এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > একে রামে রক্ষে নেই, তাতে সুগ্রীব দোসর! ২২ তারিখ থেকেই কি ডিএ নিয়ে ঘুম উড়বে সরকারের?

একে রামে রক্ষে নেই, তাতে সুগ্রীব দোসর! ২২ তারিখ থেকেই কি ডিএ নিয়ে ঘুম উড়বে সরকারের?

Priyo Bandhu Media

ডিএ মামলা নিয়ে আশা-আশঙ্কার দোলাচলে দোদুল্যমান রাজ্যের লক্ষ-লক্ষ সরকারি কর্মচারী। আর তাঁদের সেই লড়াই কি এবার ‘ফাইনাল ল্যাপে’ পৌঁছে গেল? জল্পনা বাড়ছে আগামী ২২ শে নভেম্বরকে ঘিরে। কেননা এতদিন ডিএ মামলা নিয়ে আদালতের লড়াই লড়ছিল সরকারি কর্মচারী সংগঠন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ীজ। আর এবার কর্মচারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আদালতের লড়াই আরও জোরদার করতে আসরে অবতীর্ন হচ্ছে আরেক সরকারি কর্মচারী সংগঠন সরকারি কর্ম পরিষদ।

আইনি প্রথা অনুযায়ী রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের কোন কিছু নিয়ে মামলা করতে তা প্রথমে করতে হয় স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যাল বা স্যাটে। সেখানে সুরাহা না পেলে তখন আদালতের পথে হাঁটতে পারেন কর্মচারীরা। স্বাভাবিকভাবেই, ডিএ নিয়ে স্যাটের দরবারেই প্রথম যায় কনফেডারেশন – সেখানে তাঁদের শুনতে হয়, ডিএ নাকি সরকারি কর্মচারীদের সাংবিধানিক অধিকারই নয়!

ফলে, কলকাতা হাইকোর্টের মুখাপেক্ষী হন কনফেডারেশনের নেতারা। আর ঠিক সেই সময়েই স্যাটে একই বিষয়ে সরকারি কর্মচারী পরিষদের মামলার লিস্টিং হয়। সেই মামলায় স্যাট সরকারি কর্মচারী পরিষদকে জানায়, যেহেতু এই নিয়ে মামলা কলকাতা হাইকোর্টে চলছে – তাই তখনই সেই মামলা নিয়ে স্যাটের বিচারপতিরা কিছু বলবেন না। কলকাতা হাইকোর্ট যা রায় দেবে, তার পরিপ্রেক্ষিতে স্যাটের বিচারপতিরা পরিষদের মামলা সম্পর্কে জানাবেন।

এরপর কোলাকাত হাইকোর্টে দীর্ঘ লড়াই করে কনফেডারেশনের নেতারা ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে আনেন। সেখানে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যেই পরে। তবে সেই ডিএর হার কি হবে বা তা বছরে কবর করে দেওয়া হবে সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে স্যাটকে নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

ফলে, স্যাটে কনফেডারেশনের আইনি যুদ্ধ নতুন করে শুরু হয় – যে যুদ্ধের শুনানি পর্ব প্রায় শেষ। এখন রাজ্য সরকারকে ও মামলাকারী কনফেডারেশনের আইনজীবীকে স্যাটের বিচারপতি ডিএ বৃদ্ধি সংক্রান্ত (১৪৮%) নথি আগামী ২২ শে নভেম্বর জমা দিতে বলেছে। অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্টের রায় বেরোতেই অপর মামলাকারী সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীল পুনরায় স্যাটের দ্বারস্ত হন।

তিনি স্যাটের কাছে জানান, আমার করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের রায় বেরোলে, আমাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই আমাদের মামলার শুনানি শুরু হোক – পুজোর অনেক আগেই করা সেই আবেদনে স্যাটের বিচারপতিরা সাড়া দিয়ে জানিয়ে দেন সেই মামলার শুনানি হবে আগামী ২২ শে নভেম্বর।

অর্থাৎ, অদ্ভুত সমাপতন ঘটিয়ে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় যে দুই কর্মচারী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে লড়ে আসছিল – তাদের আইনি প্রক্রিয়া একইদিনে হতে চলেছে। আর তার ফলে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে রীতিমত আওয়াজ উঠে গিয়েছে – একে রামে রক্ষে নেই, তাতে সুগ্রীব দোসর!

