এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > খাদ্যমন্ত্রীর গড়ে গিয়ে তৃণমূলে সংখ্যালঘু ভোটে বড়সড় ভাঙন ধরালেন বিজেপি নেতা জয় ব্যানার্জি

খাদ্যমন্ত্রীর গড়ে গিয়ে তৃণমূলে সংখ্যালঘু ভোটে বড়সড় ভাঙন ধরালেন বিজেপি নেতা জয় ব্যানার্জি

গতকাল রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের গড় বলে পরিচিত উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে গিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু ভোটে বড়সড় ভাঙন ধরালেন এই মুহূর্তে রাজ্য-বিজেপির অন্যতম ‘পোস্টার-বয়’ তথা বিজেপির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ মেম্বার জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তৃণমূল কংগ্রেসই জয়-ম্যাজিকে ভাঙন ধরল বামফ্রন্টের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কেও। গতকাল তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআইএম ছেড়ে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন প্রায় ৩০০ জন সংখ্যালঘু-কর্মী।

গতকাল বিজেপির তফসিলি মোর্চার ডাকে স্বরূপনগরের তেঁতুলিয়াতে এক জনসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান বক্তা হিসাবে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির তফসিলি মোর্চার রাজ্য সভাপতি অরুন হালদার, বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সম্পাদিকা নাজিয়া ইলাহি খান, বসিরহাট জেলা সভাপতি গনেশ ঘোষ, বসিরহাট জেলা তফসিলি মোর্চার সভাপতি সমরেন্দ্রনাথ মন্ডল সহ অন্যান্য নেতৃত্ত্ব।

তবে, স্বাভাবিকভাবেই সমস্ত আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের বক্তৃতায় তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তীব্র আক্রমন করেন রাজ্যের শাসকদলকে। তিনি বলেন, যখন বামফ্রন্টের জামানায় মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল, ঠিক তখনই মমতা ব্যানার্জির আবির্ভাব হয়েছিল। সাদা শাড়ি, টালির চাল, হাওয়াই চটি – অতি সাধারণ এক মহিলা। তিনি স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন যে মানুষ যদি বামফ্রন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তাঁর দলকে ক্ষমতায় আনেন, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করেন তাহলে তিনি সোনার বাংলা বানিয়ে দেবেন। কিন্তু, আমরা সোনার বাংলার বদলে পেলাম সন্ত্রাসের-রাহাজানির বাংলা!

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

জয়বাবু আরো বলেন, মমতা ব্যানার্জি স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন রাজ্যে শিল্প হবে, ঘরে ঘরে চাকরি হবে – বদলে আমরা পেলাম সিন্ডিকেটের বাংলা! আপনারা বুকে হাত দিয়ে বলুন সিপিএমকে সরিয়ে এই বাংলায় কি আপনারা চেয়েছিলেন? ১১-এর পরিবর্তনের দলে আমিও ছিলাম, কিন্তু, মমতা ব্যানার্জির দেখানো স্বপ্নগুলো স্বপ্নই থেকে গেল! অন্যদিকে, তফসিলি, আদিবাসী, সংখ্যালঘুদের স্বপ্নগুলিকে সত্যি করে দেখাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। গরিবের মাথায় ছাদ থেকে সবার জন্য শৌচালয় – সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন এম এবং অদ্বিতীয়ম ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

জয় ব্যানার্জি তীব্র আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে এরপর বলেন, খবরের কাগজ থেকে টিভি চ্যানেল যেদিকেই তাকান বাংলায় শুধু মৃত্যু-মিছিল! দিদি, আপনার সঙ্গী-সাথীরা লাল-সাদা বোমা মেরে আর নীল-সাদা ব্রিজ ভেঙে অনেক মানুষ মেরেছে, আর মৃত্যু ঘটাবেন না দিদি। আজকে যখন কোনো মৃতের পরিবারে যাই, তাঁদের বুক ফাটা কান্না দেখে আমি আর থাকতে পারি না। ২০-২১ বছরের একটি মেয়ে, সদ্য বিয়ে হয়েছে – তার সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল, ২-৩ বছরের শিশু সবে বাবা ডাকতে শিখেছে- সে আর তার বাবাকে দেখতে পায় না! একজন মায়ের কাছে তাঁর ২৬-২৭ বছরের জোয়ান ছেলেকে হারানোর যন্ত্রনা আপনি বুঝবেন না দিদি! তাই দয়া করে পশ্চিমবঙ্গের হত্যালীলাটা আপনি বন্ধ করুন দিদি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!