এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > দায়িত্ব পেয়েই 2021-এ বিজেপিকে আটকানোর কাজ শুরু করে দিলেন রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী

দায়িত্ব পেয়েই 2021-এ বিজেপিকে আটকানোর কাজ শুরু করে দিলেন রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী

এবারের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পক্ষে খুব একটা ভালো ছিল না। গত 2014 সালে তারা 34 টা আসন দখল করার পর এবারে 42 টির মধ্যে 42 টি আসন দখল করার স্লোগান দিলেও বাস্তবে 22 টি আসন দখল করেই শান্ত থাকতে হয়েছে ঘাসফুল শিবিরকে। অন্যদিকে দুটি থেকে বাড়িয়ে বিজেপি তাদের আসন সংখ্যা 18 করে নিয়েছে। আর রাজ্যে বিজেপির এই প্রবল উত্থানের মধ্যেও তৃণমূল যে কটা আসন দখল করেছে, তার ফল পর্যালোচনা করতে গেলে রীতিমত নাভিশ্বাস উঠছে শাসকদলের হেভিওয়েট নেতাদের।

কেননা ঘাসফুল শিবির এবার রাজ্যে যে 22 টি লোকসভার আসন দখল করেছে, তার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যাবে এই লোকসভার অন্তর্গত বিভিন্ন বিধানসভাতে তারা হেরে বসে আছে। কিন্তু সামনেই 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচন। যেখানে বিজেপি এই বাংলায় সরকার গড়ার জন্য ইতিমধ্যেই জোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।তবে ক্ষমতা যাতে নিজেদের হাতেই থাকে তার জন্য লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী ফলাফল পর্যালোচনায় বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক রদবদল করেছেন তৃনমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

যার মধ্যে অন্যতম নদিয়া জেলা। প্রবল গেরুয়া ঝড়ে নদীয়ার রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্র জয়লাভ করলেও এই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটা বিধানসভার মধ্যে তিনটিতেই হারতে হয়েছে শাসক দলকে।পাশাপাশি রানাঘাট লোকসভার সাতটি বিধানসভার মধ্যে একমাত্র নবদ্বীপে লিড দিতে পেরেছে তৃণমূল। বাকিগুলোতে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি।

এছাড়াও নদীয়ার 17 টি বিধানসভার মধ্যে তৃণমূল মোটে ছটি বিধানসভায় লিড দিয়েছে। কিন্তু সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আর এই পরিস্থিতি যদি বজায় থাকে তাহলে অনেক আসনই হাতছাড়া হয়ে যাবে শাসকদলের, আর তা তা উপলব্ধি করতে পেরেই সম্প্রতি নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনা বৈঠকে নদীয়া জেলার সংগঠনকে দুই ভাগ করে নদীয়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে গৌরীশঙ্কর দত্তকে সরিয়ে কৃষ্ণনগরে মহুয়া মৈত্র এবং রানাঘাটে শংকর সিংহকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেছেন তৃনমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

আর বয়সে অনেক নবীন মহুয়া দেবীকে সভাপতি হিসেবে মানতে কিছুটা হলেও অস্বস্তি হচ্ছে জেলা তৃণমূলের অনেক প্রবীণ নেতাদের। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সেইভাবে কোনো প্রবীণ নেতাকে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি। যা দেখে সেই সম্ভাবনা আরও প্রকট হয়েছে। কিন্তু এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে কি বিধানসভায় শক্ত পাকাপোক্ত সংগঠন তৈরি করে জেলার সব বিধানসভা কেন্দ্র দখল করতে পারবে তৃনমূল?

সূত্রের খবর, ভোটে ভরাডুবি পর নদীয়া জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর দায়িত্ব পেয়েই নদীয়া জেলায় সংগঠনকে ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন রাজীববাবু। আগামী মঙ্গলবার কলকাতায় নদীয়া জেলার সমস্ত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করে জেলার সংগঠনকে চাঙ্গা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

এদিন এই প্রসঙ্গে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দলে কোনো গ্রুপবাজি বরদাস্ত করা হবে না। সকলকে একসঙ্গে দলের হয়ে কাজ করতে হবে। বুথস্তর থেকে দলের সংগঠনকে চাঙ্গা করা হবে। 2021 এর আগে আমাদের সংগঠনকে আরও মজবুত করতে হবে, যাতে বিজেপি কোথাও দাঁত ফোটাতে না পারে।”

কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ অবশ্য বলছেন, মুখে যতটা সহজভাবে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সংগঠনকে ঘুরে দাঁড় করানোর কথা বললেন, কাজে যে তা অনেকটাই কঠিন তা ভালই বুঝতে পেরেছেন তিনি। আর তাই তো জেলায় প্রবেশ করার আগে কলকাতায় জেলার সমস্ত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করে সবার দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলতে চাইছেন রাজীববাবু। তবে শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা তার কাজ কতটা ভালোভাবে করতে পারেন এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

Top
error: Content is protected !!