এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > শুরু হয়ে গেল মোদির ২০১৯-এর সেমিফাইনাল, ১১ ই ডিসেম্বরেই কি দেশের ‘পালস’ প্রকাশ্যে?

শুরু হয়ে গেল মোদির ২০১৯-এর সেমিফাইনাল, ১১ ই ডিসেম্বরেই কি দেশের ‘পালস’ প্রকাশ্যে?

বছর ঘুরলেই ‘মহারণ’। ২০১৯ এ হতে চলেছে লোকসভা নির্বাচন। তার আগে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট নরেন্দ্র মোদির কাছে অনেকটা ফাইনাল ম্যাচের আগে সেমিফাইনাল এর মত। আই ই সেমিফাইনালেই বিজেপি ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারণ হয়ে যাবে।পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল থেকে অনেকটাই অনুমান করা যাবে ২০১৯- এ দিল্লি মাসনল বিজেপি পাবে কি পাবে না।

আর আজ সোমবার থেকেই সেই সেমিফাইনাল শুরু হচ্ছে। ছত্তিশগড়ে প্রথম দফার ভোট দিয়ে। লোকসভা নির্বাচনের আগে বিধানসভা ভোট হবে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, মিজোরাম এবং তেলেঙ্গানায়। যার মধ্যে ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, এবং রাজস্থানে বিজেপির লড়াই টা একটু কঠিনই।

কারণ এই জায়গা গুলোই বিজেপি-‌র সরকার বাঁচানোর লড়াই। আর এমন এক সময়ে সেই লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে গেরুয়া শিবির কে, যখন তাঁর গলার কাঁটা হয়ে আছে একদিকে মাওবাদী উপদ্রব, রামমন্দির নির্মাণ, অন্যদিকে আরবিআই-কেন্দ্র দ্বন্দ্ব এবং সিবিআইয়ের শীর্ষকর্তাদের মধ্যে সংঘাত।

মাওবাদী-উপদ্রুত ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় বিজেপি। আবার বিহারেও রাজ করছে বিজেপিরই জোট সরকার। এদিকে এই পরিস্থিতিতে তাদেরকে দমন করার সমস্ত দাবিকে নস্যাৎ করে সরকারকে একপ্রকার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মাওবাদীরা। ছত্তিশগড়ে ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগেও তারা স্বমহিমায় বিরাজিত। রবিবার তাদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এক বিএসএফ জওয়ান। যা থেকে মোদি সরকারের দাবি এবং বাস্তবের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চাপে পড়ে কংগ্রেস-মাওবাদীদের বোঝাপড়ার তত্ত্ব দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।

পাশাপাশি, ভোটের আগেই ফের মাথা তুলেছে রামমন্দির ইস্যু। কংগ্রেস বলছে, এটাই মোদি সরকারের ‘দ্বিচারিতা’। ভোটের ছ’‌মাস আগে ওরা রামমন্দির নির্মাণের কথা জনগণের ধর্মীয় আবেগকে খুঁচিয়ে তোলে। আর নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে রামকে ফের বনবাসে পাঠায়। রামমন্দিরের দাবিতে গলা চড়াচ্ছে আরএসএসও। আবার এই একই ইস্যুতে চাপ আসছে বিজেপির অন্দর থেকেও। আদালতের রায়ের অপেক্ষা না থেকে অর্ডিন্যান্স জারি করে মন্দির নির্মাণের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে।

ঠিক যেমন ঘুষ-কাণ্ডে দুই সিবিআই কর্তার তরজা ঘিরে বিড়ম্বনায় পড়েছেন মোদি। বিতন্ডা মেটাতে তাঁকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। সংস্থার ডিরেক্টর অলোক বর্মার বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা (যিনি ঘটনাচক্রে মোদি-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত)।

কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে, আর বর্মা নাকি রাফাল চুক্তি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছিলেন। ঘুষের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের তদন্তের রিপোর্ট আজ, সোমবার জমা পড়ার কথা সুপ্রিম কোর্টে। সূত্রের খবর, প্রাক্তন বিচারপতি এ কে পটনায়েকের তদারকিতে ওই তদন্তে বর্মার বিরুদ্ধে তেমন কোনও ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’‌ মেলেনি। সূত্রের খবর তেমন হলে বর্মাকে পুনর্বহাল করতে হবে। আর ভোটের আগে সেটিও মোদির পক্ষে চরম ‘উদ্বেগজনক’।

সিবিআইয়ের পর এদিকে গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়েছে আরবিআইয়ের সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব। ঝামেলা মূলত আরবিআইয়ের মূলধনের ভাণ্ডার নিয়ে। সূ্ত্রের খবর, ভোটের খরচ সামাল দিতে ও রাজকোষের ঘাটতি মেটাতে আরবিআইয়ের কাছ থেকে ৩.‌৬ লক্ষ কোটি টাকা চেয়েছে মোদি সরকার। যদিও সেই খবর সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে কেন্দ্র।

সাফাই দিতে গিয়ে কেন্দ্রের আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত সচিব সুভাষ চন্দ্র গর্গ বলেছেন, “কেন্দ্র টাকা চায়নি। বরং আরবিআইয়ে মজুত টাকার একটা কাঠামোগত রূপরেখা তৈরি করতে চায় কেন্দ্র।” যে প্রেক্ষিতে রবিবার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী, কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম খোঁচা মেরেছেন, “মেয়াদের শেষবেলায় এই ব্যস্ততা কেন?‌ কথার প্যাঁচ কষে টাকায় হাত বসানোই আসল লক্ষ্য।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

নোট বাতিলের পর থেকেই আরবিআইয়ের সঙ্গে চাপা দ্বন্দ্ব চলে আসছে । আর সেই দ্বন্দ্ব নিয়েও যথেষ্ট ‘অস্বস্তিতে’ মোদি। এবার ‘‌সেমিফাইনালে’‌ হিন্দি বলয়ে ধাক্কা খেলে ‘ফাইনাল’ তো আরও কঠিন! মূলত সেই কারণেই এক প্রকার প্রাণপণ লড়াই শুরু করেছে মোদি ও বিজেপি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!