এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > বিজেপি বিরোধী মহাজোটে কি ক্রমশ সুর কাটছে? জানুয়ারির মাঝামাঝি বড়সড় পদক্ষেপ একাধিক শীর্ষনেতার

বিজেপি বিরোধী মহাজোটে কি ক্রমশ সুর কাটছে? জানুয়ারির মাঝামাঝি বড়সড় পদক্ষেপ একাধিক শীর্ষনেতার

2019 এ কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে সরাতে কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধী মহাজোট। কিন্তু লোকসভা ভোট আসতে না আসতেই সেই মহাজোটের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা শঙ্কা।

কেননা দেশের মধ্যে কংগ্রেস সব থেকে বড় বিরোধী দল হলেও অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলো যদি কংগ্রেসের হাত ধরে বিজেপিকে কেন্দ্র থেকে সরায়, তাহলে তাঁরা ঠিক কতটা সম্মানজনক আসনে লড়বে তা নিয়ে এখন থেকেই মহাজোটের ভেতরও শুরু হয়েছে প্রবল যুদ্ধ। আর সেই বিজেপি বিরোধী মহাজোটের মধ্যে থাকা কর্নাটকের জেডিএস ইতিমধ্যেই তাঁদের বেসুরো সুর বাজাতে শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই কর্নাটকে কংগ্রেসের সাথে জোট গড়ে সরকার গঠন করে এইচ ডি দেবেগৌড়ার জেডিএস। কিন্তু এবারে লোকসভা ভোটের দামামা বাজতে না বাজতেই সেই কর্ণাটকেও বিরোধীদের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে তৈরি হচ্ছে জটিলতা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কর্নাটক সরকারের বড় শরিক হিসেবে কংগ্রেসের কাছে দুই-তৃতীয়াংশ এবং জেডিএসের কাছে এক তৃতীয়াংশ আসন থাকার কথা। সেই হিসেব অনুযায়ী কর্নাটকের 28 টি লোকসভা আসন এর মধ্যে 10 টি আসনে লড়ার কথা জেডিএসের। আর বাকি আসনগুলোতে লড়বে কংগ্রেস।

 

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

কিন্তু এই 10 টি আসনে লড়তে রাজি নন এইচডি দেবেগৌড়ার দল। সম্প্রতি দেবেগৌড়ার একটি মন্তব্যেই সেই জল্পনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেছেন, “জেডিএস লোকসভা ভোটে কর্নাটকে 12 টি আসনের লড়তে চায়। আর যদি এই দাবী পূরণ না হয় তাহলে কংগ্রেসের সাথে তাঁদের বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই হবে।” তবে শুধু বাড়তি আসনই নয়, কর্ণাটকের চিক্কাবালুপুরা লোকসভা কেন্দ্রের আসনটি এবার চায় জেডিএস। কিন্তু এই আসনটি কংগ্রেসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সেফসিট হিসেবেই পরিচিত। যেখানে গতবার দাঁড়িয়ে জিতেছিলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা এম বীরাপ্পা মইলি। ফলে এই আসনটি কংগ্রেস আদৌ জেডিএসকে দেবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

অন্যদিকে কংগ্রেসের আরেকটি সেফসিট হিসেবে পরিচিত টুমকুরের আসনটিতেও লড়ার জন্য দাবি জানাচ্ছে জেডিএস। ফলে কর্নাটকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যদি জেডিএসের দাবি অনুযায়ী এই আসনগুলো তাদের না দেওয়া হয় তাহলে জাতীয় স্তরে বিরোধী মহাজোট অনেকটাই ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। আর পর্যবেক্ষকদের এই আশঙ্কাকে মাথায় নিয়ে এবার সকলের মান ভাঙাতে চন্দ্রবাবু নাইডু, শরদ পাওয়ার এবং ফারুক আব্দুল্লাহর দ্বারস্থ হচ্ছে কংগ্রেস।

সূত্রের খবর, লোকসভা ভোটে জাতীয় স্তরে বিরোধী মহাজোট গঠনের জন্য সমস্ত বাধা কাটাতে এই তিন দলের নেতাদের ওপরই ভরসা রাখতে চলেছেন কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী। আর তাই তো আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এই চন্দ্রবাবু নাইডু, শরদ পাওয়ার এবং ফারুক আব্দুল্লাহকে দিয়ে সমস্ত বিরোধ মহাজোটের নেতা-নেত্রীদের নিয়ে একটি বৈঠকে বসাতে চাইছে কংগ্রেস। যেখানে জেডিএসের মত অন্যান্য বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে আসন বন্টনের ব্যাপারে ঠিক কতটা মানানো যায় তারই চেষ্টা করা হবে। কিন্তু এই বৈঠকে আদৌ কি বরফ গলবে?

এদিন এই প্রসঙ্গে চন্দ্রবাবু নাইডুর দল টিডিপির মুখপাত্র কে আর রাও বলেন, “নিজেদের শক্তি বিবেচনা করে আসন দাবি করার সম্পূর্ণ অধিকার আঞ্চলিক দলগুলোর রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমেই সেসবের মীমাংসা হবে।” সব মিলিয়ে আগামী জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিরোধী মহাজোটকে আরও শক্তিশালী করতে বিরোধী দলগুলোর বৈঠক ঠিক কতটা কার্যকরী হয় এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!