এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > বিক্ষোভের জেরে কাটমানির টাকা ফেরত দিলেন দুই তৃণমূল নেতা, জোর শোরগোল রাজ্যে

বিক্ষোভের জেরে কাটমানির টাকা ফেরত দিলেন দুই তৃণমূল নেতা, জোর শোরগোল রাজ্যে

লোকসভা নির্বাচনে এবার তৃণমূলের ফল খুব একটা ভাল হয়নি। আর এর পরেই ফলাফল পর্যালোচনা বৈঠকে হারের কারণ খুঁজতে গিয়ে দুর্নীতিকেই প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করতে দেখা গেছে তৃণমূল নেতাদের। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে সামনে আনতে গত 18 জুন কলকাতার নজরুল মঞ্চে কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে এই ব্যাপারে কড়া বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, যে বা যারা কাটমানি নিয়েছেন তাদেরই সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। আর তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি পরেই দিকে দিকে তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা, বিধায়কদের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। যার জেরে প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে ঘাসফুল শিবির। দলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, তৃণমূলের 99.99 শতাংশ কর্মীই সৎ।

কিন্তু দলের সেই দাবিকে কার্যত মিথ্যা প্রমাণ করে দুর্নীতির দায়ে প্রবল বিক্ষোভে পড়া তৃণমূলের নেতারা এবার মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দিতে শুরু করলেন। প্রসঙ্গত, মঙ্গলকোটের কৈচর 2 গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাজারগ্রামে 4 জন তৃনমূল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। আর এরপরই গ্রামে সালিশি সভা বসিয়ে সেই টাকা আদায়ের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা সরব হয়েছিলেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

আর এই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সেই তৃণমূল নেতারা রাজি হলেও কিছুটা সময় চেয়েছিলেন তাঁরা। এরপর গত শুক্রবার সকালে এই গ্রামে ফের একটি সালিশি সভা বসলে সাধারণ মানুষের চাপে সকলের সামনে প্রায় 28 জন গ্রামবাসীকে 1 লক্ষ 50 হাজার টাকা ফিরিয়ে দেন দুই তৃণমূল নেতা রাজীব রায় এবং অসীম মিত্র।

তবে এই টাকা তাঁরা কাটমানি হিসেবে নেননি, বরঞ্চ দল চালানোর জন্যই নিয়েছিলেন বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে দেখা যায় এই দুই তৃণমূল নেতাকে। এদিকে মঙ্গলকোটের পাশাপাশি কোচবিহারের মেখলিগঞ্জেও সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধেও সরকারি আবাসন প্রকল্পে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গত সপ্তাহেই বিজেপির বিক্ষোভের মুখে পড়ে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিষ্ণু অধিকারী।

আর এবার গতকাল শুক্রবার সেই মেখলিগঞ্জ পৌরসভার সামনে দুটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রায় 84 হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কি কারণে তিনি ওই টাকা নিয়েছিলেন! এদিন এই প্রশ্নের উত্তরে সেই বিষ্নু অধিকারী বলেন, “কাটমানি নয়, বাড়ির প্ল্যান অনুমোদনের জন্য পারিশ্রমিক বাবদ আবেদনকারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল।” সব মিলিয়ে দিকে দিকে কাটমানি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল। কিন্তু, তাতেও কিন্তু শাসকদলের অস্বস্তি কমছে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Top
error: Content is protected !!