আর এই দুই জোড়া সংগঠনের জোড়া আইনি প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের উপর চাপ যে আরো বাড়বে – তা একপ্রকার স্বীকারই করে নিচ্ছেন রাজ্য-রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে মামলার দিন উপস্থিত থাকা বিভিন্ন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বক্তব্য, আমাদের দরকার ডিএ, সেটা কার হাত ধরে এল সেটার থেকেও বড় ব্যাপার রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীদের হাতে তাঁদের প্রাপ্য তুলে দিয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফোটানো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই মামলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত এক সরকারি কর্মীর কথায়, এতদিন এই মামলায় মলয়দা (কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়) বা আমজাদ সাহেব (কনফেডারেশনের আইনজীবী সর্দার আমজাদ আলি) যেভাবে সরকারকে বারে বারে বিপাকে ফেলেছেন তার কোন তুলনা হয় না। কিন্তু, দেবাশিসদাও (সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীল) অত্যন্ত অভিজ্ঞ নেতা, উনি এর আগে বিভিন্ন আইনি ও রাস্তার লড়াইয়ে সরকারের উপর রীতিমত চাপ সৃষ্টি করেছেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

ওই সরকারি কর্মচারীর আরো বক্তব্য, আর উনি এটা করে যাচ্ছেন সেই বাম আমল থেকেই। সুতরাং, এই রকম একজন অভিজ্ঞ মানুষ এবার ডিএ নিয়ে সরাসরি স্যাটে আসছেন, এতে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। মলয়দা এবং দেবাশিসদার মত দুজন অভিজ্ঞ নেতা দুদিক থেকে আইনি পথে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করবেন – এতে এই মামলার ওজন বাড়তে বাধ্য। গতি-প্রকৃতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে না স্যাটের বিচারপতিরা দুই মামলার রায় একত্রে দিয়ে দেয়।

আমরা এই প্রসঙ্গে দেবাশিস শীলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এতদিন কনফেডারেশন যে আইনি লড়াই করেছে তার কোন তুলনা হয় না। আমরা চেয়েও সেই আইনি লড়াইটা করতে পারি নি। কেননা, আইনি পথেই তা আটকে রাখা হয়েছিল – তবে এই আইনি লড়াইয়ের ময়দানে আমরা বরাবরই ছিলাম। আমাদের আইনি লড়াই থমকে রাখার যে প্রয়াস, তা ভোঁতা করে দিতে আমরা কিন্তু সেই সময়ে রাস্তার লড়াই ছাড়ি নি।

দেবাশিসবাবু আরও বলেন, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের অপমানকর বক্তব্যের বিরোধিতা করে ‘ঘেউ ঘেউ’ আন্দোলন হোক বা পে-কমিশন ও বকেয়া ডিএর দাবিতে ‘থালা হাতে’ রাজপথে মিছিল করা হোক – একের পর এক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সব থেকে বড় কথা অন্যান্য সাথী সরকারি কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়াও পেয়েছি তাতে। এবার, ডিএ নিয়ে আমাদের বক্তব্য স্যাটের সামনে পেশ করার সুযোগ পেয়েছি। সুতরাং, কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা তাঁদের হাতে তুলে দিতে এই আইনি লড়াইকে আরও জোরদার আমরা করবোই।

প্রসঙ্গত আজও স্যাটে কনফেডারেশনের মামলার নথি জমা দেওয়ার কথা ছিল। আর তারপরেই কনফেডারেশনের অন্যতম শীর্ষনেতা ও এই মামলার অন্যতম উদ্যোক্তা সুবীর সাহা অত্যন্ত প্রত্যয়ের সঙ্গে তিনি রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে জানান, সবাইকে জানিয়ে রাখি দিনের পর দিন আমাদের উৎসাহ এবং লড়াই করার জিদ বাড়ছে। যাঁরা ভয় পেয়েছেন, তাঁরা বিভিন্ন ছলের আশ্রয় নিচ্ছেন – ভুল তাঁরা করবেনই। যাঁরা পরিকল্পনা করে সময় নষ্ট করছেন – একদিন আমাদের সুসময় তাঁদের নষ্ট করবে। এই বিশ্বাস ইতিহাস সত্য – শুধু, আপনাদের কাছে আমাদের আবেদন – মানবিক দিক দিয়ে এবং আর্থিক ভাবে আমাদের সঙ্গে একটু সহযোগিতা করুন তাহলে কোনো অশুভ শক্তিই আপনার, আমার এবং আমাদের জয়কে বেশি দিন আটকে রাখতে পারবে না।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!