও লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জোড়াফুল শিবিরের। এজন্যেই দলের জেলা সভাপতি মোহন  শর্মা ইতিমধ্যে দলের ব্লক নেতৃত্বকে লোকসভা ভোটের জন্য কুমারগ্রাম ব্লকে ২৫ হাজার ভোটার লিড দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

তবে একথা একেবারেই অস্বীকার করেছেন মোহনবাবু্। তাঁর দাবী, প্রাক্তন কেএলও জঙ্গি বা লিংকম্যানদের চাকরি দেওয়ার সঙ্গে লোকসভা ভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন,বাম আমলে যেটা উপেক্ষিত ছিল,সেটাই সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছে তৃণমূল। যাতে প্রাক্তন জঙ্গিরা আবার সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে সে সুযোগই করে দিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে,বিজেপি’র জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার বলেছেন,আসলে বিজেপির উত্থানে তৃণমূল আতঙ্কগ্রস্থ। তাই চাকরির লোভ দেখিয়ে তাঁরা ভোট কুড়াতে চাইছে। কিন্তু এতে লাভের লাভ হবে না কিছু্। মানুষ অতো বোকা নয়। এ রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসা আটকাতে পারবে না তৃণমূল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!